Home / এক্সক্লুসিভ / থানায় প্রকাশ্যে চলছে ঘুষ বাণিজ্য!

থানায় প্রকাশ্যে চলছে ঘুষ বাণিজ্য!

ক্রাইম প্রতিদিন, সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী : নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানায় চলছে প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্য। এ থানায় দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকেই এমন অপরাধ করেছেন যা জেলার সর্বত্র প্রমাণ সহ ছড়িয়ে পড়েছে। গোপন সূত্রে জানা গেছে যে, অনেক অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার জন্য নানা অপকৌশল অবলম্বন করে।

রায়পুরা থানার এমনই দুই কর্মকর্তার নাম হল- এসআই তারেক চন্দ্র শীল এবং সেকেন্ড অফিসার আল-মামুন। তাদের অপকর্মের কথা আর গোপন নেই। কারণ তাদের অপকর্ম বর্তমানে বিভিন্ন সাইটে ছড়িয়ে পড়েছে।

খবর পাওয়া গেছে যে, এসআই তারেক চন্দ্র শীল এবং সেকেন্ড অফিসার আল-মামুন রায়পুরার নিরীহ বাসিন্দা রফিকুলের কাছ থেকে নগদ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও থামেনি। বরং তারা রফিকুলের কাছ থেকে আরো ঘুষ চায় নতুবা রফিকুলকে বিভিন্ন মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেবার হুমকি দেয়। আর একথাগুলো রফিকুল গণমাধ্যমকে জানায়।

রায়পুরা থানার পুলিশ প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়াতে সাধারণ জনগণ তাদের আইনি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রায়পুরা থানার এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার ঘুষ নেওয়ার কারণে যারা অপরাধ করে তারা ছাড়া পেয়ে যাই। নরসিংদীতে একের পর এক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে রায়পুরা থানার এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। এই দুই পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত অপরাধের দায় এসে পড়ে পুরো পুলিশ বাহিনীর উপর। তবে এ দুই পুলিশ কর্মকর্তা কেন হঠাৎ করে এমন ঘুষ খাওয়া শুরু করল এর উত্তর খুঁজছেন সংশ্লিষ্টরা। অতীতেও এমন ঘটনা অনেক ঘটেছে এ থানায়।

রায়পুরা থানার এই দুই পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। থানায় দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে কর্মরত এসআই তারেক চন্দ্র শীল ও সেকেন্ড অফিসার আল-মামুন নিরীহ মানুষকে ধরে এনে অর্থ বাণিজ্যে লিপ্ত রয়েছে।

এক গোপন সূত্রে জানা যায় যে, এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই কর্মকর্তাদের এসব কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষ পুলিশের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে।
শুধু তাই নয়, প্রতিদিন শহর ও গ্রামাঞ্চল থেকে সামান্য কারণ ও ঠুনকো অভিযোগে সাধারণ মানুষকে ধরে এনে অমানবিক নির্যাতন চালায় এবং ব্যাপক অর্থ বাণিজ্য করে বলে রফিকুল জানায়।

এসআই তারেক চন্দ্র শীল অবৈধ মালামাল ও আসামি ধরে রাস্তায় চুক্তি ও সমঝোতা করে সেখান থেকে তাদের ছেড়ে দিচ্ছে। এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে গোপন স্থানে ১/২ দিন রেখে দিয়ে চুক্তি করে পরে মোটা অংকের ঘুষে তুষ্ট হয়ে তাদের ছেড়ে দেয় বলে সূত্র জানায়।

রফিকুল সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত আসামি ধরে এই দুই কর্মকর্তা অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে থানা হাজতে রেখে দেয়। গভীর রাতে তাদের সঙ্গে চুক্তি করে অনেককে ছেড়ে দেয়।

রায়পুরা থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন এ বিষয়ে কোন কথা না বলে তিনি পাশ কাটিয়ে চলে যান।

অপরদিকে এড. হাসানুল হক বলেন এসমস্ত অনিয়মের কারণে মানুষের পুলিশের প্রতি আস্থা দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে এর প্রভাব পুরো পুলিশ বাহিনীর উপর পড়ছে। তাই এখনি সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের উচিত তাদের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 154
    Shares