Home / ক্রাইম প্রতিদিন / দুই সন্তানের জননী মাহমুদাকে যৌতুকের দাবিতে মধ্যযুগীয় নির্যাতন!

দুই সন্তানের জননী মাহমুদাকে যৌতুকের দাবিতে মধ্যযুগীয় নির্যাতন!

ক্রাইম প্রতিদিন : শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগদগে ক্ষত চিহ্ন। ছোপ ছোপ রক্তাক্ত দাগ। পিঠে হাতে লাঠি দিয়ে পেটানো আঘাতের চিহ্ন। পায়ে ধারালো দায়ের কোপের ক্ষত চিহ্ন। যৌতুকলোভী, মাদকাসক্ত পাষন্ড স্বামী মুছা ফরাজী মধ্যযুগীয় কায়দার এমন নির্যাতনের ব্যাথায় এপাশ ওপাশ করতে পারছেন না গৃহবধু মাহমুদা বেগম(২১)। অনাগত ভবিষ্যতের চিন্তায় হাসপাতালের বিছানায় দুই মাস ১৫ দিনের কন্যা সন্তান মরিয়মকে বুকে আগলে অঝোরে চোখের পানি ঝড়াচ্ছেন।

কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের ছোনখোলা গ্রামে (০৬জুন) বুধবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় কলাপাড়া বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাসিষ্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের ৪/৩ ধারায় স্বামী মুছা ফরাজীসহ চার জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন ওই গৃহবধূ। মামলার বিবরনে জানা যায়, উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের ছোনখোলা গ্রামের মৃত ছালাম ফরাজীর ছেলে মুছা ফরাজীর সাথে একই ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের নাজির উদ্দিন শরীফের মেয়ে মাহমুদা বেগমের আনুমানিক চার বছর আগে ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মাথায় তাদের ঔরষে পুত্র সন্তান আব্দুল্লাহ ও দুই বছরের মাথায় কন্যা সন্তান মরিয়ম জন্মগ্রহন করে। মাহমুদা তার পরিবার এবং প্রতিবেশি সূত্র জানায়, বিয়ের পর থেকেই মাদকাসক্ত মুছা ফরাজী বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে মাহমুদাকে মারধর করত। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সবকিছু সহ্য করে মাহমুদা তাদের দাম্পত্য জীবন চালাতে থাকে।

সর্বশেষ (০৬) জুন মুছা ফরাজী মাহমুদার কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। মাহমুদা যৌতুকের দাবিকৃত টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর শুরু করে। কাপুলার কচা (লাঠি) দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। মুছা ফরাজীর বড় ভাই রহমান ফরাজী ও বড় বোনের ছেলে জুয়েল সিকদার চুলের মুঠি ধরিয়া কিল, ঘুষি লাথি মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে চাপাফুলা জখম করে এবং ঘর থেকে এক কাপড়ে বড় সন্তান আব্দুল্লাকে রেখে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।

উপায়হীন হয়ে ছোট ভাই আসাদ শরীফকে খবর দেয়। আসাদ এসে তার বোনকে মারধরের কারন জানতে চাইলে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা আসাদকেও মারধর করে গুরুতর জখম করে।হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রনা কাতর পাংশু মুখ নিয়ে মাহমুদা বেগম এ প্রতিবেদকে জানান, কোন স্বামী তার স্ত্রীকে এভাবে বড় ভাই আর বোনের ছেলেকে নিয়া মারধর করতে পারে আমার জানা ছিলনা। আর যেন কোন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এরকমের না হয়। আমি তার কঠিন বিচার চাই। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মুছা ফরাজীর কাছে বার বার ফোন দিলে তার মুঠো ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মুছার বড় ভাই রহমান ফরাজী মারধরের সত্যতা স্বীকার করে এবং নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, মাহমুদা আমার ছোট ভাইয়ের বউ। ছোট বোনের মত। ঘটনার সময় ধান ক্ষেতে ছিলাম। শেষ পর্যায় এসে মারধর থামিয়ে দিয়েছি।

লালুয়া ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মহসিন জানান, এ নিয়ে সালিশ বৈঠক করলেও মারধরের ঘটনা থেকে সরে আসেনি মুছা। আমি খবর নিয়েছি সর্বশেষ ঘর আটকিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে মাহমুদাকে। পরে মাহমুদার ভাই ঘটনার কারন জানতে চাইলে তাকেও মারধর করা হয়। এছাড়া প্রতিবেশিরা মারধর থামাতে গেলে কয়েকজন আহত হয়।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 8
    Shares