Home / রাজনীতি / বিএনপিরও টাচে তারকারা, সময় হলেই চমক

বিএনপিরও টাচে তারকারা, সময় হলেই চমক

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : মাশরাফী-সাকিব রাজনীতিতে আসছেন- এই ঘোষণার পর বেশ সাড়া পড়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোও নড়েচড়ে বসেছে। আওয়ামী লীগের ভাষ্যে, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে তারা তরুণ ভোটারদের কাছে টানতে উইনেবল তারকাদের মনোনয়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।

বিএনপিও বসে নেই। ভোটের রাজনীতির সমীকরণ মেলাতে অনেক তারকাকেই টাচে রাখছেন। তবে দলটির ভাষ্যে, বিরোধী দলগুলোর জন্য বর্তমানে রাজনৈতিক বৈরি পরিবেশ বিরাজ করছে। এজন্য তারকারা সরাসরি বিএনপির ব্যানারে আসতে চাচ্ছেন না। তবে তারা কাজ করছেন, সময় হলেই চমক দেখা যাবে।

গত মঙ্গলবার একনেক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফী মোর্ত্তোজা এবং টেস্ট ও টি-২০ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।’

এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী মাশরাফী-সাকিব যে দলের হয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুন না কেন, তাদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

এরপর থেকে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় মাশরাফী-সাকিব ভক্তরা আলোচনা-সমালোচনায় মেতে উঠেছেন। কেউ তাদের পক্ষে মত দিচ্ছেন, কলুষিত রাজনীতিকে পরিশুদ্ধ করতে তাদের মতো লোকের দরকার আছে।

আবার অনেকেই বলছেন, তারা জাতির সম্পদ। এখনই বিতর্কিত এই পেশায় আসা উচিত হবে না। তা ছাড়া সামনে বিশ্বকাপ। তার আগেই নির্বাচন করা ঠিক হবে না।

তবে এই দুই ক্রিকেটার এখনও তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেননি। অবশ্য মাশরাফী বলেছেন, পরিকল্পনামন্ত্রীর ঘোষণা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। কিন্তু, মাশরাফীর বাবা আবার সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের প্রস্তাব দিলে তাদের পক্ষে না করা সম্ভব হবে না।

বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগ টানা ক্ষমতাসীন হওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তারা সহজেই তরুণ ভোটারদের কাছে টানতে তারকা ক্রিকেটার ছাড়াও সেলিব্রেটিদের ভোটের মাঠে আনার ঘোষণা দিতে পারছেন। খেলোয়াড়রা জাতির সম্পদ, তারা চাইলে যে কোনো দল করতে পারেন। এতে দোষের কিছু নেই।

বিএনপির নেতারা বলছেন, শুধু ক্রিকেটার নন, অনেক নামিদামি ফুটবলার ছাড়াও শোবিজের তারকারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আপাতত তাদের ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে। সময় হলে ডাকা হবে।

এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ক্রীড়াঙ্গনের তারকারা যতটা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, বিএনপিতে ততটা দেখা যায়নি। সত্তর দশকের তারকা ফুটবলার ছিলেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। মেজর হাফিজ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে এমপি ছাড়াও মন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছেন।

এরপর তারকা ফুটবলার সাব্বির, কাননসহ বেশ কয়েকজনকে বিএনপিতে দেখা গেছে। কিন্তু, তারা সেভাবে রাজনীতিতে নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি।

বর্তমানে মেজর হাফিজ ছাড়া বলার মত একজনই আছেন বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম। অন্যরা জড়িত হলেও সক্রিয় নেই। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ক্রিকেটারকে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হতে দেখা যায়নি।

অবশ্য বিএনপিতে সেলেব্রেটি অনেককেই দেখা গেছে। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, মনির খান ও আসিফ আকবর এখনো সক্রিয় রয়েছেন।

বিএনপিতে তারকা ক্রীড়াবিদদের আনাগোনা কম- এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘খেলাধুলা করছেন, এমন কেউ রাজনীতিতে আসুক, তা আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া যেমন চান না, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানও সমর্থন করেন না। তারা চান, খেলাধুলা শেষ করে চাইলে যে কেউই রাজনীতি করতে পারেন। তাদের জন্য বিএনপির দরজা সব সময় উন্মুক্ত।’

মাশরাফী-সাকিব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওরা তো এখনো মাঠে দারুণ খেলছে। সামনে বিশ্বকাপ। রাজনীতি নিয়ে তারা আসলে কি ভাবছে, তা দেখার বিষয়। কোনো দল চাইলে তাদের কাজে লাগাতে পারে। কিন্তু, তাদের তো আগে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে হবে।’

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের সঙ্গেও অনেক তারকা ক্রিকেটার, ফুটবলার ও সেলিব্রেটি যোগাযোগ করেছেন। আমরা তাদের ধৈর্য ধরতে বলেছি। কারণ, আমাদের জন্য এখন রাজনীতির বৈরি পরিবেশ চলছে। তারা চাইলেও রাজনীতিতে মনোযোগী হতে পারবেন না। তবে তারা একেবারে বসে নেই, বিএনপির নেপথ্য শক্তি হিসেবে কাজ করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি- আগে খেলাধুলা, পরে দলকে সময় দিতে। মাঠের খেলা ছাড়াও অবসরের পর তাদের টিম ম্যানেজমেন্টে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আগে সেসবে মন দিতে হবে। সময় হলেই এ বিষয়ে চমক দেখানো হবে।’

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 30
    Shares