পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারকে জাদুঘর বানাতে ৬০৭ কোটি টাকার প্রকল্প

ক্রাইম প্রতিদিন : পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারকে জাদুঘর করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ৬০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ইতিহাস, ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়ন’ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

এর ফলে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর, চার নেতার স্মৃতি জাদুঘর, ঢাকার মধ্যযুগের ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা, কারা অধিদপ্তরে জমির পরিকল্পিত ব্যবহার এবং পুরাতন ঢাকার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

একনেক সভা শেষে প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ইতিহাস, ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়ন প্রকল্পটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর পুরোটাই সরকারি অর্থায়ন। প্রকল্পটি কারা অধিদপ্তর এবং ই এন সিজ ব্রাঞ্চ, ওয়ার্কস ডাইরেক্টরেট, ঢাকা সেনানিবাস বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটি জুলাই ২০১৮ হতে ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত মেয়াদকালে বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্পটি সম্পর্কে জানানো হয়, বাংলাদেশে কারাগার প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ২৩০ বছরের। কেন্দ্রীয় করাগারটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতা এবং ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকারী দেশপ্রেমিক অসংখ্য বাঙ্গালীর ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত স্থান।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন হতে শুরু করে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত আন্দোলনকারী অসংখ্য দেশপ্রমিক এই কারাগারে কারাবরণ করেছেন।

কেন্দ্রীয় কারাগারটি ১৮০৬ সালে ২১.৯০ একর জমির উপর নির্মিত হয়। পুরাতন কারাগারটি জরাজীর্ণ এবং বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় ২০১৬ সালে ঢাকার কেরাণীগঞ্জ কারাগারটি স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে পুরাতন কারাগার এলাকাটি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।

পুরাতন ঢাকার এই কেন্দ্রীয় কারাগারটির সুদীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরা এবং কারাগার সংলগ্ন প্রায় ২১.৯০ একর সরকারি জমির পরিকল্পতি ব্যবহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়।

প্রকল্পটির আওতায় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও চার নেতা স্মৃতি জাদুঘর সংরক্ষণ; ৬ তলার মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স নির্মাণ, চক কমপ্লেক্স নির্মাণ, স্কুল নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ফুটপাত সংস্কার করা হবে।

আবারও ব্যয় বাড়িয়ে আবারও ব্যয় বাড়িয়ে ‘রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-২ (আরটিআইপি-২) ২য় সংশোধিত, প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ‘রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-২ (আরটিআইপি-২) ২য় সংশোধিত প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৮১৯ কোটি ৭০ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে জিওবি ১ হাজার ৭৮৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ৩ হাজার ৩৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

প্রকল্প ঋণ প্রদানকারী সংস্থা আইডিএ। এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক জুলাই ২০১২ হতে জুন, ২০২১ পর্যন্ত মেয়াদকালে বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্প এলাকা: ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ২২৪টি উপজেলা।

প্রকল্পের পটভূমির বিষয়ে জানানো হয়, ‘রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-২ (আরটিআইপি-২)’ শীর্ষক প্রকল্পটি মোট ৩৩৪৩.০৪৭৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই, ২০১২ হতে জুন, ২০১৭ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য ২০১২ সালের ৪ অক্টোবর একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে মোট ৩৩৩৬.১৯৪০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১২ সালের জুলাই হতে ২০১৮ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কর্তৃক ২০১৭ সালের ৪ জুন ১ম সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদিত হয়।

প্রকল্পের ঋণ চুক্তি বিলম্বে, ২০১৭ সালের বন্যা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রকল্প এলাকার ১৮টি জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ মিলিয়ন ইউএস ডলার অর্থ সাহায্যের প্রতিশ্রুতির কারণে আলোচ্য প্রকল্পটি মোট ৪৮২৬.১৫৬৬ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১২ সালের জুলাই হতে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশেষ সংশোধনের জন্য প্রস্তাব করা হলে গত ৫ আগস্ট পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

পিইসি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪৮১৯.৭০২২ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই, ২০১২ হতে জুন, ২০২১ মেয়াদে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আরডিপিপি পুনর্গঠন করে প্রেরণ করা হয়।

প্রকল্পটি গ্রহণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানানো হয়, টেকসই গ্রামীণ পরিবহন এবং বাজার সেবা প্রবর্তনের লক্ষ্যে ভৌত সমস্যা দূর করা এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার গুণগত মানোন্নয়ন করা এবং পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নের কার্যকর বিনিয়োগ ব্যবস্থা প্রবর্তনসহ দক্ষ পল্লী অকাঠামো ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা।

এছাড়া সুনির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে- পল্লী যোগাযোগ, টেকসই পল্লী পরিবহন ও বাজার সেবা বৃদ্ধি করা; পল্লী অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে দরিদ্র জনগণ বিশেষ করে দুঃস্থ মহিলাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা; সহজলভ্য, দক্ষ এবং চাহিদা মাফিক পল্লী পরিবহন ব্যবস্থার জন্য সুবিধাদির সৃষ্টি করা; সুশাসন ও দক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা; সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতে পাইলটিং করে সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা; জলাধার পুনরূজ্বীবিত করার লক্ষ্যে ড্রেজিং ও পলি অপসারণের কার্যক্রম গ্রহণ করা; প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এলজিইডিকে সহায়তা করা; আরটিআইপি-১ বাস্তবায়নে লব্দ অভিজ্ঞতার আলোকে সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কিত কার্যক্রম গ্রহণ করা; বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও বাজার ব্যবহারকারী বিশেষ করে দুঃস্থ মহিলাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা তৈরী করা এবং টেকসইভাবে গ্রোথ সেন্টার/বাজার রক্ষণাবেক্ষণের কৌশল/পদ্ধতি প্রবর্তনের চেষ্টা করা।

এ প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- উপজেলা সড়ক উন্নয়ন-৪৯৩.৩৩ কি.মি.; উপজেলা সড়কে ব্রীজ নির্মাণ-১৭২০.০০ মি.; ইউনিয়ন সড়ক উন্নয়ন-৪৩৩.৯৩ কি.মি.; ইউনিয়ন সড়কে ব্রীজ নির্মাণ-১০২১.০০ মি.; সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ-৪০৭৮.০৪ কি.মি.; পিবিএমসি-৪৫০.৪৯ কি.মি.; নদী পুনঃ খনন-৪৬.৯০ কি.মি.; গ্রোথ সেন্টার মার্কেট নির্মাণ-৩৭টি; জেটি/ঘাট নির্মাণ-১০টি; গ্রাম সড়ক ও অবকাঠামো-১৪৩৩.১২ কি.মি.।

আপনার মন্তব্য লিখুন
শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 14
    Shares
x

Check Also

স্ট্রোক করে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন খালেদা জিয়া : চিকিৎসক

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘মাইল্ড ...