শার্শায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অব্যাবস্থপনা চরমে, মৃত্যু ঝুঁকিতে রোগীরা!

ক্রাইম প্রতিদিনহাসান তামিম, বেনাপোল : যশোরের শার্শা উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে প্রায় ৪ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার একমাত্র ভরসা ৫০ শষ্যা বিশিষ্ট নাভারন সরকারী হাসপাতাল কর্তৃপহ্মের অব্যাবস্থাপনার দ্বরুন সেবা নিতে আসা রোগীদের দূর্ভোগ চরমে। শার্শা উপজেলা কমপ্লেক্সটির সেবামান প্রশ্নবিদ্ধ?নানান সমস্যায় জর্জরীত তাছ্ড়াও কমপ্লেক্সটির পরতে পরতে রয়েছে পরিচ্ছনতার অভাব বিদ্যুৎ চলে গেলে ভুতুড়ে পরিবেশে সৃষ্টি হয়ে নিয়ত দূর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় রুগীর সাথে আসা স্বজনদের।

হাসপাতাল কতৃপহ্মের বিরুদ্ধে চিকিৎসক সল্পতা,যন্ত্রপাতি অপ্রতুল,নোংড়া পরিবেশের মধ্যেই রোগী রাখা,সরকারী খরচে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বরাদ্দ ঔষধ না দিয়ে তা চোরাই ভাবে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়া সহ বিবিধ(পত্র-পত্রিকায় একাধিকবার প্রকাশি)অভিযোগের বোঝা থাকলেও কোন তোয়াক্কা না করেই দেদারসে চালাচ্ছে দূর্নিতী মৃলক কর্মকান্ড।হাসপাতালটির ১টি মাত্র এম্বুলেন্স যা রেগুলার সার্ভিসিং না করায় জরাজীর্ন হয়ে অকেজো হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

দীর্ঘধীন ধরেই শার্শা উপজেলা কমপ্লেক্সটির এক্সরে মেশিন বিকল হয়ে পড়ে আছে,তবুও টনক নড়ছেনা কর্তৃপহ্মের।নেই অতীব জরুরী ইসিজি মেশিন,অপারেশন থিয়েটার ও পর্যাপ্ত পরিমান অক্সিজেন সিলিন্ডার,স্ট্রেচার, নেবুলাইজার।কীট নাশক পানে রোগীদের ওয়াশ করানোর নির্ধারিত জায়গাটিও মান্ধাত্তা আমলের গড়া।ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যাবহারের এ যুগে চলছে মধ্য যুগীয় কায়দায় দড়ি দিয়ে বেধে ওয়াশ কার্যক্রম।এখানে আসা হত-দরিদ্র,অসহায় রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি নিশ্চিত এমনটিই জানালেন গত ১১ই অক্টোবর বৃহষ্পতিবার হার্ড এ্যাটাকে মৃত রিজিয়া খাতুন এর স্বজনরা।

ঘটনার অনুসন্ধানে নিহতের জামাতা রিয়াজুল ইসলাম জানান,তার শ্বাশুড়ি বুকে প্রচন্ড ব্যাথা নিয়ে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয় দুফুর ১.৩০ মিনিটের দিকে ডাক্তার তাৎহ্মনিক ইসিজি করতে বললে হাসপাতালে ইসিজির ব্যাবস্থা না মেলায় বাধ্য হয়েই ভ্যানে করে তাকে হাসপাতালের বাইরে অবস্থিত ডায়গনিস্ট সেন্টারে নেওয়া হয়।রিপোর্ট করিয়ে হাসপাতালের ডাক্তারকে দেখালে তিনি দ্রুত তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনারী বিভাগে নিতে বলেন।৩ টার দিকে কমপ্লেক্সটির নিজিস্ব এ্যম্বুলেন্স যোগে যশোরের উদ্দেশ্যে বের হন তারা পথিমধ্যে ঝিকরগাছা কৃর্তিপুর ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় গাড়িটি বিকল হয়ে পড়ে।এ্যম্বুলেন্স নষ্ট হওয়ায় রুগী বহনে অন্য গাড়ি আনতে ১ ঘন্টা সময় বেশী লাগে এতে করে রোগীর অবস্থা আরোও অবনতি ঘটে।

এ ব্যাপারে কমপ্লেক্সটির আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডাঃ এনাম উদ্দিন এর সাথে কথা বললে তিনি ঘটনাটি ড্রাইবারের ফোন মারফত জেনেছেন শুনে বলেন কিছু সমস্যা আছে আমরা বিষয়গুলো উর্দ্ধতনদের জানায় কিন্তু সুরাহা দেরীতে হয়।চলমান ১০ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী সরকারের আমলে স্বাস্থ্য সেক্টরে অভুতপূর্ব উন্নয়ন ঘটলেও শার্শা উপজেলা কমপ্লেক্সে কেন তার ছোয়া লাগেনী এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যোগাযোগ করা হয় যশোরএর দ্বায়িত্বরত সিভিল সার্জন ডাঃ দিলিপ রয়ের সাথে।তিনি জানান,শার্শা ও মনিরামপুর উপজেলা কমপ্লেক্স ২টির এ্যম্বুলেন্সের অবস্থা জরাজীর্ন এ জন্য চাহিদা পত্র উর্দ্ধতনদের কাছে দেওয়া আছে।

২০০৫ সালে পাওয়া এ্যম্বুলেন্স গুলো ১৫ বছরেরও বেশী বয়স হওয়াই সরকারী বরাদ্দে কোনভাবে মেরামেত বা পরিচর্জা করে জরাজীর্ন ভাবেই চলছে।মেরামতের জন্য বরাদ্দ অর্থ সঠিক ভাবে ব্যায় করা হয় কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন এ বিষয়টি স্ব স্ব উপজেলার স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার ওডিটের মাধ্যমে দেখার এখতিয়ার রয়েছে।মেরামতের জন্য বরাদ্দ সরাসরি ওনাদের কাছেই আসে ওখান হতেই নিয়ম মাফিক ব্যায় হওয়ার কথা।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 46
    Shares