Home / বাংলাদেশ / জাতীয় / অনুসন্ধান প্রতিবেদন / আবাসিক হোটেলে জমজমাট দেহ ও মাদক ব্যাবসা

আবাসিক হোটেলে জমজমাট দেহ ও মাদক ব্যাবসা

ক্রাইম প্রতিদিন : বর্তমানে বরিশাল নগরীর বান্দ রোড সাউথ কিংএর সামনে একটি প্রচলিত দৃশ্য, আপনি যদি মটর সাইকেলের কাজ করাতে এসে আবাসিক হোটেল আজের আশে পাশ্বে বা সামনে দাড়িয়ে থাকেন দেখবেন হোটেল আজের কিছু দালাল এসে আপনাকে বলবে, মামা কিছু লাগবে? স্কুলের ও কলেজেরও কচি মালের ব্যাবস্থা আছে, অপনার দরকার পড়লে বাসায় পাঠিয়ে দেয়ার ব্যাবস্থাও আমাদের এখানে আছে।

অনেকের কাছে আবার জোর করে দালাল তুহিন ও রাজু ভিজিটিং কার্ড দিয়ে দেয়। মূলত হোটেল আজে যেসব অসামাজিক কাজ চলে সেগুলোর চিহিত দালাল। কথায় আছে, মদ নারী তাস এই তিনে সর্বনাশ। আর এই সর্বনাশা খেলার অভয়ারন্য হল বরিশাল নগরীর আবাসিক হোটেল আজ। এসব আবাসিক হোটেলে সাজানো হচ্ছে নারী দেহের পসরা। প্রশাসনের এর নাকের ডগায় চলছে এমন রমরমা দেহ ও মাদক ব্যাবসা। বরিশাল নগরীর বান্দ রোর্ড এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে চলছে এসব রমরমা ব্যবসা। বরিশালের শীর্ষসন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি, মাদক ব্যাবসা, নারী ব্যাবসা নিয়ন্ত্রন করা হয় এই হোটের মালিক বাবু মাধ্যমে।

গ্রাম বা মফস্বল থেকে আসা সহজ সরল অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের তুলে এনে এসব কাজ করতে বাধ্য করাচ্ছে হোটেল আজের পতিতা সরদার বাবু । সাংবাদিকের ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে চাননা হোটেলের মালিক বাবু এবং ম্যানেজার তুহিন। এই চক্রের স্বীকার হয়ে দেহ ব্যাবসায় আসা নারীরা জানালেন তাদের করুন কাহিনী। বেশিরভাগ নারীর এ পেশায় আসার কারন হল ক্ষুধার জ্বালা। অনেকে নিজের অজান্তেই জড়িয়ে পড়ছে এসব অসামাজিক কাজে। নানান ভয় দেখিয়ে এসব হোটেল মালিক বাবু তাদেরকে ব্লাকমেইল করে যার কারনে তারা চাইলেও এই পেশা ছাড়তে পারছেন না। বরিশালে প্রায় ২৫-৩০ টি আবাসিক হোটেল আছে যার বেশিরভাগেই চলছে নানা অনৈতিক কর্মকান্ড। এসব হোটেল থেকে প্রতিমাসে থানা পুলিশ ,ফাঁড়ির পুলিশ পাচ্ছে মোটা অংকের টাকা। শুধু তাই নয় স্থানীয় ক্ষমতাসীন ব্যাক্তিরাও এসব হোটেলের অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত তাই একটি আবাসিক এলাকায় এই সব কার্যক্রম দিন দিন বেড়ে চরতে দেখেও তারা কোন প্রতিবাদ করছেনা। নষ্ট হচ্ছে এলাকার যুবক ছেলেরা।

বিভিন্ন সমস্যার মুখো মুখি হয়ে দাড়াচ্ছে ঐ এলাকার প্রায় ১ শতাদিক ব্যাবস্থায়ীরা । ব্যাবসায়ীরা জানায়, আমাদের কোন কাস্টমার দোকানে মটর সাইলের মাল মাল কিনতে এস দোকান বন্ধ দেখে দোকানের সামনে দাড়িয় থাকলে হোটেল আজের কিছু দালাল এসে তাদের বিভিন্ন ধরনের লোভ দেখিয়ে হোটেলের ভিতরে নেওয়ার চেষ্টা করে। এবং কি এই হোটেল আজের দিন রাত ২৪ ঘন্টাই দেহ ব্যাবসা, মাদক ব্যাবসা ও মাদক সেবনের কারনে আমারা একাদিক বার স্থানীয় কাউন্সল জয়নাল আবেদীনের কাছে অভিযোগ দিলেও তিনি কোন ব্যাবস্থা নেয় নি। তিনি উল্টো বলেন এই আবাসিক হোটেল আজটি আমার এটা বন্ধ করা যাবেনা।

আপনারা আপনাদের কাজ করতে থাকেন। এখানে কি না কি হয় সেটা দেখার আপনাদের কাজ না। শুধু দেহ ব্যাবসা নয় এই আবাসিক হোটেল আজে সাধারন বোর্ডারদের বিভিন্ন ফাদে ফেলে তাদের টাকা পয়সা ,মোবাইল হাতিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাইতো একা কোন ব্যাক্তি এসব আবাসিক হোটেলে ওঠা ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। আপনি হয়তো একা হোটেলে উঠেছেন, কিন্তু আপনার রুমে কোন মেয়ে মানুষ পাঠিয়ে দিতে আপনাকে ফাসিয়ে দিতে পারে। আর মান সম্মানের ভয় দেখিয়ে কেড়ে নিতে পারে আপনার সর্বস্ব । অন্য দিকে দেখা গেছে, ঐ এলাকার আশে পাশ্বে চারোদিকে হলো প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বাস বভন । তারা সারা দিনই এই রাস্তা থেকে চলাচল করে । তার পরও ঐ হোটেলটির সম্পর্কে পত্রিকার পাতায় দেখেও নিচ্ছেনা কোন ব্যাবস্থা । কারন তারা প্রতি মাসে সেখান থেকে মোটা অংকের অর্থ পাচ্ছে । হোটেলের পাশ্বেই রয়েছে একটি আল্লাহর ঘর যা আমরা বলে থাকি মসজিদ । সেখানে পওায় ১শ’ থেকে দেড় শো’ মুসল্লিরা প্রতিদিন নামাজ পড়ে।

মসজিদের মুসল্লিরা প্রতিবাদ করার পরও এখন পর্যন্ত বন্ধ হয়নি এই আবাসিক হোটেলটি। সূত্রে আরো জানা গেছে, হোটের মালিক বাবু সে বরিশাল শহরের চিহিত এক জন মাদক ও পতিতা ব্যাবসায়ী হিসেবে তাতে সবাই চিনে। তিনি বেশ কয়েক বার মাদক সহ পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। পতিতা ও মাদক ব্যাবসায়ী বাবুর বাসা হলো নগরীর ১০ নং ওয়ার্ড কেডিসি বস্তির ভিতরে। হোটেল মালিক বাবুর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানায় ,আপনারা মিডিয়াকর্মী যত পারেন তত আমার এবং আমার হোটেলের নামে লিখেন তাতে কিছুই আসে যায় না।

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.