তেল-চিনির দাম বেড়েছে

ক্রাইম প্রতিদিন, ঢাকা : আসছে অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের সপ্তাহের মাথায় আমদানি করা চিনি ও সয়াবিন তেলের পাশাপাশি ডিম, আদা ও রসুনের দাম বেড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৬ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্যাকেটজাত চিনি ৫৮ টাকা থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি দুই থেকে চার টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নতুন করে বাড়েনি।

রাজধানীর মালিবাগ বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, খোলা চিনি ও সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। আর অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম গত সপ্তাহের মত অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ১৩ জুন জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেন। এতে অন্য কিছু জিনিসের সঙ্গে চিনি ও ভোজ্য তেলের আমদানি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।
কারওয়ান বাজারের বিক্রেতা ইয়াকুব বলেন, বাজেট ঘোষণার পর দুয়েকটা জিনিসের দাম একটু বেড়েছে। পণ্যের আমদানি খরচ বেশি হলে দেশের বাজারে এর দাম বাড়বেই।

এদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারগুলোতে রসুন, আদা ও মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে।

রসুনের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে অন্তত ২০ টাকা দাম বেড়েছে। আমদানি করা প্রতি কেজি রসুন ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি রসুন মানভেদে ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।

সেগুনবাগিচা কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী মো. আল আমিন বলেন, “রসুনের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। পাইকারি বাজারেই রসুনের কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। যে কারণে আমাদেরকে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে পেঁয়াজের দাম বাড়েনি।”

এছাড়া গত সপ্তাহের চেয়ে মুরগির ডিমের দাম হালিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে এখন ৩৫ টাকা থেকে ৩৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগি কেজিতে পাঁচ টাকা কমে এখন ১৩৫ টাকা থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে মাছ, মাংস ও শাক-সবজিসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম স্থিতিশীল রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন।

সরু চাল ৫০ থেকে ৫৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। নাজির ও মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকা থেকে ৫২ টাকায়। এছাড়া পাইজাম ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা এবং মোটা চাল ৩৫ টাকা থেকে ৩৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

রামপুরা ‘মা চাল বিতানের’ স্বত্বাধিকারী মো. হাফিজুল বলেন, “গত দুই সপ্তাহ আগেই চালের দাম বেশ কমেছে। এখন নতুন করে আর কোনো চালের দাম কমেনি, বাড়েওনি।”