Home / খেলাধুলা / তরুন উদীয়মান ক্রিকেটার হাসান, হতে পারে বিশ্বসেরা বোলার

তরুন উদীয়মান ক্রিকেটার হাসান, হতে পারে বিশ্বসেরা বোলার

ক্রাইম প্রতিদিন, ফরহাদ হোসেন, লক্ষ্মীপুর : হাসান মাহমুদ (রাব্বি)। তরুন উদীয়মান ক্রিকেটার। স্মিথ রান আপের ডান হাতি ফাস্ট বোলার। আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের নেশা আছে তার চোখে মুখে। বোলিংয়ের হাসান মাহমুদের মুল শক্তি হচ্ছে গতি। এই বয়সেই ১৪০ কি.মি. গতিতে বল করে ফেলেছেন তিনি। তার গতির সাথেও বলের উপর নিয়ন্ত্রন অন্যদের থেকে তাকে আলাদা করেছে।

ঊনিশ না পার করা ছেলেটি বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটের গন্ডি ছাড়ানোর আগেই খেলে সিনিয়র ক্রিকেট। গত মৌসুমে জাতীয় ক্রিকেট লীগে (এনসিএল) চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে প্রথম শ্রেনীর খেলার অভিষেক হয়েছে তার। বর্তমান যুব বিশ্বকাপেও ভালো সফলতা অর্জন করেছে। সঠিক যতœ পেলে হয়তো আগামীর তারকা ফাস্ট বোলারে পরিনত হবে এমনটাই ভাবনা হাসান মাহমুদের বন্ধু ও নিজ জেলাবাসীর।

হাসানের বন্ধু মেহেদী হাসান সানি বলেন, এই জেলা ক্রিকেট একাডেমী নানা সমস্যায় জর্জরীত। উন্নত ড্যাসিং রুম, প্রিমিয়ার লীগ ও নেই প্যাকটিসের জন্য পিচ। ম্যাডেই প্যাকটিস করতে হয় তাদের। যার ফলে জেলার বাইরে কোথাও খেলতে গেলে নানা সমস্যা ভোগতে হয় তাদের। বিশেষ করে ফাস্ট বোলাররা। রয়েছে কোচ সংকটও, একজন কোচ দিয়েই চলে প্যাকটিস। এছাড়াও নানা সমস্যায় রয়েছে ক্রিকেট একাডেমীর কার্যক্রমে।

কিন্তু হাসান এত সমস্যার মাঝেও নিজেকে ধরে রেখেছে। সে নিয়মিত প্যাকটিস করেছে। যে কিছু সময় প্যাকটিস হতো তাতে অনেক মনোযোগী থাকত সে।
সানি হাসান মাহমুদকে নিয়ে নিজের ভাবনা বলেন, হাসানের বর্তমান অবস্থা জাতীয় দলের অনেক বোলারের চেয়ে ভালো। সে যদি আরো মনোযোগী ও কঠোর পরিশ্রম করে যায় এবং ক্রিকেট ফেডারেশনের সঠিক যতœ পায় তবে সে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাবে। বিশ্বমানের ফাস্ট বোলারে রুপান্তরিত হবে।

হাসান মাহমুদকে নিয়ে তরুণ সমাজের ভাবনা সম্পর্কে বলেন জেলা শহরের বাসিন্দা ত্বকি উদ্দিন আকরাম। তিনি বলেন, হাসান নিজের একক প্রচেষ্টায় আজকের এই সফলতা অর্জন করেছে। তবে সাফল্যের চূড়ায় পৌছলে পৃথিবী জুড়ে লক্ষ্মীপুরের সুনাম বৃদ্ধি পাবে। সে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছতে তার আরও অনেক পরিশ্রমী ও মনোযোগী হতে হবে। এজন্য নিজস্ব প্রচেষ্টার পাশাপাশি পৃষ্টপোষকতার ও প্রয়োজন আছে। তাই হাসানের এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে কোন ধরনের পৃষ্টপোষকতার প্রয়োজন হলে তা লক্ষ্মীপুর জেলার হাজারো তরুণ করবে।
হাসানকে নিয়ে তরুণদের স্বপ্ন জানান, হাসান তার বর্তমান অবস্থা ধরে রাখলে এবং সঠিক যতœ পেলে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাবে। বিশ্ব মানের ক্রিকেটার হবে। বিশ্ব দরবারে লক্ষ্মীপুরকে নয় বাংলাদেশকে আলোকিত করবে।

ছোটবেলা থেকেই হাসানের মাঝে অসাধারন প্রতিভা ছিল। তার রান আপ, রিলিজ, বোলিং স্পাই, ফলো থ্রো ও আউট সোয়িং খুব ভালো। তাই বর্তমানে সে সফলতা অর্জন করছে। তার বোলিংয়ের প্রশংসা করে ভবিষ্যত স্টার লিখে #ঋঁঃঁৎব ঝঃধৎং #ট১৯ ঈডঈ টুইট করেছে ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক আইসিসি। হাসানের বন্ধু ও হাসপাতাল রোড ক্রিড়া সংঘের সহকারি অধিনায়ক জয়নাল আদেদিন ফিরোজ এমনটিই বলেন।

ফিরোজ আরো বলেন, জোরে বল করা ফাস্ট বোলারদের লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্যেই হাসান বল করে যাচ্ছে। গতির সাথে বলের উপর নিয়ন্ত্রনও ভালো আছে তার। সে আরো কঠোর পরিশ্রম করলে ও সঠিক যতœ পেলে অল্প সময়েই জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাবে। সে শুধু দেশে নয় বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করবে। সে অপেক্ষায় জেলাবাসী ও ক্রীড়া সংস্থা।

জেলা ক্রিকেট একাডেমীর ও তার প্রিয় কোচ মো. মনির হোসেন বলেন, একাডেমীতে ভর্তী হওয়ার পর হাসানের মাঝে ধারুণ এক প্রতিভা দেখতে পায়। তাই তাকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষন দিয়েছি। বর্তমান তার সফলতায় খুবই আনন্দিত। তার গন্তব্য স্থানে পৌছতে হলে আরো কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তবে নিজের সফলতার জন্য নিজেই বেশী যতœবান হতে হবে।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 4
    Shares