Home / এক্সক্লুসিভ / ‘রড-বাঁশের’ জোড়াতালির রাজনীতি, দায়িত্ব কার?

‘রড-বাঁশের’ জোড়াতালির রাজনীতি, দায়িত্ব কার?

ক্রাইম প্রতিদিন, মোঃ ইসমত দ্দোহা, ঢাকা : “আমদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে”। গত সপ্তাহে ক্রাইম প্রতিদিন ডট কম এ একটি বিশেষ প্রতিবেদন দিয়ে ছিলাম। গ্রামীন হারিয়ে যাওয়া খেলাধুলা বিষয়ে। লেখার মূল উপজীব্য ছিল খেলাধুলা এখন মাঠে-ঘাটে না হয়ে হয় ছয় ইঞ্চির মোবাইল সেটে। ছেলে বুড়ো শিশু সবাই এখন শুয়ে বসে দাঁড়িয়ে মোবাইল গেমস খেলে। আর মোবাইল স্কনই এখন আমাদের খেলার মাঠ হয়ে গেছে। আসলে লেখার মূল প্রসঙ্গে আসতেই খেলাধুলার উপমা টানতে হলো। কারন আমাদের রাজনীতি ব্যবসা-বানিজ্য, শিক্ষা দিক্ষায়ও কেমন জানি একটি পরিবর্তন এসে গেছে। এসে গেছে নতুন কিছু উদ্ভাবন। রডের বদলে বাঁশ এটা পুরনো প্রযুক্তি, ছোট বেলায় আমাদের এলাকায় দেখেছি । মাদরাসার টয়লেট আর পুকুর ঘাটের সিড়িতে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার, তখন বিষয়টি বুঝতে না পারলেও এখন বুুঝি গ্রাম্য স্বশিক্ষিত রাজমিস্ত্রি আজ থেকে বিশ বছর আগে টাকা বাঁচাতে বাঁশ ব্যবহার করলেও বর্তমানে সময়ের শিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ার ঠিকাদার মহদ্বয়গন জেনে শুনে, শুধু কিছু মুনাফার জন্য মানুষের জীবন নিয়ে তামাশা করে। তবুও থেমে নেই, কারনে অকারনে রড-বাঁশের ব্যবহার।

সরকারের চলতি মেয়াদের শুরুতে ৫ই জানুয়ারীতে নির্বাচন ঘিরে জ্বালাও পোড়াওতে জাতি দেখেছিল দেশীয় প্রযুক্তির এক নতুন উদ্ভাবন “প্রেট্রোল বোমার”, এক ভয়াবহ ব্যবহার । সে বোমার আগুনে পুড়ে চারখার শত শত মানব দেহ আর শত শত পরিবার। যদিও তা সরকার ও প্রশাধনের কঠোর হস্তক্ষেপও মনোভাবের কারণে আপাতত পেট্রোল হামলা থেকে রক্ষা পেল জনসাধারন। কিন্তু এত কিছুর পরও থেমে নেই রসিকতা আর উপহাসের রাজনীতি। তেমনি একটি ভাবনার বিষয় হলো নেতৃত্বহীন ছাত্র রাজনীতির নামে অছাত্রদের আগ্রাসী ভূমিকা, যা আমাদের ভাষা আন্দোলন উনসত্তর, ছয়দফা, ৭১এর মুক্তযুদ্ধ ও স্বৈবশাষন বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রদের গৌরবজ্জল ভুমিকা আজ আর নেই। ছাত্রদের হাতে এখন চাপাতি আর রড দিয়ে সহপাঠীকে মারা, আর সরকারি দলের টেন্ডার ভাগা-ভাগিতে ব্যস্ত ছাত্র রাজনীতির ছাত্ররা।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ স্বৈরশাষক হিসেবে দশ বছর দেশ শাষন করলেও তার আমলে নির্বাচিত ছাত্র-নেতা ছিল, ছাত্র নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু ৯০ এর পরে গনতান্ত্রিক দলগুলো ক্ষমতায় এসে কোন এক অজ্ঞাত কারনে বন্ধ হয়ে গেল, বিশ্ববিদ্যালয় সহ গ্রামীন পর্যায়ের সকল শিক্ষা পতিষ্ঠানের ছাত্র-সংসদ নির্বাচন। অথচ গ্রাম্য নাপিত সমিতি থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সংগঠনে নির্বাচন হলেও, সরকার কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাষন ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রশ্নে এক অজ্ঞাত নিরবতা পালন করে চলছে। যার ফলে কোন রাজনৈতিক নেতা তৈরী না হয়ে, তৈরী হচ্ছে রড, আর চাপাতি যদনরুল মাকা ছাত্র নেতাদের , যা রাজনীতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এক দুর্যোগ বয়ে আনছে। পাদাধিকার বলে মহমান্য রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হলে ও কি আশ্চার্যের বিষয় উনি বলার পরও প্রতিষ্ঠান প্রধানরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কোন উদ্যোগ নেইনি। সর্বশেষ এক রিট আবেদনের রায়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু, নির্বাচন করার নির্দেশ দিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তা কতটুকু কর্নপাত করেন সে-টা এখন দেখার বিষয়। কারন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি আন্দোলনরত ছাত্রদের হাত থেকে বাঁচতে তালা ভঙ্গার জন্য কোন পুলিশ দারগা , না ডেকে “ ছাত্রলীগের রড বাহিনী” দিয়ে নিজের জীবন রক্ষা করলেন। তিনি কতটুকু “বাঙ্গালের হাইকোট” মানবেন তা এখন দেখার বিষয়। সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ভাষায় ছাত্রলীগ ঐখানে না গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিলো। তাহলে একটা কথা বলতে হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার, ভিসিকে উদ্ধারে ছাত্রলীগ কেন? অন্তত ৯৯৯ নম্বরে কল করলেও মান বাঁচতো প্রশাসনে।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 23
    Shares