বিএনপি-জামায়াতকে চিরতরে উপড়ে ফেলতে চাই : হানিফ

ক্রাইম প্রতিদিন, চট্টগ্রাম : বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য বিএনপি-জামায়াত ‘ক্যান্সারের মতো বিষফোঁড়া’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা বিএনপি-জামায়াতকে চিরতরে উপড়ে ফেলতে চাই।
শনিবার (১১ মে) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ জেলা, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমানকে যে কোনো মূল্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে জানিয়ে মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ‘পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে চাই- লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। খুনি, সন্ত্রাসী-দুর্নীতিবাজ তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে তার বিচারের রায় আমরা কার্যকর করব, ইনশল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘এই বিএনপি-জামায়াত হচ্ছে অশুভ শক্তি। এরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্যান্সারের মতো বিষফোঁড়া। মানুষের শরীরে যেমন ক্যান্সারের বিষফোঁড়া থাকলে, সেটা যতদিন অপসারণ করা না যায়, ততদিন তার জন্য ঝুঁকি থেকে যায়, এই বিএনপি-জামায়াতও যতদিন থাকবে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি থাকবে। এরা যতদিন থাকবে ততদিন বাংলাদেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করবে।’
হানিফ বলেন, ‘আজ সময় এসেছে। বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা বিএনপি-জামায়াতের মতো বিষফোঁড়াকে চিরতরে উপড়ে ফেলতে চাই। সেজন্য আমাদের তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হলে এই দেশ এগিয়ে যাবে। শেখ হাসিনা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এই দেশ এগিয়ে যাবে। বিএনপি-জামায়াত মুক্ত করে সোনার বাংলা আমরা গড়বই।’’

[penci_related_posts dis_pview=”yes” dis_pdate=”yes” title=”আরও পড়ুন…………..” background=”” border=”” thumbright=”no” number=”4″ style=”list” align=”none” withids=”” displayby=”cat” orderby=”rand”] নির্মাণাধীন কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতু নিয়ে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, ‘ফখরুল সাহেব বলেছেন, এই দুটি প্রকল্প নাকি জনগণের কোনো কাজে আসবে না। আসলে তাদের মানসিকতাই উন্নয়নবিরোধী। এসময় বিএনপি-জামায়াতের আমলের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে হানিফ বলেন, ‘তখন তো হাওয়া ভবন এবং তারেক রহমানকে কমিশন না দিয়ে কোনো ব্যবসা করা যেত না।’

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কি-না সেটা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে হানিফ বলেন, ‘ক্ষমতা দখল করে জিয়াউর রহমান সাড়ে ১১ হাজার যুদ্ধাপরাধীকে জেল থেকে ছেড়ে দিয়েছিলেন। যারা আমাদের বাড়িঘর লুটপাট করেছে, মা-বোনদের ধর্ষণ করেছিল, তাদের বিচার না করে কোনো প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কি ছেড়ে দিতে পারে? তিনি ক্ষমতা দখল করে একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। রণাঙ্গনের স্লোগান জয় বাংলা নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান-জিন্দাবাদের আদলে বাংলাদেশ-জিন্দাবাদ স্লোগান চালু করেছিলেন। কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী গোলাম আজমকে দেশে নিয়ে এসেছিলেন। জামায়াতকে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। এজন্যই বলছি, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কি-না সেটা নিয়ে সংশয় আছে।’
চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীমের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মতিন খসরু, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফজলে করিম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, দক্ষিণের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া চট্টগ্রামের সংসদ সদস্যদের মধ্যে নজরুল ইসলাম চৌধুরী, এম এ লতিফ, মাহফুজুর রহমান মিতা, ওয়াসিকা আয়শা খানম ও খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, কক্সবাজারের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল উপস্থিত ছিলেন।