সংবাদ শিরোনাম
Home / লিড নিউজ / নড়াইল কারাগারে হাজতির রহস্যজনক মৃত্যু!

নড়াইল কারাগারে হাজতির রহস্যজনক মৃত্যু!

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : নড়াইল জেলা কারাগারে আব্দুল করিম (২৬) নামে এক হাজতির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, ডান্ডাবেড়ি পরা এই হাজতি আত্মহত্যা করেছেন।

ডান্ডাবেড়ি পরানো অবস্থায় হাজতি কীভাবে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে- এই নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষও কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।

তবে এ ঘটনায় মাসুম বিল্লাহ সরদার নামে এক কারারক্ষীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার রাতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে অতিগোপনে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহত আব্দুল করিম লোহাগড়া উপজেলার কোলা গ্রামের সরোয়ারের ছেলে। তিনি দুটি বিচারাধীন হত্যা মামলার আসামি হয়ে ২০১৫ সাল থেকে নড়াইল কারাগারে রয়েছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কারাগারের ভেতরে হাসপাতাল ভবনের কলাপসিবল গেটে নিজ শরীরের শার্ট গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন হাজতি আব্দুল করিম। এ সময় অন্য হাজতিরা জেল পুলিশকে খবর দিলে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়া হলে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তা কারাগারের অন্য হাজতির বরাত দিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ১৩ মে হাজতি আব্দুল করিমের কাছে ঘুমের ট্যাবলেট পেয়ে তাকে লাঠিপেটা করে জোমাদ্দার তালেব ও একজন সুবেদার। এরপর তাকে কোর্টে হাজিরা দিতে আনা হয়।

১৪ মে তাকে আবারও লাঠিপেটা করে ওই দুজন। ওইদিনই তাকে ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়। ১৫ তারিখ রাতে আবারও তাকে পেটানো হয়। এ সময়ে সে অসুস্থ হলেও তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি কারা কর্তৃপক্ষ।

জেল সুপার মজিবুর রহমান মজুমদার জানান, ‘কয়েদিদের সঙ্গে গণ্ডগোল করায় ওই হাজতিকে জেলকোড অনুযায়ী শাস্তির জন্য ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়েছিল।’

কারাগারের অভ্যন্তরে সবার সামনে আত্মহত্যার ঘটনার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘সে নিজ শার্ট গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে মারা যায় সে।’

নড়াইল সদর হাসপাতালে ওই হাজতির লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা নড়াইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল-আমিন জানান, ‘লাশের শরীরের কিছু জায়গায় পুরোনো কাটা দাগ আছে, হাতের তালুতে ফোস্কা ও লাল দাগের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার শরীরে ট্যাটু আছে নানা জায়গায়। আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তা অনেক পুরাতন বলে মনে হয়েছে। তবে লাশের পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরানোর চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’

জেল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে নেয়ার পরে তার মৃত্যুর কথা বললেও সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মশিউর রহমান বাবু বলেন, ‘১৬ মে সকাল সাড়ে ৯টার পরে ওই হাজতিকে হাসপাতালে আনার পরে পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করা হলেও হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু ঘটেছিল।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 13
    Shares