Home / বাংলাদেশ / সারাদেশ / জনপ্রতিনিধিদের গা ঢাকা : ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে তালিকার বাইরের মাদক সম্রাটেরা

জনপ্রতিনিধিদের গা ঢাকা : ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে তালিকার বাইরের মাদক সম্রাটেরা

ক্রাইম প্রতিদিন, খাঁন মাহমুদ আইউব, কক্সবাজার : দেশব্যপী মাদক নির্মূল অভিযান চলছে। মাদক সম্রাটদের চূড়ান্ত তালিকা প্রনয়ন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। এতে বাদ পড়েনি স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বার ও কাউন্সিলর। এসব জন প্রতিনিধি আত্বগুপনে থাকায় এলাকার লোকজন নাগরিক সেবা বঞ্চিত। কক্সবাজার’র টেকনাফ ইয়াবা ঘাটি থেকে তালিকা অলংকৃত বোয়ালরা গা ঢাকা দিলেও আরামে রয়েছে তালিকায় নাম না থাকা আরো কয়েক’শ বোয়াল আর চুনোপুটি।এখন ব্যবসা নিয়ন্ত্রন তাদের হাতে বলে দাবী স্থানীয়দের।

টেকনাফ উপজেলায় অভিযান শুরুর দিন থেকে ইয়াবা কারবারীরা আত্ব গুপনে চলে গেছে।বিশেষ করে টেকনাফ উপজেলার আক্তার কামাল মেম্বার ও কাউন্সিলর একরামুল হক বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার পর থেকে।এমন কি বন্ধ করে রেখেছে তাদের ব্যবহৃত ফোন নাম্বার পর্যন্ত।অনেকে নাম্বার ট্রেকিং এর ভয়ে পরিবারের সাথেও যোগাযোগ বন্ধ রাখার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় সংকট সৃষ্টি হয়েছে জন প্রতিনিধিদের নিয়ে।ভূক্তভোগী স্থানীয় লোক জনের অভিযোগমতে পরিষদে গিয়ে এসব জন প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতির কারনে প্রয়োজনীয় অনেক কাজকর্ম নিয়ে দূর্ভোগ চলছে তার প্রমান পাওয়া গেছে।আটকে রয়েছে স্থানীয় শালিস,বিভিন্ন ভেরিফিকেশন্স সহ জন্ম ও নাগরিক সনদের মতো জন গুরুত্বপূর্ণ কাজ।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ইউপি সচিব ও পৌর মেয়র সহ কাউন্সিলর প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন।অনুসন্ধানে জানা গেছে,টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া ও প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মোঃ আব্দুল্লাহ মেম্বার,ইয়াবা ডন খ্যাত এনামুল হক উরফে এনাম মেম্বার। সাবরাং ইউনিউনের চেয়ারম্যান নূর হোসেন,হ্নীলা ইউনিয়নের বাবুল মেম্বার।টেকনাফ পৌর কাউন্সিলর মৌলভী মুজিব,কাউন্সিলর শাহ আলম,কাউন্সিলর রেজাউল করিম উরফে মানিক।তবে তালিকায় নাম থাকা সত্বেও কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান নিয়মিত পরিষদে উপস্থিত থাকেন।তার দাবী,নিরপরাধ হয়েও যদি কোন অবিচারের সম্মুখীন হয় তাতে ভয় নেই,আল্লাহ আমার সহায় হবেন।এদিকে কাউন্সিলর নূরশাদ,সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের বক্কর মেম্বার সহ অনেকে ইয়াবা মামলায় অনেক আগে থেকেই পলাতক রয়েছে।এদিকে শাপলাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মৌলভী আজিজ এবং তার সহোদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভী রফিক,কক্সবাজার পৌর কাউন্সিলর মিজান,পেকুয়ার মগনামা ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াশিম সহ অন্তত অর্ধ শত জন প্রতিনিধিরা পরিষদে নিয়মিত অনুপস্থিত রয়েছে।মৌলভী রফিক ও মৌলভী আজিজের বিরুদ্ধে জঙ্গীবাদ ও বিদেশ থেকে মসজিদ-মাদ্রাসার নামে টাকা এনে আত্বসাতের অভিযোগ রয়েছে বলে জেলা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।এসমস্যা কে জেলার সুশীল সমাজ প্রতিনিধিরা অযোগ্য অসৎ লোকদের টাকার লোভে জন প্র‍তিনিধিদের নির্বাচিত করার কুফল বলে মত দিয়েছেন।বিষয়টি নিয়ে জেলার প্রশাসনের একাধিক কর্তা ব্যাক্তিরাও ক্ষুব্দ।

অপরদিকে টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অন্তত দুই শতাদিক ইয়াবা কারবারীর নাম তালিকায় না আসলেও তারা সম্পত্তির পাহাড় বানিয়ে দিব্বি প্রশাসনের নাগালের বাহিরে থেকে ওপেন চলা ফেরা করছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,এখন ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রন তাদের হাতে।স্থানীয়দের দাবী বোয়ালদের সাথে তাদেরকেও গ্রেফতার জরুরী।অন্যতায় ইয়াবা নিয়ন্ত্রন অসম্ভব।আবার অভিযোগ রয়েছে,এসব কারবারীদের বাচাঁতে একদল অপসাংবাদিকরা মরিয়া হয়ে উঠেছে।এদের অনেকে তালিকা ভূক্ত ইয়াবা কারবারী আবার এদের অনেকের বিরুদ্ধে ইয়াবা সংশ্লিষ্টতার সরাসরি অভিযোগ রয়েছে।এভাবে চলতে থাকলে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও জনগন নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হবে।

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 37
    Shares
x

Check Also

গডফাদারদের ঘাঁটিতে হানা

ক্রাইম প্রতিদিন ...