Home / সারাদেশ / লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর মহা সড়ক : ঠিকাদারের গাফিলতিতে এক মাসে শতাধিক দুর্ঘটনা

লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর মহা সড়ক : ঠিকাদারের গাফিলতিতে এক মাসে শতাধিক দুর্ঘটনা

ক্রাইম প্রতিদিন, নুরুল আমিন ভূঁইয়া দুলাল, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) : লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ঠিকাদারের চরম গাফিলতিতে সংস্কার কাজে চলতে কচ্চপ গতিতে। তিন মাস আগে সংস্কারের জন্য পিচ ঢালাই তুলে বড় বড় গর্ত করে রাখলেও কাজ করছেন না ঠিকাদার। বোয়াডার থেকে দালাল বাজার পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক সংষ্কার কাজের কার্যাদেশ পাওয়ার প্রায় তিন মাস পর হতে চললেও এখনও পর্যন্ত এক কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ করতে পারেনি ঠিকাদার। গত এক মাসে শাতধিক গাড়ী গর্তে পড়ে ঘটনার শিকার হয় সড়কে যান চনচলা বন্ধ থাকে। গত সোমবার ওই সড়কের রায়পুর উপজেলার সর্দার বাড়ি স্টেশন এলাকায় সকালে একটি কাবাটভ্যান রাস্তার ওপর গর্তে পড়ে ১৪ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যানবাহনের চালক ও পথচারিগণ। ধুলা বালিতে একাকার থাকে সব সময় সড়কটি। পানির বরাদ্দ থাকলেও পানি দেওয়া হচ্ছে না।

এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আগে বিল্ডিংয়ের ও রাস্তার কাজে ব্যবহূত পরিত্যক্ত ইটের খোয়া ব্যবহারসহ ব্যপক দুর্নীতির করায় বৃহস্পতিবার রাতের উপজেলার রাখালিয়া বাজার এলাকার সংস্কার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে এলাকার জনসাধারণ। তাদের দাবি, পরিত্যক্ত ইটের খোয়া ও পুরাতন রাস্তার ইট পরিবর্তন করা না হলে এ সড়কে কোনো কাজ হবে না।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি সংষ্কার কাজে ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এ দুরবস্থা সৃষ্টি হয় সড়কে। নিয়মানুযায়ী যে টুকু সড়কের কার্পেটিং তুলে যে অংশ গর্ত করবে সে অংশ সংস্কারকাজ শেষ করে আবার নতুন করে সড়কে গর্ত ও কার্পেটিং তুলবেন ঠিকাদার। কিন্তু ওই নিয়ম না মেনে ঠিকাদার পুরো ১৬ কিলোমিটারের প্রায় স্থানে কার্পেটিং একবারে তুলে বড় বড় গর্ত করে ফেলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে সড়কে এখন যানবাহান হেলেদুলে চলতে গিয়ে উল্টো গড়ে। এতে গত এক মাসে প্রায় শতাধিক গাড়ী ওই সড়কে উল্টে পড়ে দূর্ঘনার শিকার হয়েছে। এ কারণে ওই সড়কে প্রায় সময় যানচলাচল বন্ধ হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। অনেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে পানপাড়া সড়ক হয়ে লক্ষ্মীপুর জেলায় যাচ্ছেন। এছাড়াও এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন খুলনা, ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, শরিয়তপুর, কুমিল্ল¬া, নোয়াখালী ও ফেনীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শ শ যানবাহন চলাচল করে। এ অঞ্চলের মধ্যে লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর সড়কটি ব্যস্ততম সড়ক হিসেবে পরিচিত।

বেসরকারি একটি ব্যাংকে ম্যানেজার মো. জাকির হোসেন বলেন, প্রতিদিন অফিসের কাজে রায়পুর থেকে লক্ষ্মীপুর যেতে ওই সড়কে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তাই এখন বাধ্য হয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে লক্ষ্মীপুরে যেতে হচ্ছে। তাঁর মতো হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েন এই সড়ক দিয়ে। নিয়মিত ধুলা বালি উপতে থাকলেও ঠিকার পানি দিচ্ছে না।

সড়কে দিয়ে রায়পুর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কয়েকজন গাড়ী চালক বলেন, সড়কটি সস্কারে জন্য গর্ত করা হয়। ঠিকাদার গর্ত ভরাট করে দ্রুত কাজ না করায় প্রায় সময় হঠাৎ করে গাড়িটি ওই গর্তে পড়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিদিনই ঢাকা ও চট্টগ্রামের উদ্যেশে এ সড়ক হয়ে শতশত যানবাহন ছেড়ে যায়।

ঠিকাদার মো. আজিজুল করিম বাচ্চু বলেন, কার্পেটিং তোলাতে গর্ত করা মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে সত্য। কাজটি দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি। কিছু গাড়ী অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে দ্রুত চলাচল করতে গিয়ে উল্টে পড়ছে। এতে গর্তের কোন সমস্য নয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই রাস্তার কাজ শেষ হবে।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম আজিজুর রহমান বলেন, প্রায় সময়ই গর্তে পড়ে উল্টে যাওয়া গাড়ীগুলো আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সরিয়ে ফেলতে। ঠিকাদারের গাফিলতিতে ওই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ নাজেহাল হচ্ছে।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 34
    Shares