Breaking News

প্রতীক পেয়েই শুরু প্রচারযুদ্ধ

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রতীক পেয়েই ভোটের লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন। ফলে শহর থেকে তৃণমূল সর্বত্রই বইছে নির্বাচনী হাওয়া। মূল সড়ক ও অলিগলিতে শুরু হয়েছে নৌকা-ধানের শীষের স্লোগান।

চায়ের দোকানের আড্ডার আলোচনায়ও নির্বাচন। সোমবার সকাল থেকে দেশের প্রতিটি সংসদীয় আসনে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতীক পাওয়ার পরপরই দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীরা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে মিছিল ও জনসংযোগে নামেন। দল মনোনীত প্রার্থীদের প্রতীক জানা থাকায় আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন নেতাকর্মীরা। ফলে তারা দ্রুত দলীয় প্রতীকের ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল নিয়ে প্রচার শুরু করেন। দলীয় প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র এবং বিদ্রোহীরাও প্রচারে নেমেছেন। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশেই শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার। একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ২৭২ এবং ধানের শীষ নিয়ে ২৯৮ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনশ’ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৫৮ প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। বাকি ৪২টি মহাজোটের শরিকদের ছেড়ে দিয়েছে দলটি। অপরদিকে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি ২৪১ প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের জন্য ৫৯টি আসনে ছাড় দিয়েছে দলটি। এর মধ্যে ২০ দলীয় জোটের শরিকদের ৪০ এবং ঐক্যফ্রন্টকে ১৯টি আসন দেয়া হয়েছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলেও এবার অন্যান্য বারের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ৩০০ আসনের বিপরীতে মোট মনোনয়নপত্র জমা পড়ে ৩ হাজার ৬৫। আসনপ্রতি গড় হিসাবে প্রার্থীর সংখ্যা ১০। তবে প্রাথমিক বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৭৮৬টি। নির্বাচন কমিশনের আপিলে সেখান থেকে বৈধতা পায় ২৪১ জন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, ৩০০ আসনে এখন প্রার্থী সংখ্যা এক হাজার ৮৪১। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০।

এদিকে দেশের বড় দুটি জোট আজকালের মধ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা। আগামীকাল নির্বাচনী জনসভা করতে টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে নামছে দলটি। চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সোমবার প্রচার শুরু করেছে বিএনপি। রাতে নির্বাচনী প্রচারে অডিও সিডি উদ্বোধন করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সিলেটে হজরত শাহজালাল ও শাহপরান (র.) মাজার জিয়ারত করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারে নামবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আগামীকাল তাদের সিলেট যাওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনায় সার্বিক বিষয় দেখভাল করতে ১৮টি উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ভোটের প্রচারে সবাইকে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়ে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, আমরা যেন ভোট দিতে পারি, আসুন আমরা সবাই উঠেপড়ে এই কাজে ব্যস্ত হয়ে যাই। আজকে থেকেই শুরু করুন- আমার ভোট আমি দেব, সংবিধান অনুযায়ী দেব। যেখানেই থাকেন রাস্তাঘাট, পাড়া-মহল্লায় নেমে পড়ুন। সবাইকে বলব- আসুন বাসায় বাসায়, বাড়ি বাড়ি যাই।

সোমবার সকালে নৌকা প্রতীক পেয়ে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী ও মহাজোটের শরিকরাও নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা শুরু করেন। এ সময় অধিকাংশ প্রার্থীর সঙ্গে মহাজোটের স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রচারণায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রাচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে আজ মঙ্গলবার উদ্বোধন করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এর উদ্বোধন করবেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম। এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন। পরদিন বুধবার থেকে নির্বাচনী সফর শুরু হচ্ছে। টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এ সফর শুরু করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টুঙ্গিপাড়া সফরের প্রস্তুতি সম্পন্নে অগ্রগামী টিম হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকালে সেখানে যাচ্ছেন বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত চার নেতা। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বিএম মোজাম্মেল হক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আবদুর রহমান বলেন, সকালে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে। আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম প্রচারণার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে সরকারের উন্নয়নের সচিত্র প্রতিবেদন, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হবে। সারা দেশে একইভাবে এই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা হবে। সরকারের উন্নয়ন বার্তা নিয়ে একটি বিশেষ টিম সারা দেশে সফর করবে। টুঙ্গিপাড়া সফর দিয়েই মূলত আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সফর শুরু করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সেখানে প্রধানমন্ত্রী ২টি জনসভা করবেন। একটি টুঙ্গিপাড়ায়, আরেকটি কোটালীপাড়ায়।

তিনি বলেন, টুঙ্গিপাড়া সফরের পর রংপুর অথবা সিলেট সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দেশের বেশ কয়েকটি জেলা ও বিভাগীয় শহরে নির্বাচনী জনসভা করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। সফরগুলো সড়ক পথে হবে। এজন্য প্রয়োজনী প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগরে ১৫ আসনে ১৩২ প্রার্থীর ৩০ প্রতীক

ঢাকা মহানগরের ১৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে রইলেন ১৩২ প্রার্থী। প্রতীক বরাদ্দের পর তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করে ঢাকা বিভাগীয় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।

তাদের অনুকূলে নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল, কাস্তে, গোলাপফুল, হাতপাখা ও মইসহ মোট ৩০টির অধিক প্রতীক বরাদ্দ দেন বিভাগীয় কমিশনার কেএম আলী আজম। শুরুতেই ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থীদের প্রতীক তুলে দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে বাকিরা প্রতীক গ্রহণ করেন।

ঢাকা-৪ আসনে ৯ জনের মধ্যে ৮ জন প্রতীক নেন। ঢাকা-৫ আসনে ১০ জন, ঢাকা-৬-এ ৮ জন, ঢাকা-৭-এ ১২ জনের মধ্যে ১০ জন, ঢাকা-৮-এ ১৪ জন, ঢাকা-৯-এ ৭ জন, ঢাকা-১০-এ ৬ জনের মধ্যে ৫ জন, ঢাকা-১১-এ ৮ জনের মধ্যে ৬ জন, ঢাকা-১২-এ ৬ জন, ঢাকা-১৩-এ ১০ জনের মধ্যে ৭ জন, ঢাকা-১৪-এ ৭ জন, ঢাকা-১৫-এ ১০ জনের মধ্যে ৬ জন, ঢাকা-১৬-এ ৭ জনের মধ্যে ৬ জন, ঢাকা-১৭-এ ১০ জনের মধ্যে ৮ জন এবং ঢাকা-১৮-এ ৮ জনের মধ্যে ৫ জন প্রতীক নিয়েছেন।

১৯ দিনের প্রচার শেষ হবে ২৮ ডিসেম্বর মধ্যরাত ১২টায়। ৩০ ডিসেম্বর ভোট। প্রতীক বরাদ্দ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা এম আলী আজম বলেন, সব দল ও প্রার্থীর ক্ষেত্রে একই আচরণবিধি পালন করা হবে। যারা আচরণবিধি ভঙ্গ করবেন তাদের জন্য আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা ও জেলের ব্যবস্থা রয়েছে। শাস্তি হবে অপরাধের ধরনের ওপর।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আচরণবিধি মনিটরিংয়ের জন্য প্রতিটি আসনে একজন ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনও কাজ করবে। পাশাপাশি দু’জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার রয়েছেন প্রতিটি আসনে। তারা সার্বক্ষণিক আচরণবিধি পরিপালনে সহায়তা করবেন।

ঢাকার উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১৭ আসনে লাঙ্গল প্রতীকে লড়বেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেন মুহম্মদ এরশাদ ও নৌকায় লড়বেন আকবর হোসেন পাঠান (ফারুক), ধানের শীষে আন্দালিব রহমান পার্থ। ঢাকা-১৮-তে নৌকায় সাহারা খাতুন ও ধানের শীষে শহীদ উদ্দীন মাহমুদ লড়ছেন। ঢাকা-১৬ আসনে নৌকায় ইলিয়াস মোল্লা ও ধানের শীষে আহসান উল্লাহ, ঢাকা-১৫-এ নৌকায় কামাল আহমেদ মজুদার ও শফিকুর রহমান ধানের শীষ, ঢাকা-১৪-তে নৌকার আসলামুল হক ও ধানের শীষে সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, ঢাকা-১৩-তে নৌকায় সাদেক খান ও ধানের শীষে আবদুস সালাম, ঢাকা-১২-তে নৌকার আসাদুজ্জামান খান ও ধানের শীষে সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা-১১-তে নৌকায় একেএম রহমতউল্লাহ ও ধানের শীষে শামীম আরা বেগম, ঢাকা-১০-এ নৌকায় ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও ধানের শীষে আবদুল মান্নান, ঢাকা-৯-এ নৌকায় সাবের হোসেন চৌধুরী ও ধানের শীষে আফরোজা আব্বাস, ঢাকা-৮-এ নৌকায় রাশেদ খান মেনন ও ধানের শীষে মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৭-এ নৌকায় হাজী মো. সেলিম ও ধানের শীষে মোস্তফা মহসিন মন্টু, ঢাকা-৬-এ ধানের শীষে সুব্রত চৌধুরী, ঢাকা-৫-এ নৌকায় হাবিবুর রহমান মোল্লা ও ধানের শীষে নবীউল্লাহ, ঢাকা-৪-এ ধানের শীষে সালাহউদ্দিন আহমেদ লড়ছেন।

এদিকে ঢাকা জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান ৫ আসনের প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক তুলে দেন। প্রথমে ঢাকা-১ আসনে ৮ জনকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম পান মটরগাড়ি ও নৌকা পান সালমান এফ রহমান। ঢাকা-২-এ ৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ইরফান ইকবাল ইবনে আমান অমি ধানের শীষ ও কামরুল ইসলাম নৌকা, ঢাকা-৩-এ ৭ প্রার্থীর মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ধানের শীষ, নসরুল হামিদ নৌকা, ঢাকা-১৯-এ ১০ প্রার্থীর মধ্যে দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ধানের শীষ, নৌকায় ডা. এনামুর রহমান, ঢাকা-২০-এ ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে নৌকায় বেনজীর আহম্মদ ও ধানের শীষে তমিজ উদ্দিন লড়বেন।

রিপোর্ট, ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নাটোর : লালপুর উপজেলার ত্রিমোহনীর স্কুল গেটের কাছে সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপি জোটের প্রার্থী মনজুরুল ইসলাম বিমলের গাড়িতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে বিমলসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মাইক্রোবাসটি ভাংচুর করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। বিমল জানান, তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। তিনি ভাবতেও পারেননি এ অবস্থায় হামলা চালানো হবে। এদিকে চারটি আসনের প্রার্থীরা প্রতীক পেয়েই আনন্দ মিছিলসহ নিজ নিজ এলাকায় চলে যান।

লালমনিরহাট : ধানের শীষ প্রতীকের লালমনিরহাট-৩ আসনে আসাদুল হাবিব দুলু শহরের মিশন মোড় থেকে প্রচারণা শুরু করেন। লালমনিরহাট-২ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী নুরুজ্জামান আহমেদ আদিতমারীর সাপ্টিবাড়িতে প্রচারণা শুরু করেন। লালমনিরহাট-১ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোতাহার হোসেন হাতীবান্ধার মিলন বাজারে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।

রংপুর : প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণা শুরু করেছেন জেলার ছয়টি আসনের ৪৩ প্রার্থী। প্রার্থী ও সমর্থকদের নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন রংপুরের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা জিএম সাহাতাব উদ্দিন।

কুড়িগ্রাম : চারটি আসনে ৩৬ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক হলরুমে প্রার্থীদের উপস্থিতিতে প্রতীক বিতরণ করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন। হাইকোর্টে আপিল করে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার মোটর গাড়ি (কার) প্রতীক পান।

গাইবান্ধা : রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক সেবাষ্টিন রেমা জানান, পাঁচটি আসনে ৩৮ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

জয়পুরহাট : নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে ব্রিফ করেন জেলা প্রশাসক। পরে তিনি ১১ প্রার্থীর হাতে প্রতীক তুলে দেন। প্রতীক পাওয়ার পরপরই প্রার্থীরা গণসংযোগ শুরু করেন। কর্মীরাও দল বেঁধে মাঠে নেমে পড়েন।

বগুড়া : সাতটি আসনে ৪৪ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। বগুড়া-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন হয়েছে। হাইকোর্টের আদেশে আদমদীঘি উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মহিত তালুকদার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় সংগঠন থেকে তাকে প্রার্থী করা হয়। তার ভাবি মাছুদা মোমিনকে সরিয়ে দেয়া হয়। বগুড়া-৭ আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী শাজাহানপুর উপজেলা চেয়ারম্যান সরকার বাদল হাইকোর্টের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পেলেও দল তাকে গ্রহণ করেনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : তিনটি আসনে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এজেডএম নূরুল হক। এর পর থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন প্রার্থীরা।

নওগাঁ : প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন।

রাজশাহী : প্রতীক নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে থেকেই প্রচারে নেমে পড়েন প্রার্থীরা। শুরু হয় হয় পোস্টার টানানো। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ওমর ফারুক চৌধুরী গোদাগাড়ীর গোগ্রাম ইউনিয়নে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। বিএনপির ব্যারিস্টার আমিনুল হক গোদাগাড়ী পৌর সদরে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করেন।

পাবনা : বিকাল থেকেই প্রার্থীরা প্রচারে নেমে পড়েন। শহর থেকে গ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে প্রচারণা। সকাল থেকেই বিভিন্ন প্রার্থীর কার্যালয়ের সামনে মাইক সজ্জিত যানবাহন রেখে দেন। পাঁচটি আসনে ২৫ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

যশোর : ছয়টি আসনে ৩৭ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণায় নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা। মাইকিং, পোস্টার ব্যানার, প্রচার মিছিল শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা ব্যাপক শোডাউনের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেছে।

মাগুরা : দুটি আসনের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রতীক সংগ্রহ করেই প্রচারণায় নেমে পড়েন প্রার্থীরা।

খুলনা : রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়েই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। প্রতীক পাওয়ার পর প্রার্থীদের ঘিরে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মিছিল শুরু করেন। খুলনায় বিএনপির প্রচার শুরু হয় কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয় থেকে। বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও রকিবুল ইসলাম বকু নেতাকর্মীদের নিয়ে মিছিলসহ এগিয়ে যেতে চাইলে দলীয় কার্যালয়ের অদূরে সদর থানার মোড়ে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে। পুলিশ জানায়, দুপুর ২টার পরে প্রচারে নামতে পারবেন। দুপুরের পর সব দলই প্রচারে নামেন।

পটুয়াখালী : চারটি আসনে ২০ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী। আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বরিশাল ও বাবুগঞ্জ : বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার নগরীর কাউনিয়ায় নিজ এলাকা থেকে প্রচার শুরু করেন। তিনি সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নে নির্বাচনী অফিসও উদ্বোধন করেন। নগরীর নিউ সার্কুলার রোডে বাসভবন থেকে প্রচারে নামেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহিদ ফারুখ শামীম। হাতপাখার প্রার্থী মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিমও অশ্বিনী কুমার হলের সামনে থেকে প্রচারে নামেন।

ঝালকাঠি : দুটি আসনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হামিদুল হক তার কার্যালয়ের প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের হাতে প্রতীক তুলে দেন।

টাঙ্গাইল : আটটি আসনে ৫১ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম।

শেরপুর : তিনটি আসনে ১২ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব প্রার্থীদের মাঝে এসব প্রতীক বরাদ্দ করেন। প্রতীক বরাদ্দের পরে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে প্রার্থীকে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর ত্যাগ করেন।

নেত্রকোনা ও কেন্দুয়া : নেত্রকোনা-৩ আসনে প্রতীক পেয়েই প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী অসীম কুমার উকিল। কেন্দুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পৌর শহরে মিছিল করে।

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জ-১ আসনে আনোয়ারুল হক এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সিংহ মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নৌকা প্রতীক না পেয়ে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে সিংহ প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

গাজীপুর : রিটার্নিং কর্মকর্তা পাঁচটি আসনে ৩২ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া দেয়ার পরই শুরু হয় প্রচার উৎসব। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেই প্রার্থীরা নিজ নিজ দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করে এলাকায় ছুটে যান।

নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লা : ওসমান ভ্রাতৃদ্বয়সহ নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে ৩৫ প্রার্থী প্রতীক পেয়েছেন। রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. রাব্বী মিয়া বলেন, আচরণবিধি মেনে প্রার্থীদের প্রচারণা চালাতে বলা হবে।

মাদারীপুুর : তিনটি আসনে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে একজন প্রার্থীর দলীয় মনোনয়ন সংক্রান্ত ঝামেলা হওয়ায় প্রতীক বরাদ্দ স্থগিত রাখা হয়।

সুনামগঞ্জ : পাঁচটি আসনে ৩২ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হয়েছে প্রচারণা। পাড়া-মহল্লায় বাজারে বাজারে পোস্টার লাগানো ও শুরু হয়েছে মাইকিং।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মঈন উদ্দিন মঈন। তিনি আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সহসভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার প্রতীক কলার ছড়ি।

কুমিল্লা : ১১ আসনে ৮৪ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল ফজল মীর। ১১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিয়েছে। বিএনপি ১১ আসনের মধ্যে ৮টিতে নিজেদের দলীয় প্রার্থী দিয়েছে। তিনটি আসন কুমিল্লা-৭ ২০ দলীয় জোটের এলডিপি প্রার্থী, কুমিল্লা-৪ ঐক্যফ্রন্টের জেএসডি প্রার্থী ও কুমিল্লা-১১ ২০ দলীয় জোটের জামায়াতকে ধানের শীষ প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর : চারটি আসনে ২৪ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেন জেলা প্রশাসনের হলরুমে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল তাদের প্রতীক বরাদ্দ দেন।

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক তথা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ১১৪ প্রার্থীর বিপরীতে বরাদ্দ করা হয়েছে নির্বাচনী প্রতীক। আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষ ছাড়াও শরিক দলের প্রার্থী ও অন্যান্য দলের প্রার্থীদের পছন্দ অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।

বান্দরবান : বান্দরবান ৩০০নং সংসদীয় আসনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রচারণায় আচরণবিধির কথাটি কর্মী-সমর্থকদের মাথায় রাখতে হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণায় নেমেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা। নৌকার পোস্টারও লেগেছে জেলা শহরের আনাচে-কানাচে। মাইকিং করছেন প্রার্থীরা।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন