Home / সাক্ষাৎকার / চট্টগ্রাম আ’লীগে কোনো বিরোধ নেই

চট্টগ্রাম আ’লীগে কোনো বিরোধ নেই

ক্রাইম প্রতিদিন : মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। বীর মুক্তিযোদ্ধা, দক্ষ সংগঠক সর্বোপরি পরিচ্ছন্ন এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। স্বাধীনতার পর নানা আন্দোলন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর মরহুম জহুর আহমেদ চৌধুরীর এই সুযোগ্য সন্তান চট্টগ্রামের আওয়ামী রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সামনে থেকে। পালন করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব। সম্প্রতি চট্টলবীর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনী বছরকে সামনে রেখে দলটির পরিকল্পনা, কর্মসূচী, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন কবে হবে, দলের গ্রুপিংসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ক্রাইম প্রতিদিন এর স্টাফ রির্পোটার আবু রায়হান (বর্ষন) ।

ক্রাইম প্রতিদিন : কেমন আছেন?

মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী : প্রিয় নেতা চট্টলবীর মহিউদ্দিন চৌধুরীকে হারিয়ে আর কেমন থাকি বলুন। তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা। বীর মুক্তিযোদ্ধা, চট্টলবাসীর নয়নমনি। তার মৃত্যুতে সভাপতির পদটি শূন্য হয়। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়।

ক্রাইম প্রতিদিন : ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে আপনার কর্মপরিকল্পনা কি?

মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী : আমার সংগঠনে প্রতিটি ওয়ার্ডে ইউনিট আছে। ইউনিট থেকে ওয়ার্ড, ওয়ার্ড থেকে থানা, থানা থেকে মহানগর, আমি সবার সাথে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে কর্মসূচি গ্রহণ করবো। এভাবে আমি আমার সংগঠনকে চালিয়ে নিয়ে যাবো।

একটি কথা খেয়াল রাখবেন; ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। তাই দেশের স্বার্থে, সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে আমি মনে করি আমাদের মধ্যে কোনো ভুলভ্রান্তি হবে না। আমাকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সে দায়িত্ব পালনে আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকবো।

ক্রাইম প্রতিদিন  : দলে মহিউদ্দিন চৌধুরী শূন্যতা কি আদৌ পূরণ হবে?

মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী : দেখুন মহিউদ্দিন চৌধুরী অনেক বড় মাপের নেতা ছিলেন। ১৫ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা পূরণ করা খুব কঠিন। তার মতো ত্যাগী, দলের জন্য, মানুষের জন্য এমন অন্তপ্রাণ ব্যক্তি দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি যে পথ দেখিয়ে গেছেন সে পথ যদি আমরা অনুসরণ করি, আমার মনে হয় আমি কাজ চালিয়ে যেতে পারবো।

ক্রাইম প্রতিদিন : মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে এক বছর হয়ে গেল। এদিকে নির্বাচনও আসন্ন। এই অবস্থায় নতুন কমিটির জন্য দলের সম্মেলন হবে কি না বা হাইকমান্ডের নির্দেশনা কি?

মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী : মহানগর আওয়ামী লীগ আছে, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ আছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ইশতেহার দেবে। সেখানে থেকে নির্দেশনা আসবে। আমি আমার সহকর্মী, সহযোদ্ধাদের নিয়ে ইউনিট হতে ওয়ার্ড, ওয়ার্ড হতে মহানগর ভিত্তিক কাজ চালিয়ে যাবো। আমি মনে করি নির্বাচনী কাজ করতে আমাদের কোনো বেগ পেতে হবে না। কারণ আমাদের সংগঠনটি একটি সুসংহত সংগঠন। মহিউদ্দিন চৌধুরী যে দল রেখে গেছেন তা একটি শক্তিশালী দল। এখানে কোনো মত ও পথের পার্থক্য নেই, কোনো বিরোধ নেই। আমরা যেকোন অপশক্তিকে মোকাবেলা ও ধরাশায়ী করতে প্রস্তুত আছি।

ক্রাইম প্রতিদিন : আপনি বললেন মহানগর আওয়ামী লীগে কোনো মত ও পথের পার্থক্য নেই। কিন্তু দল তো মহিউদ্দিন গ্রুপ ও নাছির গ্রুপ এই দুই গ্রুপে বিভক্ত যা প্রকাশ্য। এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?

মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী : দেখুন আমি আগেও বলেছি ব্যক্তির চেয়ে দল আগে, দলের চেয়ে দেশ আগে। তাই ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দল ও দেশকে নিয়ে ভাবতে হবে। বৈরিতা নয়, ঐক্য চাই।

ক্রাইম প্রতিদিন  : আপনি তো অনেক প্রবীণ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, রাজপথে থেকে রাজনীতি করেছেন, গণমানুষের যে দাবিগুলো তার পক্ষে আপনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। আপনি কি মনে করেন, বর্তমান মহানগর আওয়ামী লীগের যে অবস্থান সেটা নিয়ে কি আপনি পারবেন অনেক দূর আগাতে?

মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী : ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সে দুর্দিনে সংগঠন চালিয়েছিলাম, সে সময় অত্যন্ত কঠিন সময় ছিল, সে কঠিন সময় যখন মোকাবেলা করতে পেরেছি বন্ধুদের নিয়ে, সাথীদের নিয়ে, কর্মী ভাইদের নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিদের নিয়ে, আশা করি যেকোনো শক্তির সঙ্গে আমার সংগঠন পারবে। আওয়ামী লীগ খুব শক্তিশালী দল, আমরা ক্ষমতায় না থাকতেও আওয়ামী লীগ যে একটা জনগণের দল সেটা আমরা প্রমাণ করেছি।

ক্রাইম প্রতিদিন : তখন আপনাদের যে সময়টা ছিল অনেকটা স্বার্থহীনভাবে নিজের জীবনটাকে হাতের মুঠোয় রেখে রাজনীতি করে গেছেন। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। তখনকার চিত্র আর এখনকার চিত্রপট কতটা ভিন্ন?

মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী : তখনকার সময় আর এখনকার সময় অনেক বেশ কম। সেটা হচ্ছে বাস্তবতা। তখন আমরা রাজনীতি করেছি, অত্যন্ত কঠিন সময়ে যখন বঙ্গবন্ধু মারা যায়, তখন আমাদের অনেক অত্যাচার, অনেক নিপীড়ন, অনেক নির্যাতন করা হয়। সমস্ত কিছু ত্যাগ করে, সহ্য করে বহু রক্তের বিনিময়ে আজকের এ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আপনারা জানেন, ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করতে চেয়েছিল। তারপর আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার পর ২১ আগস্ট ঢাকার গুলিস্তানে আমাদের সভাপতিকে গ্রেনেড দিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিল। তারপরও এদের হত্যার লীলাখেলা এখনো থেমে যায়নি, এগুলো চলবে। দেশে যতক্ষণ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আছে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তি চেষ্টা করবে যেকোন আঘাত হানতে, আমাদের সংগঠনকে দুর্বল করতে এবং আমাদেরকে দুর্বল করতে। আশা করি ইনশাআল্লাহ কোনো শক্তি আমাদের চলার পথকে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে না। কারণ আমরা দুঃসময়ের কর্মী। আমরা জানি কিভাবে সংকটকে মোকাবেলা করতে হয়। কিভাবে দলের জন্য সংগঠনের জন্য কাজ করতে হয়। আমাদের কর্মীদের ত্যাগ, আমাদের কর্মীদের অনেক রক্ত, ২১ বছর আপনারা জানেন কোনো গণতন্ত্র ছিল না। ২১টি বছর বাঙালির চলে গেছে গণতন্ত্রহীনভাবে। ২১টি বছর আমরা যদি ক্ষমতায় থাকতাম বাংলাদেশের স্বপক্ষের শক্তি, আজকে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে উন্নয়ন হতো। আজকে পদ্মা সেতু আমাদের অর্থায়নে করছি। এ শক্তি গণতান্ত্রিক শক্তি। এ শক্তি দলীয় ঐক্যের।

ক্রাইম প্রতিদিন : এতক্ষণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ

মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী : আপনাকে ও ক্রাইম প্রতিদিন পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

তবে একটা কথা আপনাদের বলতে চাই, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। আপনাদের মাধ্যমে একটি দেশের উত্থান-পতন হতে পারে। একটি সংগঠনের উত্থান-পতন হতে পারে। তাই আপনাদের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, আমাদের সংগঠনের কোনা মতভেদ নিয়ে বিরোধ নিয়ে এমন কিছু লিখবেন না বা প্রশ্ন করবেন না যাতে দলে আমার যারা সহকর্মী ভাইয়েরা আছে তাদের মনোবেদনার কারণ না হয়। আপনারা যদি এটুকু সহযোগিতা করেন আমার দল অনেকদূর এগিয়ে যাবে।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 20
    Shares