Home / বাংলাদেশ / রাজনীতি / নির্বাচন পেছানোর দাবি বি ‍চৌধুরীর

নির্বাচন পেছানোর দাবি বি ‍চৌধুরীর

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানোর দাবি জানিয়েছে সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট।

বৃহস্পতিবার বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান বি চৌধুরী এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখ ১৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৬ নভেম্বর, যাচাই-বাছাই ২২ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৯ নভেম্বর ও প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ৬ ডিসেম্বর করারও আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বি চৌধুরী বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে আমরা গভীর অভিনিবেশে পর্যবেক্ষণ করছি। কিন্তু সার্বিক বিবেচনায় মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় অত্যন্ত কম মনে হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণ, যাচাই-বাছাই, সাক্ষাৎকার গ্রহণ কঠিন হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সৎ ও সুশীল প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়ার প্রয়োজনে আমরা মনে করি- মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখ একসপ্তাহ পিছিয়ে ১৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৬ নভেম্বর করা হোক। নির্বাচনের প্রতিটি পদক্ষেপ জনস্বার্থে নেয়ারও আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিকালে নির্বাচন ভবনে বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে।

দফাএগুলো হচ্ছে-

১. সমস্ত জাতি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। *নির্বাচনকমিশনের Constitutional and Conscience আপনাদের প্রয়োগ করতে হবে। তবে এটা করতে ব্যর্থ হলে জাতি আপনাদের ক্ষমা করবে না।

২. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা অকারণে বিলম্ব হলে জাতির মধ্যে সংশয়, বিভ্রান্তি ও হতাশার সৃষ্টি হবে- যা কোনোক্রমেই কাম্য নয়।

৩. জাতির প্রত্যাশায় যাতে কোনোরকম অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব না হয়- সেটা দেখা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

৪. জনগণের এই সময়ের অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবির প্রতি যুক্তফ্রন্টের নিরঙ্কুশ সমর্থন রয়েছে।

৫. সরকার বা অন্য কোনো জোটের চাপ বা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করলে- নির্বাচন কমিশন মাথা নত করবে না এটা যুক্তফ্রন্ট ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

কারণ: ক) নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার পর শতভাগ মাননীয় রাষ্ট্রপতির অধীন।

খ) নির্বাচনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কর্মচারীদের নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ করতে হবে।

গ) তফসিল ঘোষণার পর এমপিগণ সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো প্রকল্প উদ্বোধন/প্রতিশ্রুতি যাতে না দিতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মন্ত্রী ও এমপিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করতে হবে।

ঘ) সরকারি দলের প্রার্থীদের বিল বোর্ড, ব্যানার, পোস্টার অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার আগামী ২৩ ডিসেম্বর ভোটের দিন রেখে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৯ নভেম্বর, বাছাই ২২ নভেম্বর এবং প্রত্যাহার ২৯ নভেম্বর। তার ২৪ দিন পর ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।

৩০০টি আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচনে এবার ভোট দেবেন ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ ভোটার।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 18
    Shares