Home / সারাদেশ / নোয়াখালীতে মাদকে সয়লাব, ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে মহিলারাও

নোয়াখালীতে মাদকে সয়লাব, ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে মহিলারাও

ক্রাইম প্রতিদিন,সালাহ উদ্দিন সুমন,নোয়াখালী: মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হলেও নোয়াখালী জেলার চাটখিলে এর ব্যতিক্রম। এখানে মাদকে সয়লাব হয়ে আছে। ব্যবসাও চলছে জমজমাট। মাদক ব্যবসায়ীরা স্ব-স্থানে বহাল থেকে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, গাঁজা, মদসহ মাদকের বিভিন্ন সামগ্রী।

এ ব্যবসা খুবই লাভজনক হওয়ায় এর সাথে জড়িয়ে পড়ছে মহিলারা এবং ক্রমান্নয়ে এর ব্যবসায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে ২০ জন মাদকের পাইকার এবং ৬০/৭০ জন খুচরা ব্যবসায়ী রয়েছে এবং প্রতি সপ্তাহে কোটি টাকার মাদক বেচা কেনা হয়। আশংঙ্কাজনক হারে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ যুব শ্রেণি মাদকের নেশায় আসক্ত হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের থেকে নির্ধারিত হারে থানার শীর্ষ কর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তার চাঁদা আদায়ের কথিত অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, এখানে ২ জন স্থানীয় জন প্রতিনিধির আশির্বাদ পুষ্ট লোকজন এ ব্যবসা করছে। বিভিন্ন সময়ে মোটর সাইকেলে করে এ প্রতিনিধিদের সাথে এ মাদক ব্যবসায়ীদের শো-ডাউন করতে দেখা যায়। চাটখিলে শংকরপুর পোদ্দার বাড়ীর, খিলপাড়ার আমতলা, পশ্চিম দেলিয়াই, দেলিয়াই বাজার, পৌরসভার মনগাজী বেপারী বাড়ী, হাজী বাড়ী, ১১নং পোল, পাঁচগাঁও মোস্তান নগর, কলেজ রোড, পাল্লা বাজার মোড়, বানসা, ধন্যপুর, খেজুর তলা, সিংবাহুড়া, শোল্লা, বারইপাড়া, শাহাপুরের সোমপাড়া পালের বাড়ী, শাহাপুর কাজী বাড়ী, পশ্চিম শ্রী নগর হাসপাতাল রোড সহ অন্তত ২৫-৩০টি স্থানে মাদক বেচাকেনা হয়। মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে শংকরপুরের রুবেল, সবুজ, মমিনপুরের কামরুল, সোমপাড়ার সুজাইর উল্লেখ যোগ্য। তাছাড়া আফজাল হোসেন শান্ত, মাউল্লা সুমন, মিন্টু কালাম, সুমন, শাকিল, শাহিন, শ্যামল, চান্দু কামাল, কাইয়ুম, তানসেন, কবির, সজিব, দিলিপ, সাজু, লিটন, কমল, রতনসহ ৬০/৭০ জন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। পাইকার মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র।

চাটখিলের খিলপাড়া-ইটপুকুরিয়া সড়কের ওলি উল্লাহ মৃধার বাড়ীর দরজা থেকে মৃধা বাড়ীর দরজা পর্যন্ত রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসে থাকে মহিলা সহ মাদক ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন স্থান থেকে সিএনজি, রিক্সা, মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা এখানে এসে মাদক নিয়ে যায়। এখানে ৪ জন মহিলা ও অন্তত ১০ মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে।

এ মহিলারা বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক আনা নেওয়া করে। শংকরপুর গ্রামের রুবেল ও সবুজ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মাদকের চালান এনে পাইকারী ব্যবসা করছে। এদের রয়েছে বিশাল সিন্ডিকেট। এরা মাসিক নির্ধারিত হারে ভাতা দিয়ে লাইনম্যান সহ ১০/১৫ জন কে এ ব্যবসায় ব্যবহার করেছে। এ ২ জনের কাছে বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানীর শতাধিক সিমকার্ড রয়েছে।

এদের বাহিরে গিয়ে কেউ এ ব্যবসা করলে অথবা তাদের নিকট থেকে বেরিয়ে গেলে তাদেরকে আটক করে নির্যাতন করে থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এরা প্রকাশে অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে। গত ২/৩ বছরে মাদকের ব্যবসা করে এরা কোটিপতি ও অনেক সম্পদের মালিক হয়েছে। থানার ১ জন এস আই যিনি এ দীর্ঘ ৯ বছর এখানে কর্মরত রয়েছেন তার সাথে এদের যোগাযোগ রয়েছে।

এ এস আই প্রতি মাসে এদের কাছ থেকে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা নেয়। এর ভাগ পায় থানার শীর্ষব্যক্তি। চাটখিলে মাদক ব্যবসায়ীদের ঘনঘন মোটর সাইকেল পরিবর্তন করতে দেখা যায়। কয়েক জন মাদক ব্যবসায়ী প্রতিনিয়ত থানায় আড্ডা দিতে এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে সক্ষতা করতে দেখা যায়। মাদক নির্মূলে থানা পুলিশ মাঝে মধ্যে বিশেষ অভিযান চালালেও মূল মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার না করে মাদকসেবনকারী সহ সাধারণ লোকজনকে আটক করে এবং অনেককে আটক করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আনোয়ার জানান, মাদক নির্মূলে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিনিয়ত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ও মাদক উদ্ধার এবং থানায় মামলা হচ্ছে। থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট চাঁদা আদায়ের অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 90
    Shares