Home / লিড নিউজ / লক্ষ্মীপুরে উন্নয়নের নামে চলছে তামাশা

লক্ষ্মীপুরে উন্নয়নের নামে চলছে তামাশা

ক্রাইম প্রতিদিন, ফরহাদ হোসেন, লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ বাজার অভ্যন্তরিন সড়ক উন্নয়ন কাজে ব্যপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকবার কাজ বদ্ধ করে দেওয়াও হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) বলছেন নিয়মিত ঠিকাদার না হওয়ায় যতসব অনিয়ম কাজের মধ্যে। তবে স্থানীয়রা বলছেন উন্নয়ন কাজ নয় যেন জনগণের সাথে তামাশা করা হচ্ছে।

জানা যায়, সড়কটির ৪০০ মিটার উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্ধ হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা। কাজের দরপত্র পায় ফেনী জেলার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রহমান ইঞ্জিনিয়ারিং। তারা কাজ পেলেও কাজ করছেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা নিজাম উদ্দিন নামের এক অনিয়মিত ঠিকাদার।

গত ১০ অক্টোবর কাজটি শুরু করেও ৬০ ভাগ কাজ শেষ করতে পারেনি অনিয়মিত ঠিকাদার নিজাম। আগামী ১০ই এপ্রিল কাজের মেয়াদ শেষ হবে। দরপত্রে বর্ণিত মালামাল ব্যবহার না করায় কয়েকবারই বদ্ধ করা হয়েছে কাজটি। বর্তমানেও কাজটি বদ্ধ রয়েছে।

সড়কটির দুইপাশের কয়েকজন ব্যবসায়ি বলেন, রাস্তার উপর ইট, বালু, পাথর, সিমেন্ট ও রট পেলে রেখেই কাজ করছে ঠিকাদার। গার্ডওয়ালে নি¤œমানের ইট, ছোট পাথর, বালু-সিমেন্ট ও রট কম ব্যবহার শুরু থেকেই করছে। তাতে সমস্যা হলেও কিছু মনে করিনি, কারন রাস্তার উন্নয়ন কাজ হচ্ছে।

দোকানে প্রতিদিন যে পরিমাণ খরচ হয়, সে পরিমান বিক্রি হয় না। ঋনের টাকা পরিশোধ করতে পারছিনা। সংসার চালাতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। বাতাশে ধূলাবালি উড়ছে, উন্নয়ন কাজের মালামাল রাস্তায় ফেলে রেখেছে তাতেও ক্ষতিগস্ত হচ্ছি আমরা। শুরু থেকেই আমরা এতসব কষ্ট নিরবেই সহ্য করছি কারন, সাব ঠিকাদার সরকারদলীয় স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা।

তাই ব্যবসায়িদের মনে প্রশ্ন উঠেছে, যে উন্নয়ন জনগণের কষ্ট লাগব না করে বাড়াবে সে উন্নয়ন কি জনগণের প্রয়োজন আছে? তারা মনে করছেন, চন্দ্রগঞ্জ বাজার অভ্যন্তরিন রাস্তাটি উন্নয়নের নামে তাদের সাথে তামাশা করা হচ্ছে। এছাড়াও আরো বলেন, ভবিষ্যতে যেন সড়ক উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব অনিয়মিত ঠিকাদারদের দেওয়া না হয়।

কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, রাস্তায় কাজ ধীরগতিতে কাজ চলার কারনে প্রতিনিয়তই সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফেলে রাখা রটের সাথে ধাক্কা খেয়ে প্রতিদিনই কেউ না কেউ আহত হচ্ছে। এছাড়াও ধূলিকণা উড়ে বেড়ানোর কারনে স্বাভাবিক চলাচল করাই এখন কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে।

বাজার বনিক সমিতির সেক্রেটারি আবদুল কুদ্দুস বলেন, ধীরগতিতে কাজ চলার কারনে শুরু থেকেই ক্ষতিগস্ত হচ্ছে ব্যবসায়িরা। এছাড়াও নি¤œমানের মালামাল ব্যবহারের ফলে রাস্তাটি এক বছরও টেকসই হবে না। এতে জনগনের দূর্ভোগ পূর্বের মতই বাড়বে।

গত কয়েকদিন আগে অনিয়মের অভিযোগে উন্নয়ন কাজটি বদ্ধ করে দেয় জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। তাতে সমস্যা আরো বেড়ে গিয়েছে। উন্নয়ন কাজে জনগণের এত কষ্ট দেখে মনে হচ্ছে এ যেন উন্নয়ন নয় তামাশা করা হচ্ছে।
সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী বায়েজিদ বিন কামাল বলেন, চন্দ্রগঞ্জ বাজার অভ্যন্তরিন সড়কটি নিয়মিত ঠিকাদার কাজ না করায় শেষ হতে সময় লাগছে। এছাড়াও কাজের অনিয়মের কারনে কয়েকবারই কাজ বদ্ধ ছিল। তাই জনগণের ভোগান্তি হচ্ছে।

জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর সিনিয়র প্রকৌশলী মাসুম আল মামুন বলেন, দরপত্রে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ি না করায় এ পর্যন্ত কয়েকবারই কাজটি বদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানেও কাজটি বদ্ধ আছে।

সাব ঠিকাদার (অনিয়মিত) নিজাম উদ্দিন বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, রাস্তার উন্নয়ন কাজে কোন অনিয়ম হচ্ছে না। আর অনিয়মের কারনে কাজ বদ্ধ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। শ্রমিক সংকটের কারণে কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে। তাই ব্যবসায়ি ও জনসাধারণের একটু ভোগান্তি হচ্ছে।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 18
    Shares