April 20, 2019

ক্যান্সার নির্ণয়ে চাঁদপুরের আবু সিনার আবিষ্কার

ক্রাইম প্রতিদিন : ক্যান্সার মানে যার নেই অ্যান্সার। আমাদের সমাজে ক্যান্সার সম্পর্কে এমন ভীতিমূলক ধারণাই প্রচলিত আছে। ক্যান্সার নির্ণয়ের সহজ উপায় না থাকায় ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী প্রায়শই ভুল চিকিৎসার শিকার হন এবং সে কারণে অনেকে যথার্থ চিকিৎসা না পেয়েই মৃত্যুবরণ করেন। আবার ভুল চিকিৎসা শেষে কারো কারো ক্যান্সার এমন এক সময়ে নির্ণীত হয়, যখন আর অল্প খরচে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ থাকে না। এমতাবস্থায় সামর্থ্যবানরা ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিয়ে আরোগ্য লাভের চেষ্টা করেন কিংবা দীর্ঘদিন অপরিসীম কষ্টভোগের পর মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন। এমন কঠিন বাস্তবতায় যদি জানা যায়, মানবদেহে ক্যান্সারের উপস্থিতি নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে এবং সেটির আবিষ্কারক হচ্ছেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান, তাহলে খুশিতে আটখানা হওয়া ছাড়া তো বিকল্প নেই।

পাঠকরা প্রতিদিন পত্রিকায় ভালো খবরের চেয়ে খারাপ খবরই বেশি পড়ে থাকেন। আর রেডিওতে শুনেন খারাপ খবর, আর টেলিভিশনে দেখেন তেমনটিই। বিশ্বের সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইলের পত্রিকা, রেডিও, টেলিভিশনসহ অন্যান্য গণ্যমাধ্যমে খারাপ খবরের কোনো ভালো কাভারেজ নেই, আছে ভালো খবরের ভালো কাভারেজ। একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো এমন সংস্কৃতি ধরে রেখে পাঠক সৃষ্টিতে সক্ষম হলেও আমাদের দেশসহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশে এমন সংস্কৃতি ধরে রাখার কোনো প্রবণতাই নেই, কেননা এতে বিপুল পাঠক সৃষ্টি হয় না এবং পাঠক ধরে রাখা যায় না। তবুও মাঝে মধ্যে, বলা যায় কালেভদ্রে ভালো খবর পড়ার জন্যে এমন সব পত্রিকায় ভালো খবরকে শীর্ষ খবরের মর্যাদা দিয়ে পাঠককে উদ্বুদ্ধ করা হয়। আর এমন একটি খবরই হচ্ছে ‘মানবদেহে ক্যান্সারের উপস্থিতি নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান ড. আবু সিনা’।

আবু সিনার পুরো নাম হচ্ছে আবু আলী ইবনে সিনা। চাঁদপুর সদর উপজেলায় চাঁদপুর পৌরসভাধীন ১৪নং ওয়ার্ডস্থ বাবুরহাট অঞ্চলে দাসদী গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা চাঁদপুরের প্রবীণ শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ বাবুরহাট হাইস্কুল এন্ড কলেজের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ মাস্টার। জনাব শহীদুল্লাহ নিজ এলাকায় ‘বড় শহীদ স্যার’ নামে পরিচিত। তিনি তাঁর একমাত্র পুত্রের নাম কোন্ উদ্দেশ্যে বিশ্বের অন্যতম সেরা চিকিৎসক, গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও দার্শনিক আবু আলী হোসাইন ইবনে সিনার অনুকরণে রেখেছেন তা জানা না গেলেও আবু সিনার ক্যান্সার নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি আবিষ্কারের সাম্প্রতিক সাফল্যে তাঁর পিতা কর্তৃক তাঁর নাম রাখার সার্থকতা প্রতিপন্ন হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আগামী

দিনগুলোতে এ আবিষ্কার যে চিকিৎসাঙ্গনে কতো বড় অবদান রাখবে তা বলে শেষ করা যাবে না। আমরা ড. আবু সিনার এই আবিষ্কারের জন্যে অনেক আনন্দিত, গর্বিত ও উজ্জীবিত। আমরা এজন্যে তাঁকে শুধু ধন্যবাদ ও অভিনন্দন নয়, অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি দীর্ঘজীবী হোন এবং তাঁর কর্মযজ্ঞে চিকিৎসাঙ্গনসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে একের পর এক অবদান রেখে চলুন-নিরন্তর এ প্রত্যাশা করছি।

আরও পড়ুন ......