পরিচয় জানা গেছে ভাইরাল অমানবিক ছবিটির

ক্রাইম প্রতিদিন : একজন সাদা চুলের বৃদ্ধের কাঁধে বসে আছেন এক যুবক। কানে মোবাইল ফোন। নির্বিকারভাবে সেই বয়স্ক লোকটির কাঁধে বসে থেকে ছবির জন্য পোজ দিলেন। ওদিকে শীর্ণকায় বয়স্ক মানুষটি যে যন্ত্রণায় অনেক কষ্ট পাচ্ছিলেন সেটা স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে। হাত দিয়ে ফ্লোরে ঠেস দিয়ে বসেছিলেন তিনি।

ছবিটি নিয়ে চলছে বেশ আলোচনা সমালোচনা। হমায়ুন কবির নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী তার ওয়ালে ছবিটি শেয়ার করেছেন। সেখানে বেশ উত্তপ্ত মন্তব্য করতে দেখা যায় তার ফেসবুক বন্ধুদের। মনজুরুল হাসান নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী সেখানে মন্তব্য করেন: ‘মানুষ নামের কলঙ্ক’।

হৃদি রুবি নামে একজন লিখেছেন, নৈতিক অবক্ষয়ের করুণ পরিনতি।। এরপরও সবাই ভাল স্কুল খোঁজে সন্তান ভর্তি করানোর জন্য যেখানে আদব কায়দা, বড়দের সম্মান, ছোটদের স্নেহ এবং ইতিবাচক মনোভাবের স্কুল খোলা জরুরী।।

ইয়াসমিন আহমেদ নামে অপর একজন মন্তব্য করেন: ‘ছোটলোক, ইতর’। মনিরুল ইসলাম মনির বলেন: ‘ভাই এদের হিতাহিত জ্ঞান বলতে কিছু নেই। মানুষ রূপে জানোয়ার।’

আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী তার ওয়ালে ছবিটি পোষ্ট দিয়েছেন এই ভাবে

নানাহ মানুষের নানা রকম মন্তব্যেে সমালোচনার জড় ছিল এই আইডিতেও।

যখন ফেসবুক জুড়ে আলোচনা সমালোচনার জড় শুরু হলো, ঠিক তখনি, ক্রাইম প্রতিদিন এর সম্পাদক ও প্রকাশক এ জেড এম মাইনুল ইসলাম (পলাশ) এর ওয়ালে ও দেখা গেল ভাইরাল ছবিটি নিয়ে একটি পোষ্ট যাহা ছিল নিম্মরুপ:-

দুঃখিত, নো ক্যাপশন। ছবি ফেসবুক ভাইরাল (সংগ্রহ)। এমন কেউ কি আছেন, এই ছবি বা ছবির ব্যাক্তি সম্পর্কে তথ্য দিতে পারবেন।

দ্বিতীয় আরেকটা পোষ্ট এ তিনি লিখেন:- ২৫ মে ৬:১৯ পিএম, আমি একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম, যাহা নিম্মরুপ :-
দুঃখিত, নো ক্যাপশন। ছবি ফেসবুক ভাইরাল (সংগ্রহ)। এমন কেউ কি আছেন, এই ছবি বা ছবির ব্যাক্তি সম্পর্কে তথ্য দিতে পারবেন।
২৬ মে ২:৫১ এএম, একজনের তথ্য সম্বলিত একটি ইস্কিন সর্ট পেলাম, জানি না সত্যতা কতটুকু। আপনারা যারা মঠবাড়ীয়া, বরিশাল বসবাস করেন তারা বলতে পারবেন। সুতরাং মঠবাড়ীয়া, বরিশাল বাসীর কাছে অনুরোধ সত্য / মিথ্যে তথ্য দিয়ে সাহায্য করবেন।
ইস্কিন শর্টের নাম দেখে, Facebook চার্জ করে আপনাদের সুবিধার্থে দুইটা ছবি ও দিলাম।
ভূল হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

ঐ পোষ্ট এ Md Mizan নামে মঠবাড়ীয়ার এক ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন:  এই কুকুর কে চাকরি থেকে বহিষ্কার করতে হবে। এবং তাকে কঠিন শাস্তি দিতে হবে। আসুন আমরা সবাই ওর মুখে পায়খানা করি।

অমানবিক এই ছবিটার ব্যক্তিটির পরিচয় জানা গেছে তবে ঘটনার শিকার বৃদ্ধের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

একটি বিশেষ সুত্র ক্রাইম প্রতিদিনকে জানান ছবিটিতে কানে ফোন নিয়ে বসে থাকা ব্যক্তি মঠবাড়িয়া পৌরশহরের ৫৬ নং মডেল সঃ প্রাঃ বিঃ প্রাধান শিক্ষক মাইনুল ইসলাম। ক্রাইম প্রতিদিন থেকে তার সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ফেসবুক আইডির সন্ধান পাওয়া গেছে।

এদিকে ফেসবুকে মাইনুল ইসলাম এর পরিচিত এক ব্যক্তি তার ফেসবুক ওয়ালে এই ছবিটি পোস্ট দিয়ে এটি মিথ্যা বলে দাবি করছেন। তার পোস্ট করা লেখাটি তুলে ধরা হলোঃ

এই ছ‌বিটা‌কে নি‌য়ে এত মাতামা‌তির কিছু ঘ‌টে‌নি।
এটা প‌রিস্কার যে ছ‌বিটা এ‌ডিট করা হ‌য়ে‌ছে। ম‌ডেল সরকারী প্রাথ‌মিক বিদ্যাল‌য়ের প্রধান শিক্ষক মাইনুল ইসলাম এতটা ব‌কে যায়‌নি যে একজন বৃদ্ধর পি‌ঠে বস‌বেন। তি‌নি একজন ভদ্র ও পর উপকারী মানুষ। সো এই ছ‌বি দে‌খে বিভ্রান্ত হওয়ার প্র‌য়োজন নেই।
‌বোঝাই যা‌চ্ছে যে মাইনুল ইসলা‌মের সামা‌জিক ভাবমূ‌র্তি ক্ষুন্ন করার জন্যই কে বা কারা ছ‌বি‌টি ভেইসবু‌কে ছ‌ড়ি‌য়ে‌ছে।
৯:২০ মি‌নি‌টে মাইলুল ভাই‌য়ের সা‌থে মু‌ঠো‌ফো‌নে এ বিষ‌য়ে কথা হ‌লে তি‌নি জানান, আমার সম্মানহা‌নি ঘটা‌নোর জন্য কোন মহল এ কাজ ক‌রে‌ছে। এ বিষ‌য়ে আ‌মি সাধারন ডা‌য়ে‌রি করার জন্য বর্তমা‌নে মঠবা‌ড়িয়া থানায় অবস্থান কর‌ছি।
‌তি‌নি আরও জানান, যে ই এটা ক‌রে থাকুক আ‌মি এর তিব্র নিন্দা জানাই ও ক‌ঠিন বিচার দাবীনকর‌ছি।
(‌বি:দ্র: সম্মা‌নের কথা ভে‌বে ছ‌বির মুখটা ঢে‌কে দেয়া হ‌লো)

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 19
    Shares