Breaking News

দবিরুল দম্পতির ভাগ্য ফেরালেন পেয়াজের বীজ

ক্রাইম প্রতিদিন, মোঃ মজিবর রহমান শেখ, ঠাকুরগাঁও : বাড়ীর পাশে ৪২ শতক মাটিতে গত চার বছর যাবৎ উৎপাদন করে আসছেন পেয়াজের বীজ। পরিবারের চারজন সদস্য মিলে পরিশ্রম করে মাত্র চারমাসে এই বীজ উৎপাদন করে তিনগুণ লাভ পাচ্ছেন । আর এ পেয়াজের বীজ উৎপাদন করেই ভাগ্য খুলেছে কৃষক দবিরুল ইসলামের । উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাঁও জেলায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ধনতলা ইউনিয়নের ঠুমনিয়া গ্রামের প্রয়াত আব্দুলের ছেলে দবিরুল ইসলাম। গত চার বছর ধরে সপরিবারে কাজ করে উৎপাদন করছেন পিয়াজের বীজ। সম্প্রতি কথা হয় এই দম্পতির সাথে। দবিরুল ইসলাম জানান, জায়গা জমি বেশি না থাকার কারণে কোনমতে সংসার চলছিল তার। ৪ বছর আগে বাড়ীর পার্শ্বে ৪২ শতক জমিতে রাজশাহীর এক বীজ কোম্পানী তাকে বীজ উৎপাদনের জন্য প্রস্তাব দেন। প্রথম বছরেই সফলতার মুখ দেখেন তিনি। তিনি জানান, আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান মিলে পরিশ্রম করি পেয়াজ উৎপাদন কাজে। জমি প্রস্তুত করার পর অগ্রাহায়ণ মাসের শেষ থেকে পৌষের এক সপ্তাহের মধ্যে জমিতে কোম্পানীর দেয়া বীজ রোপন করি। বীজ থেকে পেয়াজের গাছ বের হবার পর শুরু হয় পরিচর্যা। শীতে তেমন কোন ক্ষতির আশংকা নেই এ পেয়াজের বীজ উৎপাদনে। গাছ বড় হওয়া শুরু হলে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে ফুল বের হতে শুরুকরে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত এ ফুলে হাত বুলিয়ে হলুদ রঙয়ের ফুল ঝড়িয়ে দিলে ফলন ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। ৪২ শতক জমিতে পেয়াজ ও বীজ উৎপাদনে খরচ হয় ২৫-৩০ হাজার টাকা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোন ক্ষতি না হলে পেয়াজ ও বীজসহ উৎপাদিত ফসল বিক্রি হয় প্রায় ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। যা উৎপাদন খরচের প্রায় তিনগুণ। রাজশাহীর একটি কোম্পানীর সাথে চুক্তি করা আছে দবিরুল ইসলামের। তারাই বীজ সরবরাহ করে এবং উৎপাদিত পেয়াজের বীজ কিনবে। প্রথম বছরে প্রতিমণ বীজের মুল্য ১ হাজার টাকা দিলেও গত দু বছর ধরে সেই বীজের দাম দিচ্ছে ৮’শ টাকা হারে। দবিরুলের স্ত্রী মরিয়ম বেগম জানান, চার বছরের মধ্যে স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তর থেকে কোন সহায়তা পাননি তারা। সরকারি ভাবে পেয়াজের বীজ উৎপাদনে প্রশিক্ষণ, সহায়তা পেলে বাণিজ্যিকভাবে বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের ইচ্ছা আছে তাদের। দবিরুলের পেয়াজের বীজ উৎপাদন করে সফলতা দেখে এ বীজ উৎপাদনে এগিয়ে আসতে চান ওই এলাকার অন্যান্য কৃষক। স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তর পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা করলে ঐ এলাকায় পেয়াজ ও বীজ উৎপাদন করে দেশের কৃষিতে গুরুত্ব ভূমিকা রাখবে। এমনটাই প্রত্যাশা ওই এলাকার কৃষকদের।
ধনতলা ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হেনরী বলেন, কৃষক দবিরুল পেয়াজের বীজ উৎপাদনে কোন সহযোগিতা চাননি। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা সাফীয়ার রহমান ও পাড়িয়া ইউয়িনের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, পাড়িয়া ইউনিয়নে এক একর জমিতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় প্রথম বারের মত পেয়াজের বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং বাজারজাতকরণের জন্য প্রদর্শনী করা হয়েছে। পাড়িয়া ইউনিয়ন থেকে ১ কিলোমিটার পশ্চিমে এ প্রদর্শনীর দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন কৃষক সফিকুল ইসলাম এবং সিরাজুল ইসলাম নামে দুই কৃষক। কৃষক দবিরুলকে সব ধরণের পরামর্শ এবং সহায়তার করার আশ্বাস দিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ শাফীয়ার রহমান জানান, কৃষক দবিরুল চাইলে কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ভাবে পেয়াজের বীজ উৎপাদন করতে পারেন। এ জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ থেকে বাজারজাত করণ পর্যন্ত পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি সহায়তা করবে।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন