সংবাদ শিরোনাম
Home / লিড নিউজ / চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) : বিএনপির ঘাঁটিতে হানা দিতে চায় আ’লীগ

চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) : বিএনপির ঘাঁটিতে হানা দিতে চায় আ’লীগ

ক্রাইম প্রতিদিন : চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত্ম আসনটি তাদের দখলে ছিল। ‘৭৩ সালের পর শুধুমাত্র ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আ’লীগের প্রার্থী ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূইয়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এখানে এমপি নির্বাচিত হন। বর্তমান সাংসদ ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ১২ বছর। বিগত কয়েক বছর তিনি দলীয় কর্মসূচিসহ নানান উন্নয়ন কাজে এলাকায় ব্যস্ত্ম সময় কাটাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করতে চান।

এ ব্যাপারে শামছুল হক ভূঁইয়া বলেন, দল আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় এখন ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত। বিগত দিনে সবসময় তিনি নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন। এলাকার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। তাই আগামীতে দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে হাইকমান্ড এই বিষয়গুলো গুরম্নত্ব দেবেন বলে তিনি আশা করেন।

অন্যদিকে বিগত ২০০১ ও ২০০৮ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। প্রথমে তিনি বিএনপির প্রার্থী মরহুম আলমগীর হায়দার খাঁন ও পরবর্তীতে মো. হারম্ননুর রশিদের কাছে পরাজিত হন। তিনি এবারও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ড. হারম্ননুর অর রশিদ সাগরও মনোনয়নপ্রত্যাশী। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রোমানও এই আসন থেকে নির্বাচন করতে চান।

অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মো. হারম্ননুর রশিদকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে আছেন। দলের দুর্দিনে ও অবরোধসহ নানান আন্দোলনে তিনি বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে শক্ত অবস্থানে রাজপথে ছিলেন। দ্রম্নত বিচার আইনসহ শতাধিক মামলায় প্রায় হাজারখানেক আসামি নিয়ে, প্রতিনিয়ত কোর্টে দৌড়ঝাঁপ করছেন আবার রাজপথের আন্দোলনেও থাকছেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের ধারণা, মনোনয়ন তিনিই পাবেন এবং মনোনয়ন পেলে তিনিই জিতবেন। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেনেরও রয়েছে একটি শক্ত বলয়। দলের আরেকটি অংশ তাকে নিয়েই এগুতে চায়। ইতোমধ্যে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি হতে শুরম্ন করে নানান আচার অনুষ্ঠান পৃথকভাবেই পালন করছেন তারা। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে এই দুই সম্ভাব্যপ্রার্থী ইতোমধ্যে যার যার মতো করে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সবমিলে এই দুই প্রার্থীকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীরা এখন দুই ভাগে বিভক্ত। অন্যদিকে শিল্পপতি ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এমএ হান্নানও বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন। বিএনপির কিছু সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মী তার সঙ্গে রয়েছেন। এমএ হান্নান মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হতে পারেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, ঢাকা ট্যাক্স বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন, মানবাধিকার ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট শাহজাহান এই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী।

নির্বাচনের ব্যাপারে মো. হারম্ননুর রশিদ বলেন, বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি মাঠে ছিলেন। এখন যারা মনোনয়ন চান তাদের তো সে সময় তেমন একটা দেখা যায়নি। সময় হলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। তখন সবাই ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচন করবেন। দলে তখন কোনো বিরোধ থাকবে না। তাছাড়া, দলের দুর্দিনে যারা নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন না- এমন কিছু লোকজন এখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করছেন। আসলে তাদের উদ্দেশ্য বিএনপির ক্ষতি করা। অন্য দলের এজেন্ট হয়ে তারা দলের ভেতরে কোন্দল সৃষ্টি করছেন। তাদের বিষয়ে নেতাকর্মীরা সতর্ক আছেন।

বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোতাহার হোসেন পাটোয়ারী বলেন, বিএনপির যে কোনো দুর্দিনে তিনি ও তাদের পরিবার পাশে ছিল। বিএনপি পরিবার হিসেবে পূর্ব থেকেই তাদের এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। তাছাড়া গত একযুগ ধরে এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মকা-ে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। তাই আগামী নির্বাচনে দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলে তার আশা।
বিএনপির আরেক সম্ভাব্যপ্রার্থী এম এ হান্নান বলেন, ২০০৮ সালে বিএনপি তাকেই মনোনয়ন দেয়। কিন্তু চক্রান্ত্ম করে তার মনোনয়ন ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তিনি বিগত দিনে ফরিদগঞ্জবাসীর কাছে ছিলেন। নিজ অর্থে এলাকার গরিব অসহায়দের সেবা করে আসছেন। তাই দল এবার তাকে মনোনয়ন দেবে বলে তিনি আশাবাদী।

এদিকে জোটগতভাবে যদি বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন না করে, তাহলে জামায়াতের আলাদা প্রার্থী দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির এ এইচ এম আহম্মদ উলস্না প্রার্থী হতে পারেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে পারেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরম্নল ইসলাম মিলন। তিনি জানান, জাতীয় পার্টি মহাজোটের সঙ্গে নির্বাচন করলে তিনি মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে মনোনয়ন পাবেন।

এদিকে প্রায় প্রতিবারই এই আসন থেকে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ প্রার্থী দিয়ে আসছে। কিন্তু এবার বাসদ ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে তাদের প্রার্থিতা নিশ্চিত না হলেও শেষ পর্যন্ত্ম আলমগীর হোসেন দুলাল প্রার্থী হতে পারেন।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 218
    Shares