শিরোনাম

রায় নিয়ে শঙ্কা থাকলেও তারেকের নেতৃত্ব নিয়ে সংশয়ে নেই বিএনপি

ক্রাইম প্রতিদিন : ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামি তারেক রহমানের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে শঙ্কা থাকলেও তার নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সংশয় নেই বিএনপির।

দুই মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডাদেশ নিয়ে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভাগ্য আরেকদফা নির্ধারণ হতে যাচ্ছে আগামী ১০ অক্টোবর। ওই দিন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণা করবেন আদালত।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক ও হত্যা— দু’টি মালারই আসামি তারেক রহমান। খোদ তারেক রহমানের আইনজীবীরাই বলছেন, মামলার রায় বিপক্ষে গেলে বিস্ফোরক আইনে যাবজ্জীবন এবং হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মৃত্যুদণ্ড হতে পারে তারেক রহমানের।

কিন্তু এ নিয়ে বিএনপি নেতারা খুব একটা ভাবছেন না। তারেক রহমান রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে লন্ডনে থাকায় নির্ভার রয়েছেন তারা। একটি মামলায় ৫ বছরের সাজা নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাভোগ করলেও দু’টি মামলায় ১৭ বছরের সাজা নিয়ে লন্ডনে বসে দল পরিচালনা করছেন তারেক রহমান।

তাই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আরও বড় কোনো সাজা হলেও লন্ডনে বসে দল পরিচালনার সুযোগ হাতছাড়া হবে না তারেক রহমানের। নির্বাসনে থেকে এখন যেমন দল পরিচালনা করছেন, তখনও তিনি দল পরিচালনা করতে পারবেন বলেই বিশ্বাস বিএনপি নেতাদের।

তাছাড়া বিএনপির গঠনতন্ত্র থেকে ৭ নম্বর ধারা বাতিল করে দেওয়ায় তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছোড়ারও সুযোগও নেই। কারণ, দলটির গঠনতন্ত্রে ৭ নম্বর ধারায় ‘কমিটির সদস্যপদের অযোগ্যতা’ শিরোনামে বলা ছিল, ‘নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যেকোনো পর্যায়ের যেকোনো নির্বাহী কমিটির সদস্যপদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী পদের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তারা হলেন— (ক) ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৮-এর বলে দণ্ডিত ব্যক্তি; (খ) দেউলিয়া; (গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি; (ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ বা কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলাগুলো দ্রুত গতিতে নিষ্পত্তির দিকে যেতে থাকায় তাদের সম্ভব্য পরিণতির কথা বিবেচনা করে আগেভাগেই গঠনতন্ত্র থেকে ৭ নম্বর ধারা বাতিল করেছে বিএনপি। এতে করে দলের প্রধান দুই ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হলেও নেতৃত্বদানে কোনো সমস্যা নেই তাদের।

আর সে কারণেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানের সম্ভব্য ফাঁসি বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও তার নেতৃত্ব নিয়ে কোনো সংকট দেখছেন না বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, এ মামলায় তারেক রহমানের সর্বোচ্চ সাজা হলেও বিএনপির নেতৃত্ব তার হাতেই থাকবে। লন্ডন থেকে তিনিই বিএনপির নেতৃত্ব দেবেন।

‘তারেক রহমানের সর্বোচ্চ সাজা হলে বিএনপির নেতৃত্ব কে দেবেন’— এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘তো কী হয়েছে? তার সাজা তো আগেও দুই বার হয়েছে। তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন না? ২১ আগস্ট মামলায় সাজা হলেও তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দেবেন। আমাদের ম্যাডামও তো সাজা ভোগ করছেন। এগুলো আমাদের কাছে এখন আর কোনো ব্যাপার না।’

এদিকে, তারেক রহমানের সর্বোচ্চ সাজা হলেও এই মুহূর্তে বড় ধরনের কোনো কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছে না বিএনপি। নির্বাচন সামনে রেখে যে বৃহত্তর ঐক্য গঠন এবং দলের নেতাকর্মীকে সংগঠিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। তবে একেবারে নীরব ভূমিকাও পালন করবে না বিএনপি। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ‘শান্তিপূর্ণ’ কর্মসূচি মধ্য দিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাবে তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা মনে করি না তারেক রহমানের সাজা হবে। তাকে ফাঁসানোর জন্য তিন তিন বার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে তার নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা আশা করি, আদালত ন্যায় বিচার করবে। তারপরও তাকে যদি অন্যায়ভাবে সাজা দেওয়া হয়, তাহলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে কর্মসূচি ঠিক করা হবে।’

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 2
    Shares
x

Check Also

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছে যা জানতে চেয়েছেন তারেক রহমান

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : বাংলাদেশে নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে ...