Home / বাংলাদেশ / জাতীয় / বিশেষ প্রতিবেদন / পাঁচ সিটিতে ভোটের পূর্ণ প্রস্তুতি

পাঁচ সিটিতে ভোটের পূর্ণ প্রস্তুতি

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন আটকে যাওয়ার পর সময় মতো পাঁচ সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠানে পূর্ণপ্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে মার্চ-এপ্রিলে গাজীপুর এবং মে-জুনের মধ্যে রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, সিলেট সিটিতে ভোটের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। তবে গাজীপুরসহ পাঁচ সিটিতেও একসঙ্গে ভোট করার কথাও ভাবছে কমিশন। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ এবং গাইবান্ধা-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনের জন্য ১৩ মার্চ দিন নির্ধারণ করেছে কমিশন। তাই এই দুই উপনির্বাচনের পাশাপাশি সিটি নির্বাচনের জন্য কাজ করছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন—নির্বাচন কমিশন সংসদের আগে পাঁচ সিটি নির্বাচন করে রাজনৈতিক দল ও জনগণের আস্থা অর্জন করতে চায়। তারা সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নভেম্বরের মাঝামাঝিতে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ডিসেম্বরের শেষে অথবা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে তারা। তবে তার আগে পাঁচ সিটি ও আটকে থাকা পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনও শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক এই সংস্থাটি। এক্ষেত্রে চলতি বছরের জুনের মধ্যে পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা নিয়ে পূর্ণপ্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে লড়াই হবে পাঁচ সিটির ভোটের মাঠে। জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকবে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ-বিএনপি। দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় সবার নজর থাকছে ভোটের দিকে। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচনকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক দলগুলো। এ নির্বাচন নৌকা-ধানের শীষের জন্য অগ্নিপরীক্ষা। জনগণের কাছে কোন প্রতীকের কেমন কদর তাও প্রমাণ হবে এ নির্বাচনে। তাই সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়নে ব্যাপক হিসাব-নিকাশ করছে প্রধান দুই দল। সেইসঙ্গে দুই দলের শরিকদের সঙ্গে চলছে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা। ভোট টানার চেষ্টায় মরিয়া দুই দল। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দলভিত্তিক সিটি নির্বাচনে মে-জুন মাসের মধ্যে ভোটগ্রহণের লক্ষ্য ধরে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছেন। কাল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ভোটারের সিডি প্রস্তুতির কাজ দ্রুত শেষ করবেন তারা। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। গাজীপুরের ভোট মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে করার পরিকল্পনা রয়েছে। মে-জুনে বাকি চার সিটি করপোরেশন একদিনেই করা যেতে পারে আগের মতোই। আবার পাঁচ সিটি একসঙ্গে করার প্রস্তাবও দিয়েছেন অনেক কর্মকর্তা। ইসির কর্মকর্তারা জানান, মে থেকে অক্টোবরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের অগ্রাধিকারমূলক কাজের চাপ থাকবে; নভেম্বর-ডিসেম্বরে তফসিলের আয়োজন চলবে। সেক্ষেত্রে জুনের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া সাপেক্ষে সিটি নির্বাচন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ চলছে। সিটি করপোরেশনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কার্যকাল দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সভা থেকে পরবর্তী ৫ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ছয় মাসের মধ্যে ভোট করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পাঁচ সিটির নির্বাচনের দিনক্ষণ : গাজীপুর সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ৬ জুলাই। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর। ৮ মার্চ থেকে নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সিলেট সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর। ১৩ মার্চ থেকে নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। খুলনা সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। ৩০ মার্চ থেকে নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। রাজশাহী সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর। এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ৫ অক্টোবর। ৯ এপ্রিল থেকে নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ৫ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। বরিশাল সিটিতে ভোট হয়েছে ২০১৩ সালের ১৫ জুন। প্রথম সভা হয় ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর। এ সিটির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ২৩ অক্টোবর। ২৭ এপ্রিল থেকে নির্বাচনের দিন গণনা শুরু হবে। আর ২৩ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে।

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 11
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.