চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ ভাঙ্গনে দেড়শ’ মিটার তলিয়ে গেছে

ক্রাইম প্রতিদিন : চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের পুরাণবাজার হরিসভা এলাকায় বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) আবারও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ওইদিন সকল থেকে ওই এলাকার মতুরা কাছারি বাড়ির পেছন থেকে মরণ সাহার বাড়ি পর্যন্ত আকষ্মিত এ ভাঙ্গনের দেখা দেয়।

ভাঙ্গনে প্রায় ৮০ মিটার ব্লকবাঁধ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এতে ওই এলাকায় বসবাসরত মানুষরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুমিল্লা পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী বাবুল চন্দ্র শীল সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ভাঙ্গন প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ঘটনার সাথে সাথে চাঁদপুর চেম্বারের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায় ও সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ বিষয়টি স্থানীয় এমপি, জেলা প্রশাসন, পৌর মেয়র ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবগত করেন।

খবর পেয়ে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো.নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া,নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হানসহ অন্যান্যরা ভাঙ্গন স্থান পর্যবেক্ষণ করেন এবং ওই স্থানটি রক্ষায় সেখানে সংরক্ষণে রাখা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেন।

সরেজমিনে জানা যায়, ক’দিন আগে হরিসভার দক্ষিণে সাংবাদিক বিমল চৌধুরী ও ব্যবসায়ী সহদেব সাহা’র বাড়ির পেছন দিয়ে প্রায় এক’শ মিটার ব্লকবাঁধ ধসে পড়ে। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা নেন। এক মাসের কিছু বেশি সময় অতিবাহিত হবার পর হরিসভা মন্দির গেইটের বিপরীত ঘাটলা এলাকায় আবারও ভাঙ্গন দেখা দেয়।

এলাকাবাসী জানায়, চাঁদপুর মেঘনা নৌ-রুটে চট্টগ্রাম-ঢাকা,নারায়ণগঞ্জ রুটের সকল নৌ-যান মেঘনা অতিক্রম করে আসা যাওয়ার সময় শহর রক্ষা বাঁধের খুব কাছ দিয়ে যাতায়াত করছে। এতে করে নৌ-যানগুলোর সৃষ্ট ঢেউ পাড়ে আঘাত হানে। যার ফলে এ অংশটিতে ভাঙ্গন বন্ধ হচ্ছে না। তা’ছাড়া নদীর গভীরতা ও ¯্রােতের তীব্রতাও এখানে বেশি বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

হরিসভা লোকনাথ মন্দির পাশের দোকানদার মানিক সাহা,ভাংগন কবলিত এলাকার অর্চনা সাহা, মালতি দেসহ অনেকে জানান, স্থানীয় দীপক মাস্টার বৃহস্পতিবার সকালে গোসল করতে এসে বাড়ির পেছনের ব্লকবাঁধ আস্তে আস্তে নদীতে ঢেবে যেতে দেখেন। তারা আরো জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ব্লক দিয়ে মন্দিরের যে নদী ঘাটলাটি করে দিয়েছিলো এখন সেটির কোনো অস্তিত্ব নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা মাধব ঘোষ জানান,হরিসভা এলাকাটি এ নিয়ে সাতবার মেঘনার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে। সম্প্রতি তিনবার ভাঙ্গন দেখা দিলে তিনবারই পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করে। কিন্তু সেখান দিয়েই আবার নদী ভাংছে। এবার অবস্থা খুবই ভয়াবহ। হরিসভা রাস্তার মোড় হতে রণাগোয়াল বকাউল বাড়ি পর্যন্ত এলাকাটি নদীর ভাঙ্গনের মুখে এখন মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে।

শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের অধ্যক্ষ বিশাল গোবিন্দ দাস অধিকারী জানান, হরিসভা কমপ্লেক্সে সাতটি মন্দির রয়েছে। আশপাশে বিরাট বসতি এলাকা। রাস্তা-ঘাট, মসজিদ-মাদরাসা ও গণকবর রয়েছে। নদী ভাংগনের ভয়াবহতা নিয়ে আমরা এখন খুবই শঙ্কিত। পানি উন্নয়ন বোর্ড সঠিকভাবে কাজ না করায় এখানে বার বার শহর রক্ষা বাঁধ ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান বলেন,‘বর্ষা মওসুমে পুরাণ বাজারের নদীর পরিস্থিতি ভালো না। প্রবল ঘূর্ণিস্্েরাত প্রবাহিত হচ্ছে। হরিসভা পয়েন্টে নদীর গভীরতা অনেক। সেখানে স্কাউরিং বেশি হওয়ায় প্রায় ৬০ মিটার ব্লক বাঁধে ভাংগনের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা জরুরি ভিত্তিতে স্টকে রাখা বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছি। আজকে সাখুয়া থেকে ব্লক এনে এখানে ফেলব। আশা করি, টেক্যল দিতে পারব। এখাতে অপ্রতুল বরাদ্দ দেয়ায় পুরাণ বাজারের নদীভাঙ্গন রোধে স্থায়ী কাজ করা যাচ্ছে না। ’

তিনি আরো বলেন,‘ চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৩ শ’৬০ মিটার। এর মধ্যে পুরাণ বাজার অংশে ১ হাজার ৪শ’ ৩০ মিটারের ২শ’ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চাঁদপুর শহররক্ষা সংরক্ষণের জন্যে চলতি অর্থবছরে আমরা সরকারের কাছে ১৬৫ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে পত্র দিয়েছি। সরকার যে অর্থ বরাদ্দ দিবে সে অনুপাতেই আমরা বাঁধ সংরক্ষণে কাজ করবো।’

চাঁদপুর দক্ষিণ অঞ্চল নদীভাঙ্গন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন মন্টু গাজী পুরাণ বাজারের নদীভাঙ্গন রক্ষা কাজকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আইওয়াশ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘ প্রসিদ্ধ এ অঞ্চলের নদীভাঙ্গন স্থায়ীভাবে রোধ করতে হলে নদীতে ডেজিং করার বিকল্প নাই।

পুরাণ বাজার ব্যবসায়িক ও মোলহেড এলাকাটি পুনরায় সংস্কারের পরিকল্পিত উদ্যোগ নিতে হবে। মাঝে মধ্যে থোক বরাদ্দ দিয়ে নদীভাঙ্গন রোধের কাজের কাজ কিছুই হবেনা।’

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 10
    Shares