Home / এক্সক্লুসিভ / গোপালগঞ্জে সেচ দিয়ে চলছে ফেরি (ভিডিও)

গোপালগঞ্জে সেচ দিয়ে চলছে ফেরি (ভিডিও)

ক্রাইম প্রতিদিন, গোপালগঞ্জ : তলদেশে অসংখ্য ছিদ্র থাকায় গোপালগঞ্জে কালনার ৪ নম্বর ফেরিটি প্রতিদিন সেচ দিয়ে পানি অপসারণ করে চলছে। এতে ফেরিটি যে কোনো সময় ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই ঘাটে চলাচলকারী ৪ নম্বর ফেরিটি অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। ঘাটে আরেকটি ফেরি থাকলেও ইঞ্জিন না থাকায় তা চালু করা যাচ্ছেনা। তাই জরাজীর্ণ প্রতিদিন ঝুঁকির মধ্যে পারাপার করানো হচ্ছে শত শত যানবাহন।

দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধুমতি নদীর উপর গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কালনার এ ফেরি ঘাটটি। প্রতিদিন তিন থেকে চারশ’ যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে এ ঘাট দিয়ে। দীর্ঘ দিনের পুরাতন ফেরি হওয়ায় এটি চলাচলে অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। এই ফেরি ঘাট দিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর, যশোর, খুলনা, নড়াইল, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলার বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস ও এ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের শত শত যানবাহন পারাপার হয়ে থাকে। এখন ঈদের সময় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আসা গরু এই ফেরি দিয়ে পারাপার হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের দূরত্ব কম হওয়ায় যানবাহনের চাপ এ ঘাটে ব্যাপক।

কালনা ফেরি ঘাটের ইজারাদার মঞ্জুর হাসান বলেছেন, এখানে যানবাহন পারাপারকারী ৪ নম্বর ফেরিটির তলদেশসহ বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র দেখা দিয়েছে। দুই-তিন বার পারাপার করার পর সেচ দিয়ে আবার চালাতে হচ্ছে। ততক্ষণে ফেরি ঘাটের দুই পাড়ে জমে যায় শত শত যানবাহন। দ্রুত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে যে কোন সময় আবারও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর ঘাটে বসে থাকা ১৬ নম্বর ফেরিটিতে নতুন করে বেশী শক্তির ইঞ্জিন বসানো না হলে যানবাহন পারাপার অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ফেরির ড্রাইভার খালাসিদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ২০০৪ সাল থেকে ৪ নম্বর ফেরিটি এই ঘাটে চলছে। এর মধ্যে বডির কোন মেরামত করা হয়নি। এখন ফেরিটির তলদেশের বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র ও উপরের অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ১৬ নম্বর ফেরিটি বন্ধ থাকায় ৪ নম্বরের উপর বেশী চাপ পড়ছে। ফলে ধারন ক্ষমতার চেয়ে বেশী লোড দিতে হচ্ছে। সেচ দিয়ে ফেরি চালাতে হচ্ছে। দ্রুত ফেরিটি মেরামত করা না হলে আবারও যে কোন সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এই ঘাট দিয়ে চলাচলকারি ট্রাক ড্রাইভাররা জানান, কালনা ঘাটের ফেরি প্রায়ই অকেজো হয়ে পড়ে। ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। দুইটা ফেরির একটা প্রায়ই অকেজো থাকে। এই ঘাটে আগে একটা ফেরি ডুবে ছিল। নতুন একটা ফেরি দেয়া হয়েছে, কিন্তু ইঞ্জিন বসানো হয়নি। ফেরির এই অবস্থার কারণে দুই পাড়ের অসংখ্য যানবাহনকে পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ গোপালগঞ্জ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী খঃ মো. শরিফুল আলম বলেন, একটি ফেরিতে ইঞ্জিনের সমস্যা আরেকটিতে কিছু সমস্যা আছে শুনেছি। বিষয়টি ফেরি ডিভিশনকে জানানো হয়েছে। আশাকরি দ্রুত সমাধান হবে।

ঈদের আর মাত্র ক’দিন বাকি, ঈদের সময় এই ফেরি দিয়ে যানবাহন যাতে সঠিকভাবে চলাচল করে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে পারে তার ব্যবস্থা করতে কর্তৃপক্ষ তড়িৎ ব্যবস্থা নেবেন এমনটা প্রত্যশা যাত্রী সাধারণের।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 1
    Share