Home / সারাদেশ / দুর্নীতির অভিযোগে ফরিদগঞ্জে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে কাউন্সিলরদের অনাস্থা

দুর্নীতির অভিযোগে ফরিদগঞ্জে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে কাউন্সিলরদের অনাস্থা

ক্রাইম প্রতিদিন, মো. শফিকুর রহমান, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর : ফরিদগঞ্জ পৌর সভার মেয়র মো. মাহাফুজুল হকের বিরুদ্ধে ৯ জন কাউন্সিলর অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন। কাজ ছাড়াই পৌরসভার ফান্ড থেকে বিলত্তোলন, মাদকের সাথে জড়িত থাকা, দুর্নীতি, অনাচার, অর্থ ও নারীলোভ, অসদাচরণসহ নানা অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল ২০১৮খ্রি.) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কাউন্সিলররা মেয়রের বিরুদ্ধে এই অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট এবং ইলেক্টিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পৌর শহরের ডাকবাংলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলররা জানিয়েছেন, পৌরসভার ৯ জন কাউন্সিলরের স্বাক্ষরিত এই অনাস্থা প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রী বরাবরে গত ২২ এপ্রিল ২০১৮ খ্রি. প্রেরণ করা হয়েছে। এবং এর অনুলিপি স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রনালয়, স্থানীয় এমপি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখসচিব, জেলা প্রশাসক ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারীরা হচ্ছেন পৌর সভার প্যানেল মেয়র-১ ও কাউন্সিলর মো. খলিলুর রহমান, প্যানেল মেয়র-২ ও কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন, কাউন্সিলর মো. জামাল উদ্দিন, মো. ইসমাইল হোসেন সোহেল, মো. হারুনুর রশিদ, মো. মহসিন, মো. মুজিবুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর কুলসুমা বেগম, ফাতেমা বেগম। এছাড়া প্যানেল মেয়র ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর খতেজা বেগম আলেয়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এসময় কাউন্সিলররা সাংবাদিকদের করা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জবাব দেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. খলিলুর রহমান বলেন, মেয়র মাহাফুজুল হক পৌর সচিবের সহযোগীতায় নিজেই একক সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে পরিষদ পরিচালনা করে আসছেন। পৌর সচিব খোরশেদ আলম ২০০১ সাল থেকে ফরিদগঞ্জ পৌর সভায় চাকুরী করে যাচ্ছেন। এছাড়া মেয়র সাহেব নিজের একক সিদ্ধান্তে সঙ্গীয় লোক দ্বারা উন্নয়ন কাজ করে সকলের অজান্তে বিল উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে বহু কাজ না করে বিল উত্তোলন করার নজির রয়েছে।

কাজ না করে টাকা উত্তোলন সর্ম্পকে কয়েকটি রাস্তার বিবরণ উল্ল্যেখ করে প্যানলে মেয়র মো. খলিলুর রহমান বলেন, পৌর সভার ১ নং ওয়ার্ডের চরবসন্ত মাদরাসার নিকট থেকে প্রতিবন্ধী অফিস পর্যন্ত রাস্তা, ৯নং ওয়ার্ডের চরকুমিরা মহিলা মাদরাসা রাস্তা, ১নং ওয়ার্ডের ফরিদগঞ্জ চান্দ্রা রাস্তার পলোয়ান বাড়ির নিকট হতে কড়ৈতলী রস্তা পাকাকরণ, ৯নং ওয়ার্ডের পশ্চিম চরকুমিরা হাজী বাড়ির পুকুরে পাড়ের গাইড ওয়াল নির্মান কাজ না করে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এনিয়ে পৌর ইঞ্জিনিয়ার বিল দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মেয়র বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। বর্তমানে টেন্ডার ছাড়াই পৌরসভার অসংখ্য কাজ মেয়র তার নিজ সঙ্গীয় লোক দিয়ে করাচ্ছেন।

বিভিন্ন ভাতার কার্ড বিতরণে অনিয়ম প্রসঙ্গে প্যানেল মেয়র বলেন, সরকার প্রদত্ত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ভি.জি.এফ. কার্ডসহ টি.আর কাবিটা প্রকল্প থেকে উপস্থিত কাউন্সিলররা বঞ্চিত। এসকল কার্ড কাউন্সিলরদের দিয়ে বিতরণ না করে মেয়র নিজ সঙ্গীয় লোক দিয়ে বিতরণ করেন।

কাউন্সিলরদের সম্মানিভাতা প্রদান প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমাদের মাসিক সম্মানিভাতা প্রদানের সময় অবৈধভাবে সৃজনকৃত রেজুলেশনে স্বাক্ষর নেওয়া হতো। আমরা স্বাক্ষর দিতে না চাইলে অথবা প্রতিবাদ করলে আমাদের শারিরীক নির্যাতন, গালিগালাজ, হুমকি-ধামকি দিতো মেয়র। শুধু মাত্র আমরা নয়, মেয়ররের রোষানল থেকে সমাজের অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি ও রেহাই পায় নাই। পৌর কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাহার অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলে মেয়র ও তার লোকজন পৌর কর্মকর্তা, কর্মচারীদের লাঞ্চিত হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলো। তার ভয়ে পৌর ইঞ্জিনিয়ার মহোদয় ও ব্যাপকহারে ছুটি কাটাচ্ছেন।

মেয়র সাহেবের এই সকল কর্মকান্ড দ্বারা সরকারের ভাবমূতি ক্ষুন্ন হচ্ছে মনে করে খলিলুর রহমান আরো বলেন, পৌরবাসী অবহেলিত ও তার দ্বারা চরমভাবে অপমানিত হচ্ছে। আনিত অভিযোগ সমূহ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা প্রমানিত হবে। পৌর পরিষদ সুষ্ঠু সুন্দরভাবে পরিচলানার স্বার্থে উপস্থিত সকল কাউন্সিলর তার অপসারন দাবী করেন বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলরদের আনিত অভিযোগ সর্ম্পকে পৌর মেয়র মো. মাহাফুজুল হক বলেন, অভিযোগকারী কাউন্সিলররা জনগনের স্বার্থে নয়, নিজেদের স্বার্থে সম্মানি ভাতা পাওয়ার জন্য আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।

এছাড়া পৌর নির্বাচনে যারা শেখ হাসিনার দেওয়া নৌকার বিরোধীতা করেছিলো তারাই আবার কাউন্সিলরদের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। যদি তদন্তে অভিযোগের সামান্যতম অংশও প্রমানিত হয় তবে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে চলে যাবো।

এদিকে কাউন্সিলররা মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছেন এমন সংবাদ পৌর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শহরবাসীর মধ্যে নানা ধরনের গুঞ্জন সৃষ্টি হয়।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 11
    Shares