Home / এক্সক্লুসিভ / মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে মারধর করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় ছাত্রলীগ নেতার

মাদ্রাসার অধ্যক্ষকে মারধর করে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় ছাত্রলীগ নেতার

ক্রাইম প্রতিদিন, ফরহাদ হোসেন, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফতেহপুর জিএস ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদকে পিটিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করলেন রামগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রাকিবুল হাসান মাসুদ। বুধবার সকালে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে নিজ বাসায় একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে বেধম মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠেছে মাসুদের বিরুদ্ধে। এসময় পদত্যাগ করার জন্য খালি স্টাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয় মাসুদ। মারধরের পর ছাত্রলীগের সাবেক এ নেতা অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদকে সাথে করে মাদ্রাসায় পৌছলে জ্ঞান হারিয়ে পেলেন তিনি। পরে সিএনজি যোগে স্থানীয় ফেমাস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাকে।

ঘটনা সূত্রে জানাগেছে, নিয়ম অনুযায়ী সভাপতির স্বাক্ষর নিয়ে শিক্ষকদের মাসিক বিল উঠাতে হয়। তারই ধারাবাহিকতায় স্বাক্ষরের জন্য বিভিন্ন সময় বলা হলেও স্বাক্ষর দেননি সভাপতি মাসুদ।

বুধবার সকালে মোবাইল ফোনে অধ্যক্ষ আজাদকে বিল নিয়ে নিজ বাসায় যাওয়ার জন্য বলেন তিনি, অধ্যক্ষ আজাদ মাদ্রাসার অফিস সহকারী নুর হোসেনকে সাথে নিয়ে মাদ্রাসার পাশেই মাসুদের বাসায় যায়। বিলে স্বাক্ষর দিয়ে অফিস সহকারীকে পাঠিয়ে দেয় এবং অধ্যক্ষকে বাসার একটি কক্ষে আটকিয়ে বেধম মারধর করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে মাসুদ নিজেই অধ্যক্ষকে সাথে নিয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পর জ্ঞান হারিয়ে পেলে অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ।

এঘটনায় প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। শিক্ষকরা বলেন, সভাপতি মাসুদের হাতে লাঞ্চিতের ঘটনা বলতে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে পেলেন অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ। এর আগেও একাধিকবার শিক্ষকদের লাঞ্চিত করেছেন বলেও অভিযোগ শিক্ষকদের।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকর করে রাকিবুল হাসান মাসুদ বলেন, উনি (অধ্যক্ষ) কিছু বিল নিয়ে আমার বাসায় আসছেন। সেগুলো স্বাক্ষর করে দেয়ার পর উনাকে সাথে নিয়ে মাদ্রসা পৌছলে তিনি সেখানে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন।

রামগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোতা মিয়া জানান, মারধরের ঘটনার অভিযোগ এখনো কেউ করেনি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু ইউছুফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং দুঃখ প্রকাশ কর বলেন, এ ঘটনায় শিক্ষকরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। মারধর এবং খালি স্টাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার কারনে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলেও মনে করছেন নির্বাহী কর্মকর্তা।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 40
    Shares