রাণীনগরের গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পরছে টার্কি মুরগী পালন!

ক্রাইম প্রতিদিন, কাজী আনিছুর রহমান, রাণীনগর (নওগাঁ) : নওগাঁর রাণীনগরের গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পরছে টার্কি মুরগী পালন। কেউ পালন করছেন বানিজ্যিকভাবে আবার কেউ বা পালন করছেন সখে পরে। এভাবেই টার্কি মুরগী বিস্তার করছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে গ্রামে। এলাকায় টার্কি মুরগী বিক্রির মার্কেট গড়ে না ওঠায় এখনো পুরো-পুরি বাজার জাত করতে পারছেননা ব্যবসায়ীরা । ফলে কিছুটা বেকায়দায় রয়েছেন তারা । তবে মার্কেট গড়ে ওঠলে এব্যবসায় ব্যপক লাভবান হওয়ার আশাবাদ ব্যবসায়ীদের।
উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল আতাইকুলা মধ্য পাড়া গ্রামের জুয়েল হোসেনের স্ত্রী বেঞ্জু বেগম (৩২) তার ঘড়ের দোতালায় বর্তমানে ছোট-বড় প্রায় ৬০টি টার্কি মুরগী পালন করছেন। অল্প দিনের মধ্যেই ডিম দিবে। তার ছোট্র ফার্মে বসেই কথা হয় কিভাবে এগুলো পালন করছেন। বলতে গিয়ে তিনি জানান, বছর খানেক আগে তার মামার বাড়ী জয়পুরহাট জেলায় দাওয়াত খেতে গিয়ে সন্ধান পান টার্কি মুরগী পালনের । ওই মামার বাড়ীতে বেশ কিছু টার্কি মুরগী রয়েছে। নতুন টার্কি মূরগী দেখে আগ্রহ জাগে এই টার্কি মূরগী পালনে। সাংসারিকভাবে স্বাবলম্বি না হলেও অনেক কষ্ট করে ৪০টি ডিম ৮ হাজার টাকায় ক্রয় করে ওইখানে স্থানীয় হ্যাচারী থেকে বাচ্চা ফুটাতে গিয়ে ৩৩ টি বাচ্চা পান । বাড়ীতে নিয়ে এসে বাড়ীর দোতালায় পালন শুরু করেন। ৬ মাস পর ডিম দেয়া শুরু করলে প্রতি পিচ ডিম ১শত ৩০ থেকে ১ শত ৪০ টাকায় বিক্রি করেন। ওই চালানে টার্কি মূরগী পালনে তার ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হলেও লক্ষাধীক টাকার টার্কি বিক্রি করেন তিনি। প্রথম চালানে বেশ ভাল লাভ হওয়ায় আবারো ৩০ টির মতো টার্কি মুরগীর বাচ্চা নেন তিনি। বর্তমানে ছোট -বড় দিয়ে প্রায় ৬০টি টার্কি মুরগী রয়েছে তার। তিনি বলছেন,ওই সময় প্রতি পিচ টার্কি মুরগী ২ হাজার থেকে প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করেছেন । ঘাস,গাছের লতা পাতা এবং সামান্য ফিড খাইয়ে পালন করা যায় এই টার্কি জাতের মূরগী । তাই অল্প খরচেই অধিক পরিমমান লাভ আসে এই টার্কি মুরগী পালনে।
উপজেলার ছয়বাড়ীয়া গ্রামের আমিনুর রশিদ রতন ( সাবেক মেম্বার) জানান, তিনিও দীর্ঘ দিন ধরে টার্কি মুরগী পালন করে আসছেন। ব্রয়লার কিম্বা সোনালী মূরগীর চেয়ে অনেক বেশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন টার্কি মুরগী পালনে তেমন ওষধ খরচ হয়না । এছাড়া ঘাস,লতা-পাতা খাইয়ে অতি সহজেই এই টার্কি মুরগী পালন করা যায় । তার গ্রামে আরো একটি টার্কি মুরগীর খামার রয়েছে। তবে বিক্রির জন্য মার্কেট গড়ে না ওঠায় অনেকটায় বেকায়দায় রয়েছেন বলে জানান। অনেকেই সখে পরে দু’একটি করে টার্কি পালনের জন্য কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া হ্যাচারী ছাড়াও গ্রামের লোকজন বাড়ী থেকেই ডিম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন টার্কি মুরগী বিক্রিতে যদি স্থায়ীভাবে মার্কেট গড়ে ওঠে তাহলে এব্যবসায় ব্যপক লাভবান হওয়া যাবে এবং বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান হবে।
এব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আবু তালেব জানান, এপর্যন্ত রাণীনগর উপজেলার আতাইকুলা,কুজাইল,ছয়বাড়ীয়া,বেলঘড়িয়াসহ প্রায় ১০/১২টি টার্কি মুরগীর খামার গড়ে ওঠেছে । এছাড়া প্রায় প্রতিটি গ্রামে গ্রামে কেউ ছোট আকারে আবার কেউ সখে পরে দুই/চারটি করে টার্কি মুরগী পালন করছেন। টার্কি এক ধরনের মুরগী। টার্কির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একটু বেশী।তাই এর রোগবালাই কম এবং যে কোন পরিবেশের সাথে নিজেকে মানানসই করে নিতে পারবে। টার্কি মুরগীর গোস্ত সম্পন্ন চর্বিমুক্ত হওয়ায় সবাই এই গোস্ত খেতে পারবে এই জন্যই টার্কি মুরগী বিক্রির মার্কেট গড়ে ওঠলে এব্যবসায় ব্যপক সাড়া মিলবে । তবে যেভাবে গ্রামে গ্রামে টার্কি মুরগী পালন ছড়িয়ে পরছে তাতে অচিরেই টার্কি বিক্রির মার্কেট গড়ে ওঠবে বলে আশা করছেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন
শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 23
    Shares