Home / সারাদেশ / তাহিরপুরের লাউড়েরগড়-সুনামগঞ্জ সড়কে দূর্ভোগ চরমে

তাহিরপুরের লাউড়েরগড়-সুনামগঞ্জ সড়কে দূর্ভোগ চরমে

সবুজ হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর,সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ন লাউড়েরগড়-সুনামগঞ্জ সড়কে চরম দূভোর্গ পোহাচ্ছে দুটি উপজেলার ৫লক্ষাধিক জনসাধারন। সংস্কার না হওয়ায় এই গুরুত্বর্পূন সড়কটি বর্তমানে দুটি উপজেলাবাসীর গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সদরের আব্দুর জহুর সেতু থেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ,ধনপুর মাছিমপুর,পুরান লাউড় সড়কে র্দীঘ কয়েক বছর ধরে সড়কের নাম মাত্র সংস্কার করায় ২০টি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরছে।

এর ফলে প্রতিদিন ঘটছে নানা রখম দূর্ঘটনা। আগামী ১৪মার্চ পর্নর্তীথ মেলা ও ১৫মার্চ শাহ আরেফিন (রাঃ) ওরস শুরু হবে। দূভোর্গের শেষ থাকবে না মেলায় আগতদের। জানাযায়,তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়েরগড় বাজার থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার এটিই একমাত্র সড়ক। এই সড়ক দিয়ে সারা বছর পাশ্বভর্তি বিশ্বাম্ভরপুর উপজেলা দিয়ে জেলা সদরের সাথে প্রতিদিন যাতায়াত করছে স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ ৫লক্ষাধিক জনসাধারন। সম্পতি এ সড়কের চালবন পয়েন্ট থেকে পলাশ,ধনপুর থেকে মাছিমপুর হয়ে লাউড়েরগড় বাজার সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের দু-পাশের ছোট ছোট কালভাটের সংযোগের মাটি সড়ে গেেেছ।

প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় চরম দূর্ভোগের মধ্য দিয়ে জীবনের ঝুকিঁ মটরসাইকেল,সিএনজি,বাস,প্রাইভেটকার,টমটমে যাত্রী ও স্থানীয় জনসাধরন চলাচল করছে। এছাড়াও এই সড়ক দিয়েই বর্তমান সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের বড় বড় কর্মকর্তাগনসহ হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীরা আসছেন যাদুকাটা নদী,শাহ আরেফিন(রাঃ) মাজার,শিমুল বাগান,বারেকটিলা,ট্যাকেঘাট,টাংগুয়ার হাওর,হিন্দু সম্প্রদায়ের পনতীর্থ অদৈর্ত বাড়ী (রাজারগাঁও),বিন্নাকুলী বাজাওে আসছে। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী টমটম,সিএনজি,লাইটেসের চালকগন বলেন,তাহিরপুর উপজেলায় পর্যটন সমৃদ্ধ টাংগুয়ার হাওর থাকায় দেশ,বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক ও পাশ্বভর্তি জামালগঞ্জ,বিশ্বাম্ভরপুর উপজেলা থেকে এবং আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের জনসাধারন বেড়াতে প্রতিদিন বিভিন্ন পরিবহনে আসছে। এসড়কে ট্রাক,হোন্ডা,সিএনজি,টমটম সহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলের পরিমান দিন দিন বেড়েছে। এই ভাঙ্গাচুরা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে গাড়ির অনেক ক্ষতি হয় আর যাত্রীরাও কষ্ট করে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী বলেন,এই সড়ক দিয়ে যাত্রী পরিবহন ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন মালামাল সড়ক পথে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে নিয়ে আসছে আর এখানকার বালি,পাথর নিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন যানবাহনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সড়ক ভাঙ্গাচুরা থাকার কারনে গাড়ী আসতে চায় না বেশি টাকা বাধ্য হয়ে দিতে হয়। ফলে পরিবহনে খরচের পরিমান বেড়ে যায়।

এ সড়কে চলাচল কারী যাত্রীগন,বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং বেড়াতে আসা পর্যটকগন বলেন,এই এলাকার সাথে জেলা সদরের যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য গুরুত্বপূর্ন এ সড়কের লাউড়েরগড় থেকে পলাশ ইউনিয়নের হয়ে সুনামগঞ্জ সদর পর্যন্ত সড়কের এই বেহাল অবস্থা খুবে দুঃখ জনক। এই ভাঙ্গা সড়কের চলতে গিয়ে শরীলের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়,সময় বেশি লাগে আর ভাড়াও বেশি দিতে হয়। অদ্বৈত্য প্রভু জন্মধামের পরিচালনা কমিটির রাজারগাঁও(লাউড়েরগড় নবগ্রাম) সভাপতি করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল জানান,গুরুত্বপূর্ন এই সড়কটির প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় ও বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না থাকার কারনে আমরা সবাই দূর্ভোগ পোহাচ্ছি। সড়কটি ভাল ভাবে মেরামত করা খুবেই প্রয়োজন। এই অবস্থায় সড়ক দিয়ে চলাচলকারী সর্ব স্থরের জনসাধরনের মাঝে চরম ক্ষোব বিরাজ করছে।

শাহ আরেফিন(রাঃ)ওরস উদযাপন কমিটির সফল সাথে ১৪বছর ধরে দায়িত্বে থাকা সাধারন সম্পাদক আলম সাব্বির জানান,আমি বার বার এই সড়কের বিষয়টি জেলা মিটিংয়ে আলোচনা করেছি কিন্তু কোন লাভ হয় নি। ১৫মার্চ শাহ আরেফিন (রাঃ) মাজারে ওরস ও মেলার এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের পর্নর্তীথ ১৪মার্চ। সড়কটি মেরামত না করার ফলে এবার আগত বক্ত ও দর্শনার্থীদের দূর্ভোগের শেষ থাকবে না। তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইড) আলমগীর হোসেন বলেন,আমরা বিন্নাকুলি থেকে লাউড়েরগড় পর্যন্ত সড়কের কাজ করছি। আর লাউড়েরগড় থেকে বিশ্বম্বরপুর উপজেলার পূর্বে আমাদের অংশে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ তৈরী করে উর্ধবতন কতৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান,গুরুত্বপূর্ন এসড়কটি কে সময় উপযোগী সংস্কার করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ না নেওয়ায় উপজেলাবাসী ও এই উপজেলায় আসা সর্বস্থরের জনসাধারন খুব কষ্টে আছে। এখন দুই ধর্মেও দুটি মেলাও এসেছে দূর্ভোগ পোহাবে আগতরা। আমি এই বিষয়টি নিয়ে সবার সাথে কথা বলব।

Print Friendly, PDF & Email

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 2
    Shares