Breaking News

মায়ের ঋণ এক জীবনে কতটুকুই বা শোধ করা যায়

‘মা কথাটি ছোট্ট অতি
কিন্তু যেন ভাই,
ইহার চেয়ে নামটি মধুর
তিন ভুবনে নাই।’

মায়ের জন্য ভালোবাসা প্রতিদিন। তবু আজ একটু বিশেষভাবে মাকে ভালোবাসা জানানোর দিন। মায়ের প্রতি আরও বেশি যত্নবান হওয়ার দিন। সারাজীবন মা সন্তানকে কেবল দিয়েই যান। মায়ের মমতার সাথে পৃথিবীর কোন কিছুর তুলনা হয় না। মা দীর্ঘ কষ্ট সহ্য করে সন্তান জন্ম দেন। তারপর সন্তানের যত্নে নিজের সমস্ত ধৈর্য, সময় উজাড় করেন। সেই চিরন্তন মমতাময়ী মায়ের ঋণ এক জীবনে আর কতটুকুই বা শোধ করা যায়।

বাস্তব জীবনের ব্যস্ততার কষাঘাতে আমাদের দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের বাইরে থাকতে হয়। কেউ নিজ শহর ছেড়ে অন্য শহরে, কেউবা আবার নাড়ির বাঁধন মাকে ছেড়ে দূর পরবাসে জীবিকা নির্বাহ করছেন বছরের পর বছর। সাথে থাকে শুধু মায়ের অকৃপণ ভালোবাসা আর আশীর্বাদ। এ নিয়েই একজন সন্তানের পথচলা।

কত দিন কত রাত মা তার কলিজার ধন ছেলেকে দেখেন না। মা শুধু নীরবে কাঁদেন। আর পথ চেয়ে চেয়ে চক্ষু ঝাপসা হয়ে আসে। ছেলের মন কাঁদে একবার ‘মা’ বলে মায়ের বুকে আছড়ে পড়ার জন্য। মায়ের বুকের ওম পাওয়ার আশায়। কিন্তু হায়! তা কি আর হয়!

কর্মব্যস্ত জীবনে অনেক মা আবার ঠিকমতো সন্তানের যত্ন নিতে পারেন না। সেই যে কাক ডাকা ভোরে সন্তানের সুখের কথা চিন্তা করে, দু’বেলা আহার জোগানোর আশায় ঘর থেকে বের হন মা; আর ফেরেন অনেক রাত করে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও ছুটে যেতে পারেন না বুকের ধন সন্তানের কাছে। আর ‘মা, মা’ বলে কাঁদতে কাঁদতে কিছু না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে অবুঝ বাচ্চাটা। সারাটা দিন মা ও সন্তানের যে বিরহ, তা সত্যি বড়ই বেদনার।

আজ আন্তর্জাতিক মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার ‘মা দিবস’ পালিত হয়। আজ এ মা দিবসে সব মাকে জানাচ্ছি সালাম, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। কর্মজীবী মাসহ সব মায়ের মাতৃত্বকালীন সব নৈতিক সুযোগ-সুবিধা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হোক- এ প্রত্যাশা আমাদের।

লেখক: মোহাম্মদ রাহীম উদ্দিন, কলামিস্ট।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন