রমজান ইবাদতময় করে তুলতে করণীয়

ক্রাইম প্রতিদিন : রমজানে বিশেষ কিছু নির্দিষ্ট আমল রয়েছে। সাহরি, ইফতার ও তারাবি এর অন্যতম। তবে এসব ছাড়াও আরো প্রচুর আমল রয়েছে। যা বছরের অন্য সময়ের মতো রমজানেও করা যায়। বস্তুত রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে সবার প্রচেষ্টা থাকা উচিত। রমজানে সহজে যেসব আমল করা যায়, সেগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা—

তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়
মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে রমজান মাসে ঈমান ও সওয়াবের আশায় (ইবাদতের মাধ্যমে) রাত জাগরণ করবে তার অতীতের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ১৭৩)

কোরআন তিলাওয়াত হোক অধিক পরিমাণে
রমজানে যেহেতু প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাই এ মাসে যথাসাধ্য বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা প্রত্যেক মুসলিম ও মুমিনের ওপর আবশ্যক। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ও কোরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে…।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ৬৬২৬)

দান-সদকায় প্রাণবন্ত
এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত সাহাবি ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরো বেড়ে যেত। (মুসলিম, হাদিস নং: ৩২০৮)

রোজাদারদের ইফতার করানো
রোজাদারকে ইফতার করালে রোজার সমান সওয়াব। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজা পালনকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে, তবে রোজা পালনকারীর সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ২২৩০২)

দোয়া করা বেশি বেশি
মহান আল্লাহ রোজার বিধান বর্ণনা করার পর বলেছেন, ‘আমার বান্দারা যখন আমার সম্পর্কে তোমাকে প্রশ্ন করে, আমি তো কাছে আছি। প্রার্থনাকারী যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে, আমি তার প্রার্থনায় সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৮৬) তাই রোজা পালনকারী আল্লাহর কাছে অধিক পরিমাণে দোয়া প্রার্থনা করবে।

তাওবা-ইস্তিগফার করা
সর্বদা তাওবা করা ওয়াজিব, বিশেষ করে এ মাসে তো বটেই। এ মাসে তাওবার অনুকূল অবস্থা বিরাজ করে। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক।’ (জামেউল উসুল, হাদিস নং: ১৪১০)

মিসওয়াক করা
মিসওয়াকের প্রতি রাসুল (সা.) অশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘মিসওয়াক মুখের জন্য পবিত্রকারী এবং রবের সন্তুষ্টি আনয়নকারী।’ (ইবনে খুজাইমাহ, হাদিস নং: ১৩৫)

পরস্পর কোরআন শোনানো
রমজান মাসে একজন অন্যকে কোরআন শোনানো একটি উত্তম আমল। এটিকে দাওর বলা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, জিবরাইল (আ.) রমজানের রাতে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুল (সা.) তাঁকে কোরআন শোনাতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ১৯০২)

সামর্থ্য থাকলে ওমরাহ পালন করা
এ মাসে একটি ওমরাহ পালন করলে একটি হজ আদায়ের সমান সওয়াব হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে ওমরাহ পালন করা আমার সঙ্গে হজ আদায় করার সমতুল্য।’ (বুখারি, হাদিস নং: ১৮৬৩)

শবে কদর তালাশ করা
রমজান মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। সবার উচিত ওই রাতের সন্ধান করা। ওই রাত সম্পর্কে কোরআনের ঘোষণা হলো, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা কদর, আয়াত : ৪)