April 20, 2019

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারী!

ক্রাইম প্রতিদিন, এস,এম রায়হান উদ্দীন, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বেপরোয়া ভাবে হচ্ছে কালোবাজারি। সেই সাখে বিক্রিত টিকিট দ্বিতীয় যাত্রীর নিকট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত টাকা না দিলে পাওয়া যাচ্ছে না কোন আসন। ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকার সচেতন মহল। স্টেশনের রেল কর্মচারী ও তাদের সহযোগীরা বেপরোয়া ভাবেই নানা কৌশলে অতিরিক্ত টাকায় ট্রেনের টিকিটের কালোবাজারী ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা যায়।

র্দীঘদিন যাবত এ অবস্থা চললেও অজ্ঞাত কারনে রেলওয়ের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। যার ফলে দিন দিন যাত্রী হয়রানি ও অবৈধ টিকেট বানিজ্য মারাত্মক রূপ নিয়েছে। এতোমধ্যে অবৈধ টিকিট কালোবাজারী ব্যবসা ও যাত্রী হয়রানী নিয়ে নিয়মিত ট্রেন যাত্রীরা খুলনা বিভাগীয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তার কাছেও অভিযোগ পেশ করেছেন। তাতেও মেলেনি কোন প্রতিকার ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে ঢাকা-খুলনা রেল পথে চলাচলকারি আন্তঃনগর চিত্রা ও সুন্দরবন ট্রেনের টিকিট অবৈধ ভাবে বেশী টাকায় যাত্রীদের কছে বিক্রি করা হচ্ছে। স্টেশনে কর্মরত টিকেট বিক্রেতা ( বুকিং ক্লার্ক) ও স্টেশন মাষ্টারসহ কর্মকর্তারা স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় তারা দাপটের সাথে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারী ও কৌশলে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে বিক্রি করছেন। তারা কোন যাত্রীর অভিযোগ পাত্তাই দিচ্ছেন না। ঢাকার প্রতিটি টিকেট ২’শ টাকা থেকে কোন কোন সময় ৪/৫ শ’ টাকা অতিরিক্ত নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। বিশেষ কোন দিন আসলেই রেল কর্মচারীরা বেশি বেপরোয়া হচ্ছেন। গত ঈদুল আযহার সময়ে কোটচঁদপুর রেল স্টেশনে ৮৩৫/- টাকার একটি এসি টিকেট বিক্রি হয়েছে দ্বিগুন দামে, অর্থাৎ ১৬০০ টাকায়। ওয়ায়েজ নামের এক যাত্রী দু’টি এসি টিকেট কিনেছেন ৩২০০ টাকায়। তিনি পেশায় একজন শিক্ষক হওয়ায় কোন বাক বিতন্ডা না করলেও মনের কষ্টে বিষয়টি অকপটে প্রকাশ করেছেন ।

বিভিন্ন সময় রেল স্টেশনে অবৈধভাবে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে টিকেট বিক্রির সময় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন শৃংখলার হাতে ধরা পড়ার ঘটনা ঘটলেও কোটচাঁদপুর রেল স্টেশন এর ব্যতিক্রম।

স্থানীয় রেল কর্মচারিরা এলাকার রাজনৈতিক দলের কথিত নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে যোগসাজসে কালোবাজারী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে টিকিট অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছেন । কোটচাঁদপুর রেল স্টেশন থেকে কয়েকটি উপজেলার মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। গেল কুরবানী ঈদের সময় প্রতিটি টিকিট গোপনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শোভন চেয়ার এর টিকেট বিক্রি হয়েছে ২শ’ থেকে ৪শত টাকা অতিরিক্ত বেশী দামে। দালালের মাধ্যমে কিনতে হয়েছে কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনের অধিকাংশ আসনযুক্ত টিকেট।

যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, ট্রেনের টিকিট নিতে গেলে স্থানীয় রেল কর্মচারীরা (স্টেশন মাস্টার ও সহকারীরা) টিকিট বা আসন না থাকার কথা জানালেও যাত্রীদের অনুরোধ ও অতিরিক্ত টাকা দিলে টিকিট ও আসন সংগ্রহ করা যায়। আরও একটি কৌশল হচ্ছে টিকেট কালোবাজারী চক্র ও রেল কর্মচারীদের যোগসাজসে ঈদ বা উৎসবের সময় এলেই আগে থেকেই সব টিকিট বুকিং দিয়ে দিচ্ছেন ভূয়া নামে । পরে দরকষাকষির মাধ্যমে বেশী দামে বিক্রি করছে সেসব টিকিট।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টিকিট বিক্রি হওয়ায় কর্মচারীরা নির্দ্বিধায় টিকিট কালোবাজারী ও অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে রেলের টিকিট পাওয়া এখন সোনার হরিণে পরিনত হয়েছে। সে কারনে নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা ট্রেন ভ্রমন বাদ দিয়ে বিকল্প পথ দেখছেন। যার ফলে, সরকার এখান থেকে বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাবে বলে মনে করেন এলাকার সুধি সমাজ। দ্রুত রেলওয়ের এসব দূর্ণীতি ও কালোবাজারী বন্ধে রেলের দায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এবং অতি দ্রুত টিকিট কাউন্টারে কম্পিউটার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর রেল স্টেশন মাস্টার গোলাম মোস্তফার কাছে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার কাউন্টারে যে যাত্রীই টিকিট ক্রয় করতে আসে আমি তার কাছেই টিকিট বিক্রয় করি। আর টিকিট কালোবাজারীর সাথে আমার কোন কর্মচারী জড়িত নয় বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন ......