Home / সারাদেশ / ভূরুঙ্গামারীতে চিকিৎসক সঙ্কটে স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত হাজার হাজার মানুষ

ভূরুঙ্গামারীতে চিকিৎসক সঙ্কটে স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত হাজার হাজার মানুষ

ক্রাইম প্রতিদিন, রবিউল আলম লিটন, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর চারটি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের সবকটি দিনের পর দিন বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্য সেবা বঞ্চিত গ্রামাঞ্চলের নি¤œ আয়ের হাজার হাজার মানুষ।

বন্ধ স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রগুলো হলো শিলখ্্্ুঁড়ী ইউনিয়নের শিলখুঁড়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র, চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের চর ভূরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র, বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের সোনাহাট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র এবং বলদিয়া ইউনিয়নের শাহীবাজার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র। দীর্ঘদিন যাবত স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলোতে চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় সেগুলো বন্ধ রয়েছে। এতে শিলখুঁড়ী, চর ভূরুঙ্গামারী, বঙ্গ সোনাহাট ও বলদিয়া ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ স্বাস্থ্য সেবার ন্যায় মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চিকিৎসা সেবার জন্য ১৫-২০কিমি দুরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তাদের একমাত্র ভরসা। শিলখ্ুঁড়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ। মূল ফটকের উভয় পাশে আবর্জনার স্তুপ। দিনের পর দিন বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির চার পাশ মলমূত্র ত্যাগের স্থানে পরিণত হয়েছে। দুর্গন্ধে নিঃশ্বাস নেয়া দায়। চর ভূরুঙ্গামারী, বঙ্গ সোনাহাট ও শাহীবাজার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গেলে সেগুলোতেও তালা ঝুলতে দেখা যায়।

সীমানা প্রাচীর না থাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমি বেদখলের পথে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য একজন করে মেডিকেল অফিসার, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিষ্ট ও অফিস সহায়কের পদ রয়েছে। বদলি ও অবসরজনিত কারণে প্রায় এক বছর যাবত শিলখূঁড়ী, সোনাহাট ও শাহীবাজার জনবল শূন্য অবস্থায় রয়েছে। চর ভরুঙ্গামারীতে শুধুমাত্র উপ-সহকারী কমিউনিটি অফিসার মেডিকেল অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন। শিলখুঁড়ী ইউনিয়নের আবু শামা, চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের মইনুল হক, বলদিয়া ইউনিয়নের শুক্কুর আলী ও রফিকুল জানান বড় ডাক্তার না থাকায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো বন্ধই থাকে। বাকি যারা আছেন তারা সপ্তাহে দুইদিন এক-দুই ঘন্টার জন্য হাসপাতাল খোলেন। দুপুরের আগেই বন্ধ করে চলে যান। এমতাবস্থায় উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষজন হাতুড়ে ডাক্তারদের দ্বারস্থ হয়ে উচ্চমূল্যে নি¤œ মানের ঔষধ কিনে প্রতারিত হচ্ছে। জানা গেছে, স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ২০ রকমের ঔষধ সরবরাহ করা হয়। অধিকাংশ সময় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় সরবরাহকৃত ঔষধ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিতদের। স্বাস্থ্য কেন্দ্র সচল রাখার দাবীতে মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে বলদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রগুলো বিষয়ে জানতে চাইলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, লোকবল স্বল্পতার কারণে স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত ভাবে স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। লোকবল স্বল্পতার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 47
    Shares