Home / লিড নিউজ / মহেশপুরে ইট ভাটা গুলোতে পুড়ানো হচ্ছে কাঠ : প্রশাসন নিরব

মহেশপুরে ইট ভাটা গুলোতে পুড়ানো হচ্ছে কাঠ : প্রশাসন নিরব

ক্রাইম প্রতিদিন, মহেশপুর (ঝিনাইদহ) : ঝিনাইদহের মহেশপুরে ইট ভাটা গুলোতে হাজার হাজার মন কাঠ পোড়ানো হলেও প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে ।স্বরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ইট ভাটাগুলিতে হাজার হাজার মন কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ভাটার মাটি সংগ্রহের সময় যান চলাচলের রাস্তায় মাটি ফেলা হচ্ছে। বর্ষা এলে এ সব মাটি ভিজে কাদার সৃষ্টি হবে এবং সে সময় সাধারণ মানুষ ও যানবাহনে দূরঘটনার কবলে পড়তে পারে। ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও মহেশপুরে হাওয়া ভাটা বাদে সব ভাটাতেই হাজার হাজার মন কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাটায় অভিযান চালানোর মত কোন ঘটনা দৃশ্যমান নয়। ফলেভাটা মালিক রা সরকারের আদেশ অমান্য করলেও কারো কোন মাথাব্যাথা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
ইট ভাটার অনুমোদন দেওয়ার জন্য সরকারের প্রথম শর্ত হচ্ছে কোন ভাবেই কাঠ পোড়ানো যাবেনা। সেখানে কি ভাবে ইট ভাটার মালিকরা সরকারের আদেশ বা নিদের্শ অমান্য করে কাঠ পোড়াচ্ছে তা সচেতন মহল বুঝতে পারছে না । ভাটাই কাঠ পোড়ানোর কারণে একদিকে উজাড় হয়ে যাচ্ছে আম,কাঠাল,জাম,লিচু,মেহগুনিসহ বিভিন্ন ধরনের বাগান। অন্যদিকে বিলুপ্ত হয়ে পড়ছে খেজুর বাগান।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অধিকাংশ ইট ভাটার মালিক লোকালয়ে এমানকি ফসলি জমির উপর অবৈধ্য ভাবে ইট ভাটা নির্মান করে হাজার হাজার মন কাঠ দিয়ে দেদারছে ইট পোড়ানোর কাজ চালিযে যাচ্ছেন। ফলে ভাটার কালো ধোয়ায় পরিবেশের ভারসাম্যের উপর মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে , হুমকির মধ্যে পড়ছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি।
মহেশপুর উপজেলায় প্রায় ২০ টি ইট ভাটা রয়েছে,সরকারি নীতিমালায় রয়েছে আধুনিক ইট ভাটা স্থাপন করতে হবে এবং কাঠের পরিবর্তে কয়লা দিয়ে ইট পোড়াতে হবে। কিন্তু কয়েকটি ভাটা মালিক তা মানলেও বাকিরা সরকারী আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরাতন ফিট চিমনি পদ্ধতিতে প্রতিদিন হাজার হাজার মন কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্কুল,কলেজ, হাসপাতাল এমনকি সড়কের ৩ কিলো মিটারের মধ্যে ভাটা স্থাপন করা যাবে না,এ ধরনের সরকারী আইন থাকলেও অধিকাংশ ভাটার মালিক তা তোয়াক্কা করে না। ফলে ভাটার বিশাক্ত ধোয়া ,ভাটার কাজে চলিত ফিটনেছ বিহিন গাড়ির কালো ধুয়া ও ধুলা বালিতে সৃষ্টি হচ্ছে নানা রোগব্যধি। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে বলেন, ইট ভাটা তৈরির কারনে যেমন আবাদী জমি নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ইট পোড়াতে ফলজী,বনজী ও ওষধি গাছ সহ নানা প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে ।
মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নাসির উদ্দিন জানান ভাটার বিশাক্ত ধোয়া, ধুলা বালিতে পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে এবং সাধারনত শিশুরা ঠান্ডা কাশি নিউমোনিয়া রোগে আক্রন্ত হয়। অনেক সময় রোগীরা মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।
সিটি গোল্ড ইট ভাটার ম্যানেজার বলেন ভাটা সংক্রান্ত ব্যাপারে কিছু জানতে হলে আপনি র‌্যাডো ভাটার মালিক আব্দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করুন । তিনি আরো বলেন তিনি মহেশপুর উপজেলার ১১টি ভাটা নিয়ন্ত্রন করেন। প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সাথে তিনিই কথা বলে থাকেন।
কাঠ পোড়ানোর ব্যাপারে র‌্যাডো ভাটার মালিক আব্দুর রহমান জানান বাঁশের মোথা ,খেজুর গাছের মোথা সহ ফার্নিচারের কাজে লাগে না এ ধরনের উচ্ছিষ্ট কাঠ পোড়ানোর নির্দেশ আছে। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাঠ পোড়ানো যাবে না এমন কোন নির্দেশ দেননি।
এ ব্যাপারে জলিলপুর-নস্তী সড়কের পাশেই গড়ে ওঠা জুলেয় ব্রিকস এর মালিক মশিউর রহমান কে ফোন করলে তিনি মোবাইলে জানতে চাওয়া হলে,তিনি বলেন আপনি কোথায় আছেন আপনার সাথে পরে কথা হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনুমদিত একটি ভাটার মালিকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মহেশপুরে প্রায় ২০/২৫ টি ভাটা আছে এর মধ্যে ৭/৮ টি ভাাটা অনুমদিত বাকি গুলো অনুমতি বিহিন ভাবে প্রশাসনকে মেনেজ করে ভাটা চালাচ্ছে। তবে এনিয়ে প্রশাসনের কোন মাথা ব্যাথা নেই।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম এর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন,অবৈধ ভাবে কাঠ পোড়ানো এটা আইনত নিষিদ্ধ,আমি কয়েক দিন আগে মোইলকোর্টে গিয়েছিলাম এর উপস্থিতি পেয়েছি এবং আমি মালিককে ডেকে বলেদিয়েছি যে অবৈধ ভাবে ইট পোড়ানো যাবেনা,এখানে জরিমানা ও জেলের ব্যাবস্থা আছে,এখানে প্রশাসন সতর্ক আছে এবং আমরা এ বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তরকেও জানানোর ব্যাবস্থা নিয়েছি।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 38
    Shares