Home / ক্রাইম প্রতিদিন / শরীয়তপুরে ক্লিনিক থেকে নবজাতকসহ মা নিখোঁজ!

শরীয়তপুরে ক্লিনিক থেকে নবজাতকসহ মা নিখোঁজ!

ক্রাইম প্রতিদিন, আজিজুর রহমান (রাব্বি) আমিন, শরীয়তপুর : শরীয়তপুরের ডামুড্যায় উপজেলার হাসপাতালসংলগ্ন হ্যাপী ক্লিনিকে জন্ম নেয়ার ১ দিন পর সন্তান ও মা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা সদরে অবস্থিত হ্যাপি ক্লিনিক ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল শনিবার রাত ১০টা ১০ মি. সময় ইতি নামের এক গৃহবধূর ছেলে সন্তান প্রসব হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পর দিন সকাল ৮টার সময় ইতির মা পরিচয় এক মহিলা ক্লিনিক থেকে নবজাতক শিশু ও তার মাকে নিয়ে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সন্তান জন্ম দেয়া ইতির স্বামী মো. ইমন সরদার ২ বছর ৮ মাস যাবৎ মালয়েশিয়া থাকেন।ইতির বাবা আ. মালেক মোল্লা বলেন, আমার মেয়ে ইতির কোনো বাচ্চা হয় নাই। ইতির কথা জানতে চাইলে বলেন, সে ঢাকা আছেন এলাকায় আমার শত্রুরা আমার ও মেয়ের নামে বদনাম ছড়াচ্ছে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা নিয়ে ইতির স্বামীর বাড়ি সিড্যা ও বাবার বাড়ি কনেশ্বর এলাকায় অনেক চাঞ্চল্যকরতা সৃষ্টি হইছে।হ্যাপি ক্লিনিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক কোহিনূর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত ১৪ তারিখে ইতি বেগম নামে একজনের ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। রাতে ৯.৫৫ মিনিটে ভর্তি হন আর রাতে ১০.১০ মিনিটে বাচ্চা প্রসব করেন। তার পরদিন সকালে সে চলে যায়। বাচ্চার ব্যাপারে আমরা কিছু জানি না।ইতির স্বামীর পরিবারের দাবি, তিন বছর আগে উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে খলিল সরদারের ছেলে ইমন সরদারের সাথে বিয়ে হয় মাঝিরটেক মালেক মোল্লার তৃতীয় মেয়ে ইতির। বিয়ের ১ মাস পর ইমন মালোশিয়া চলে যায়। এর পর ইমন আর দেশে আসেনি। ইমন বিদেশে যাওয়ার পর ইতি ইমনের সাথে যোগাযোগ করেনি। তাদের মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া লেগে থাকত। ইমনের সাথে ইতি খারাপ ব্যবহার করত। গত দেড় বছর যাবৎ সে শ্বশুর বাড়ি থাকে না। আর এরপর এক দিনের জন্যও আসেনি।ইতি বাবার বাড়িতে যাওয়ার আগে শ্বশুর বাড়ির আত্মীয়-স্বজনের ফোনে থাকা ইতির ছবি ও তার নাম্বার মুছে ফেলেন।

গত শনিবার (১৪ এপ্রিল) ইমনের চাচা থেকে জানতে পারেন ইতির নাকি ছেলে সন্তান হয়েছে। ইমন দেশে নাই কীভাবে এটা হলো। হওয়ার পর শ্বশুর বাড়ির কাউকে জানানো হয়নি। আমরা ইতির বাবার কাছে ফোন দিলে সে বলে এটা ভিত্তিহীন। ইতি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা আছে। তার কোনো বাচ্চা হয়নি। আর বাচ্চা হলে তো আপনারা জানবেনই। এ ধরনের কিছু হয়নি।

এ ব্যপারে ইমন সরদারের মা সাফিয়া বেগম বলেন, আমার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে আছে। বিদেশ যাওয়ার পর থেকে ইতি আমাদের সাথে কোনো যোগাযোগ করেনি। ইমন আমাকে মোবাইলে বলত মা ইতি আমাকে আজেবাজে কথা বলে গাল দিত। আমার ভাশুর ইয়াকুবের মারফত শুনতে পাই ওর নাকি বাচ্চা হইছে। আমি ঢাকা ছিলাম। ঢাকা থেকে তখনি চলে আসি। এসে খবর নিয়ে জানতে পারি হ্যাপি ক্লিনিকে ইতির ছেলে বাবু হইছে। কার বাচ্চা কিশের বাচ্চা আমরা জানি না। ইতির বাবা মালেক মোল্লাকে আমি ফোন দিলে সে উল্টো আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এরপর সে আমাকে হুমকি ধামকি দেয়।

মালয়েশিয়ায় থাকা ইতির স্বামী ইমন সরদার মুঠোফোন বলেন, আমি ২ বছর ৮ মাস যাবৎ দেশের বাইরে আছি। কোনো কারণ ছাড়াই দেড় বছর আগে ইতি ঝগড়া করে আমাদের বাড়ি থেকে চলে আসে। তারপর অবধি ইতি আমাদের বাড়ি যায়নি। ইতি আমার সাথে ঠিকমতো কথাও বলে না। সে ফোন দিলেই খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করে।

এ ব্যাপারে ডামুড্যা থানা অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম ক্রাইম প্রতিদিনকে জানান, বাচ্চা হারিয়েছে বা হওয়ার পর অস্বীকার করছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 33
    Shares