Home / রাজনীতি / খালেদার জামিন স্থগিত, গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক

খালেদার জামিন স্থগিত, গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ মঙ্গলবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। এছাড়া একই দাবিতে আগামী ২৯ মার্চ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির উদ্যোগে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ মঙ্গলবার সারাদেশে জেলা ও মহানগর সদরে এবং ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে। মির্জা ফখরুল বলেন, সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ কর্তৃক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আদেশ দুই মাস স্থগিত করা হয়েছে। এই দুই মাস স্থগিতকরণে সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটেছে। সর্বোচ্চ আদালত মানুষের ন্যায় বিচার পাওয়ার শেষ ভরসাস্থল। দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের বিষয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিত হবে। কিন্তু সরকারের মাস্টারপ্ল্যানের বাইরে দেশে সাংবিধানিক কোন প্রতিষ্ঠানই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। যদি কেউ ন্যায়সঙ্গত উদ্যোগ নেন তাহলে তার পরিণতি হবে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার মতো।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ঘিরে মনে হয় সরকার এক ভয়াল চক্রান্তজাল বুনছে। জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত কারাগারে তাঁকে দীর্ঘদিন বন্দি করে রাখার অশুভ নীলনকশার আলামত দেখা যাচ্ছে সরকারের অভিপ্রায় তাঁর জামিন নিয়ে গড়িমসি করার মাধ্যমে। বেগম খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়ায় মুক্ত করতে সরকার বাধা দিচ্ছে। বহুত্ত্ববাদ দেশ থেকে ঝেটিয়ে একক কর্তৃত্বের শাসন প্রলম্বিত করার জন্যই গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে সমাহিত করে ফেলতেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রাখা হয়েছে এবং জামিন দিতে বিচারের ইতিহাসে নজিরবিহীন বিলম্ব ঘটানো হচ্ছে।

দেশনেত্রীকে এভাবে বন্দি করে রাখার একটাই উদ্দেশ্য গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে কবর দিয়ে দেয়া। চালু একটা কথা আছে যে, কফিনের শেষ প্যারেকটি মেরে দেয়া। কফিনে শেষ প্যারেকটি মারা হয়েছে, আমি মনে করি দেশনেত্রীকে জামিন না দিয়ে। আওয়ামী লীগ সরকার বিচার বিভাগের ওপর ভর করে, তাদেরকে ব্যবহার করে এভাবে মানুষের অধিকারগুলোকে হরণ করে নিচ্ছে। আমরা এই অন্যায়- অত্যাচার, এই বিচার বিভাগকে ব্যবহার করার তীব্র প্রতিবাদ করছি, নিন্দা জানাচ্ছি। ক্ষোভের সঙ্গে বলছি, এই আদেশে সরকারের যে ইচ্ছা, সেই ইচ্ছারই প্রতিফলিত হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক দল, সামাজিক সংগঠন, গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ‘আন্দোলন’ গড়ে তোলার আহবান জানান মির্জা ফখরুল। : বিএনপি মহাসচিব বলেন, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার দাবি করার জন্যই বেগম খালেদা জিয়াকে নিষ্ঠুর নির্যাতন সইতে হচ্ছে। নাৎসী নির্যাতনের নতুন দৃষ্টান্ত এখন বাংলাদেশ। প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ হুমকি দিয়ে বন্ধ করা হচ্ছে। সরকারের অভিপ্রায়েরই ফলাফল ফুটে উঠছে একের পর এক বিচারিক সিদ্ধান্তে।

তিনি আরো বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন একতরফাভাবে অনুষ্ঠিত করে শুধুমাত্র ক্ষমতাসীনরাই পুনরায় ক্ষমতার মসনদে বসার স্কিম বাস্তবায়নে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রধান অন্তরায় ভেবে রাষ্ট্রক্ষমতার জোরে তাঁকে বন্দি করে এখন কারাবাসকে দীর্ঘায়িত করার চক্রান্তে মেতে উঠেছে। গণবিচ্ছিন্ন সরকার বন্ধুদের দেয়া পথনকশা অনুযায়ী আগামী ভোটারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার এজেন্ডা নিয়ে এখন মাঠে নেমেছে। আর এই কারণেই দেশনেত্রীর কারামুক্তি নিয়ে ছলচাতুরী শুরু করেছে এবং দেশব্যাপী বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক ক্র্যাকডাউন চালানো হচ্ছে। : সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীনদের দুঃশাসনের শ^াসরুদ্ধকর এই পরিবেশ থেকে বাঁচতে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতে রাজপথের তুমুল আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে আপনারা শুনেছেনও। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন যে, এটা এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এটা ডিসাইডেড, ডান। এই একটা অবস্থার মধ্যে আজকে আমরা আছি। এই কথাগুলো বারবার বলতে হয়, বলতে হবে। এছাড়া অন্য কিছু করতে আমরা শিখিনি। গণতান্ত্রিক দলের তো এভাবেই কাজ করবে। বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল। আমরা জনগণের কথাগুলো সামনে তুলে আনতে চাই।

মির্জা ফখরুল বলেন, সারাদেশে আমাদের নেতাকর্মীদের এই অবস্থা। খুলনায় দলের ধর্ম বিষয়ক সহসম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবুকে তিনদিন আগ তুলে নেয়ার পর এখনো তার খোঁজ নেই। কিছুদিন আগে তেজগাঁও ছাত্রদলের নেতা জাকির হোসেন মিলন যে মারা গেলো তার পরিবারের ইন্টারভিউ করার জন্য গতকাল কোনো একটি বিদেশি সংবাদমাধ্যম একটা জায়গা নিয়েছিল। সেকেন্ডের মধ্যে সেখানে পুলিশ ঘিরে ফেলেছে। পরিবারের সদস্যরা সেখানে থাকতে পারেনি।

দেশের নিম্ন আদালতগুলো জামিন দিচ্ছে না অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেখেন আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কতদিন আগে গ্রেফতার হয়েছেন। এখন পর্যন্ত তার জামিনের ব্যবস্থা করা যাচ্ছে না। কারণ নিম্ন আদালতকে বলে দিয়েছে শুনানি পরে হবে। যে কারণে এসকে সিনহা (সাবেক প্রধান বিচারপতি) সাহেবকে চলে যেতে হলো যে, নিম্ন আদালত সরকারের নিয়ন্ত্রণে না থাকে, এটা যেন সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণে থাকে। সেজন্য বিধি বিধান পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। সেটা সরকার করতে দেয়নি। এর ফলে কী হয়েছে? এখন আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে নিম্ন আদালত চলছে। তারা বলে দিচ্ছে এক মাস/দুই মাস পরে শুনানি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 17
    Shares