ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ নৌকাকেই ক্ষমতায় আনবে : দবিরুল ইসলাম

ক্রাইম প্রতিদিন : ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ নৌকাকেই ক্ষমতায় আনবে, আলহাজ মো. দবিরুল ইসলাম, সভাপতি, ঠাকুরগাঁও আওয়ামী লীগ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, ক্রাইম প্রতিদিনের ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি মোঃ মজিবর রহমান শেখ।

ক্রাইম প্রতিদিন : আওয়ামী লীগে বিভিন্ন গ্রুপিংয়ের কারণ কী?

আলহাজ মো. দবিরুল ইসলাম : বড় দলে এ ধরনের গ্রুপিং থাকবেই। আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। ফলে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থক অন্য দলের চেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে দলে পদ পাওয়ার প্রতিযোগিতা থাকাটা স্বাভাবিক। এর কারণে দলের মধ্যে বড় ধরনের কোনো সমস্যা কখনো তৈরি হয়নি।

ক্রাইম প্রতিদিন : আগামী নির্বাচনে এই গ্রুপিংয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে কি?

আলহাজ মো. দবিরুল ইসলাম : আওয়ামী লীগ নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল। দলে নিজেদের মধ্যে যেসব ছোটখাটো সমস্যা রয়েছে সেটা সংঘাতময় কিছু নয়। দলের বিপক্ষে কারো অবস্থান এমনটাও নয়। তাই নির্বাচনে নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়বে না।

ক্রাইম প্রতিদিন : বর্তমানে অনেক পুরনো ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের দলে দেখা যাচ্ছে না কেন?

আলহাজ মো. দবিরুল ইসলাম : পুরনো নেতাদের অনেকের বয়স হয়েছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনেকে রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় নন। তবে তাঁদের মৌন সমর্থন রয়েছে। অনেকে দলের খোঁজখবর নেন। আর জেলা কমিটিসহ অন্য যে অঙ্গসংগঠনগুলো রয়েছে সেগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে পাওয়া আর না পাওয়া নিয়ে ছোটখাটো যে সমস্যা রয়েছে তা সমাধানের চেষ্টা চলছে। অনেক কিছুর সমাধান এরই মধ্যে হয়ে গেছে। দল বর্তমানে পুরোপুরি সক্রিয় এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত।

ক্রাইম প্রতিদিন : কী ধরনের প্রস্তুতি?

আলহাজ মো. দবিরুল ইসলাম : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জেলার তিনটি আসনের তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে দেশপ্রেম রয়েছে। তারা নিজের দলকে ভালোবাসে, দেশকে ভালোবাসে। তাই যেকোনো সময়ে দেশের স্বার্থ রক্ষায় নেতাকর্মীরা নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দলের হয়ে কাজ করে। আর এ জন্যই স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত এই জেলায় বারবার আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক বিজয়ী হয়ে আসছে।

ক্রাইম প্রতিদিন : আগামী নির্বাচনে ফলাফল কী হতে পারে?

আলহাজ মো. দবিরুল ইসলাম : আওয়ামী লীগ সাড়ে ৯ বছর ধরে ক্ষমতায়। এই সময়ে সারা দেশে যে উন্নয়ন করা হয়েছে তা অবিস্মরণীয়। তারই ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁওয়েও ব্যাপক উন্নয় হয়েছে। সাধারণ মানুষের যে মৌলিক চাহিদা খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও শিক্ষা তার সব কিছু বর্তমান সরকার পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই জেলার সাধারণ মানুষ এবারও বিপুল ভোটে শেখ হাসিনার নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করবে।

ক্রাইম প্রতিদিন : বিএনপি মহাসচিব এই জেলায় নির্বাচন করলে তার প্রভাব কি ভোটারদের মধ্যে পড়তে পারে?

আলহাজ মো. দবিরুল ইসলাম : এই জেলার সাধারণ মানুষ শান্তিপ্রিয়। তারা সংঘাত ও নৈরাজ্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাসীদের দল। বিএনপি ও জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকার সময় মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারেনি। এ জন্য তারা এই জেলার শান্তিপ্রিয় মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের বাড়ি ও তার নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও হলেও তিনি নির্বাচন ক্ষেত্রে কখনো এখানে সুবিধা করতে পারেননি। আগামী দিনেও পারার সম্ভাবনা নেই। আগামী নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী যে-ই হোক, এই জেলার মানুষ আবারও বিপুল সমর্থন দিয়ে শেখ হাসিনার নৌকাকে ক্ষমতায় নিয়ে আসবে।