Home / লিড নিউজ / শিলাইদহে নয় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় হবে শাহজাদপুরে : অর্থমন্ত্রী

শিলাইদহে নয় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় হবে শাহজাদপুরে : অর্থমন্ত্রী

এম.লিটন-উজ-জামান, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া কুমারখালীর শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিনদিনের জাতীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রীূ আবুল মাল আব্দুল মুহিত এমপি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষনা করেন। এসময় সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রউফ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ, জেলা প্রশাসক জহির রায়হানসহ আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী পালনে জাতীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের পূর্বে প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এমপি বলেন, ‘শিলাইহদহে নয় রবীন্দ্র বিশ^বিদ্যালয় সাহজাদপুরে স্থাপনের সকল পরিকল্পনা হয়ে গেছে। এই মাসেই প্রধানমন্ত্রী সেখানে উদ্বোধন করতে যাবেন। শিলাইদহ একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়। শিলাইদহে আমরা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনে অনুষ্ঠান করে থাকি। শিলাইদহকে একটি পর্যটন স্পট হিসেবেই গুরুত্ব পাবে। রবীন্দ্রনাথ এখানে ১০বছর ছিলেন, এবং রবীন্দ্রনাথের যে চিন্তা চেতনা সেটা দারুণ ভাবে আমাদের এই শিলাইদহে প্রভাব বিস্তার করেছিলো। যদিও পতিসর ততটা তার জীবনে গুরুত্বপূর্ন ছিলো না। সুতরাং আমরাও সেই গুরুত্বটা অনুধাবন করি’।

এই অঞ্চলের রবীন্দ্র প্রেমী, ভক্ত, গবেষকসহ জনগনের দাবি শান্তি নিকেতনের আদলে শিলাইদহে রবীন্দ্র বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে বঙ্গবন্ধুর এমন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এসময় ব্যাংকের তারল্য সংকট বিষয়ক সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, তারল্য সংকট শুধুমাত্র ব্যাংকে নয়, তারল্য সংকট সারাদেশেই কিছুটা সাময়িক সময়ের জন্য হয়েছিলো। সেটা কাটিয়ে উঠেছে। কারণ আমাদের সরকারী ব্যাংকে প্রচুর তারল্য ছিলো। সেটার সামাধানে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিলো। এখন দেশে কোন তারল্য সংকট নেই। কোন বিশেষ প্রতিষ্ঠানে তারল্য সংকট থাকলে সেটার সমাধান তারা নিজেরাই করবেন।’

সেখানে উপস্থিত সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ প্রিয় মানুষেরা অন্তরের টানেই এখানে আসবে। আমরা কিন্তু আমাদের সাংস্কৃতিক কারণেই সুযোগ সুবিধাগুলি নির্মান করছি। ইতোমধ্যে বেশকিছু অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এখানে যখন ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এসেছিলেন তিনি এখানে একটি নির্মাণ কাজ করার জন্য অনুদান প্রদান করেন। এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী যখন আসেন তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উভয় একসাথে এই নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। সেই কাজটি এখন চলামান রয়েছে। আগামীতে এটার সাথে নতুন নতুন সুযোগ সুবিধা সংযোজন করবে সরকার যাতে করে এটি একটি পূর্নাঙ্গ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিনত হয়। আমাদের এখানে আরও একটি ঐতিহ্য হলো লালন, লালন এবং রবীন্দ্রনাথ তারা নিজেরাও একে অন্যের কাছে দারুণ ভাবে ঋনী। এই দুইজন মানুষকে নিয়ে আমাদের এই শিলাইদহ বা কুষ্টিয়া যাই বলেন না কেন, সব মিলেই কিন্তু আমরা একটা বড় সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র এখানে গড়ে তুলতে চায়, সেগুলি নিয়ে সরকারের সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা আছে যা পর্যাক্রমে বাস্তবায়ন হবে’।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, কুষ্টিয়া হচ্ছে রবী ঠাকুরের কর্মস্থল, লালন ফকিরের ঘাটি, কাঙাল হরিনাথ ও মীর মোশাররফ হোসেনের আবাসস্থল, সুতরাং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী কুষ্টিয়া হবে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের কুষ্টিয়াবাসী এবং দক্ষিণাঞ্চলের দাবি বাংলাদেশে কুষ্টিয়া হবে সাংস্কৃতির রাজধানী। সেই লক্ষ্যে এখানে সব রকম আয়োজন চলছে। আশ করি শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে আমরা কুষ্টিয়াকে একটি সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার সর্ব আয়োজন সম্পন্ন করতে পারব’।

পরে মন্ত্রীদ্বয় অনুষ্ঠানস্থলের মঞ্চে আসন গ্রহন করেন। শুরুতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ’র স্বাগত বক্তব্যের পর মঞ্চে নির্ধারিত আলোচনা সভায় বক্তব্যের মধ্যদিয়ে জাতীয় পর্যায়ের এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এমপি। আলোচনা সভা শেষে কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমীর শিল্পীদের অংশ গ্রহনে উদ্বোধনী সংগীতসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে কবিতা, গান, নৃত্যানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 183
    Shares