খালেদা জিয়া সুস্থ নাকি অসুস্থ!

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) থেকে আদালত হয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে তিনি কি সুস্থ নাকি অসুস্থ?

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) নাইকো দুর্নীতি মামলায় হাজির করানোর জন্য বিএসএমএমইউ থেকে খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে নেওয়া হয়। পরে তাকে কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করেন।

বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে ডিসচার্জ করে দেওয়া হয়েছে। মেডিক্যাল বোর্ড তার শারীরিক অবস্থায় সন্তুষ্ট হয়েই তাকে ডিসচার্জ করেছে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউ’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ওনার অবস্থা যথেষ্ট স্থিতিশীল। ওনার ব্যাপারে মেডিক্যাল বোর্ড সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরই আমরা তাকে ডিসচার্জ করে দিয়েছি। তার অবস্থা যথেষ্ট স্থিতিশীল। তিনি আগে যে সব রোগে ভুগছিলেন, সেগুলো থেকে তিনি অনেকটাই রিকেভার করেছেন। আজকে বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) যাবার সময়ও ওনাকে যথেষ্ট স্থিতিশীল দেখা গেছে। আমরা শুধু তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলতে পারি না। কারণ, তার যে আথ্রাইটিসের ব্যথাটা, সেটা আছেই। সেটাতো সম্পূর্ণ সারিয়ে তুলতে কেউই পারবে না। উনার এই ব্যথাটা থাকা পর্যন্ত আমরা তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলতে পারি না। তবে আজ তিনি যাবার সময় আপনি নিশ্চয়ই তাকে দেখেছেন, তিনি এখন যথেষ্ট স্থিতিশীল আছেন।’

এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন— খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের আপত্তি সত্ত্বেও তাকে আদালতে ও কারাগারে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) পুরাতন কারাগারে স্থাপিত ঢাকার নবম বিশেষ জজ আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলার অভিযোগ গঠনের আংশিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে আদালত থেকে বেরিয়ে কারা ফটকে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনিভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ থেকে বের করে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি, মেডিক্যাল বোর্ডে যারা চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন, তারা ছাড়পত্র দেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসকরা বলেছেন— খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। এই বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করে সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তাকে কারাগারের আদালতে নিয়ে এসেছে। তাকে আবারও এই কারাগারেই রেখে দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা কারা অভ্যন্তরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আদালত সময় দেননি।’

এসময় মওদুদ আহমেদসহ বিএনপিপন্থী সিনিয়র আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

মামলাটির শুনানি শেষে খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া আদালতে অসুস্থ ছিলেন। তিনি এজলাসে বসে বার বার কাশি দিচ্ছিলেন।’

‘খালেদা জিয়াকে অসুস্থতা সত্ত্বেও জোর করে আদালতে আনা হয়েছে’ বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের বিষয়ে দুদকের প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘এ মামলায় দুদকের প্রসিকিউটর হিসেবে আমি বলতে পারি যে, তাকে হসপিটাল (বিএসএমএমইউ) থেকে এখানে আনা হয়েছে এবং রিলিজ অর্ডারের মাধ্যমেই আনা হয়েছে। ডাক্তার যারা আছেন, যারা তাকে রিলিজ দিয়েছেন। তারা (চিকিৎসক) এ ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন। আমি আদালতে তাকে দেখেছি— ভালো, উৎফুল্ল এবং তিনি বসেছিলেন। তিনি বিভিন্ন বিষয়ের জবাব দিয়েছেন এবং কথাবার্তাও বলেছেন।’

খালেদা জিয়া সুস্থ কিনা জানতে চাইলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, ‘তিনি সুস্থ কী অসুস্থ সেটা চিকিৎসকরাই বলতে পারবেন। তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে পাঠিয়েছে বলেই আমরা তাকে কারাগারে রেখেছি।’

খালেদা জিয়ার সুস্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘তিনি অসুস্থ ছিলেন। সেজন্যই তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। চিকিৎসকরা এখন তাকে সুস্থ বলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়েছেন। সেজন্য তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এটা সম্পূর্ণই চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের বিষয়।’

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 29
    Shares