Home / লিড নিউজ / ব্যবসায়ীকে ধরতে এসে বিক্ষোভের মুখে পুলিশ, এএসআইসহ প্রত্যাহার দুই

ব্যবসায়ীকে ধরতে এসে বিক্ষোভের মুখে পুলিশ, এএসআইসহ প্রত্যাহার দুই

ক্রাইম প্রতিদিন, যশোর : যশোরের চৌগাছায় ইয়াবা রাখার অভিযোগে সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে আটকের সময় অন্য ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে এএসআই কামরুজ্জামানসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান। চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন বলেছেন ওই ব্যবসায়ী বাপ্পী সেন একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদক মামলা রয়েছে। যার নং-৩, তারিখ ০৬.০৯.১৬।

মঙ্গলবার তাকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটকের চেষ্টা করলে সে পুলিশের হাত থেকে সটকে সে স্বর্ণপট্টিতে দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সে সময় পুলিশ তাকে আটক করতে গেলে তার সহযোগিরা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এএসআই কামরুজ্জামানকে আটকে রাখে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের স্বর্ণপট্টিতে সেনকো জুয়েলার্সের মালিক রবিন সেনের পুত্র রাজন সেন ওরফে বাপ্পি (২৭) এর কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট আছে বলে দোকান থেকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে চৌগাছা থানার এএসআই কামরুজ্জামান ও আকবর আলী এবং কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম। এসময় বাপ্পীর দোকান থেকে ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারী ইবাদত হোসেন ও যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান এ্যাডমিরালকে সংবাদ দেয়া হয়। তারা সেনকো জুয়েলার্সে থাকা অবস্থায় পুলিশের সাথে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে এএসআই কামরুজ্জামান নিজের পিস্তল বের করেন। তখন উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা দোকানের কলাপসিবল গেইট বন্ধ করে এএসআই কামরুজ্জামানকে আটকে ফেলেন। এএসআই আকবর এবং কনস্টেবল নাজমুল কোনক্রমে দোকান থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান। ঘটনা শুনে বাজারের শত-শত ব্যবসায়ী ওই দোকান ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকে। প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে চৌগাছা পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেলের সহায়তায় চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এএসআই কামরুজ্জামানকে উদ্ধার করে চৌগাছা থানায় নেয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিকভাবে নিজেদের দোকান বন্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। দুপুর দুইটার সময় চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে বাজারে মাইকিং করে অভিযুক্তদের প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বাজারের সকল দোকান অনির্দষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। এ রিপোর্ট লেখার সময় পুলিশের বিরুদ্ধে সমিতির সভাপতি এসএম শফিকুর রহমান, সেক্রেটারী ইবাদত হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমান এ্যাডমিরালের নেতৃত্বে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ মিছিল চলছিল।

চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারী ইবাদত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ঘটনায় সম্পৃক্তদের প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত চৌগাছা বাজার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন বলেন বাপ্পী সেন একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদক মামলা রয়েছে। যার নং-৩, তারিখ ০৬.০৯.১৬। মঙ্গলবার তার কাছে ইয়াবা আছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটকের চেষ্টা করলে সে পুলিশের হাত থেকে সটকে স্বর্ণপট্টিতে দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সে সময় পুলিশ তাকে আটক করতে গেলে তার সহযোগিরা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এএসআই কামরুজ্জামানকে আটকে রাখে। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান পিপিএম বলেন, অন্য একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে কনস্টেবল নাজমুলকে মঙ্গলবার সকালে ক্লোজড করা হয়েছে। স্বর্ণপট্টির ঘটনায় এএসআই কামরুজ্জামানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ব্যবসায়ী সমিতির দাবির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে ২০১৬ সালে চৌগাছা বাজারের আরেক সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীকে দোকানের মধ্যে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ায় এএসআই সিরাজসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৭ সালেও উপজেলার খড়িঞ্চা বাজারে ফেনসিডিল দিয়ে এক ব্যক্তিকে ফাঁসানোর ঘটনায় স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।-শীর্ষনিউজ

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 38
    Shares