Home / আন্তর্জাতিক / শিশু গণধর্ষণ ও হত্যা : বিক্ষোভে উত্তাল ভারত

শিশু গণধর্ষণ ও হত্যা : বিক্ষোভে উত্তাল ভারত

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে আট বছরের এক শিশুকে গণধর্ষণ ও হত্যা করার ঘটনায় ভারতজুড়ে চলছে বিক্ষোভ। রাজধানী দিল্লিতে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের বিক্ষোভে যোগ দেন খোদ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। শিশু ধর্ষণের ঘটনায় এ বিক্ষোভের কয়েক ঘণ্টার মাথায় আরেক ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে গতকাল শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট জানান, জম্মু ও কাশ্মীরে শিশু ধর্ষণের ঘটনার তদন্ত করবেন তাঁরা।

২০১২ সালে দিল্লিতে চলন্ত বাসে এক তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাওয়ায় দেশজুড়ে বিক্ষোভের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, এবারও তেমনটা লক্ষ করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

গত বৃহস্পতিবার দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে বিক্ষোভে যোগ দেওয়া কংগ্রেস নেতা রাহুল জম্মু ও কাশ্মীরে শিশু ধর্ষণের ঘটনাকে ‘কল্পনাতীত নৃশংসতা’ অ্যাখা দেন। তিনি বলেন, ‘ভারতে নারীদের সঙ্গে যা হচ্ছে, সেটা কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না।’

রাহুলের সঙ্গে ছিলেন বোন প্রিয়াঙ্কা ও ভগ্নিপতি রবার্ট ভদ্র। এ সময় বিশৃঙ্খল জনতার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আপনাদের জানা উচিত, কেন আপনারা এখানে এক হয়েছেন। যদি আচরণ ঠিক করতে না পারেন, তাহলে বাড়ি যান।’ জনতার উদ্দেশে স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন, ‘কেউ ধাক্কাধাক্কি করবেন না।’

জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া এলাকার জঙ্গলে গত ১৭ জানুয়ারি আট বছরের শিশু আসিফা বানুর মৃতদেহ পাওয়া যায়। সে যাযাবর মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য। জম্মু ও কাশ্মীর মুসলিমপ্রধান অঞ্চল হলেও কাঠুয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রাধান্য রয়েছে। স্থানীয় এক হিন্দু কিশোর আসিফাকে অপহরণের পর সেখানকার একটি মন্দিরে লুকিয়ে রাখে। ঘুমের ওষুধ দিয়ে আচ্ছন্ন করে রাখা অবস্থায় তাকে গণধর্ষণ করা হয়। অবশেষে শ্বাসরুদ্ধ করে, মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে ফেলে দেওয়া হয় জঙ্গলে। এ ঘটনায় অপহরণকারী কিশোর, অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মকর্তা ও চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তাদের গ্রেপ্তার ও চার্জশিট দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রচণ্ড প্রতিরোধ গড়ে তোলে হিন্দু সম্প্রদায়। বিষয়টি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোনো মন্তব্য করেননি।

কাঠুয়ার ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক থেকে জাতীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। এতে সাধারণ জনতার পাশাপাশি রাজনীতিকরা, এমনকি বলিউড ও ক্রিকেট তারকারাও আওয়াজ তুলছেন।

আনুশকা শর্মা টুইট করেন, ‘যে জগতে আমরা বাস করি, সেখানে কী ঘটছে? এসব লোকজনকে অবশ্যই কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে।’

ক্রিকেটার গৌতম গম্ভীর ভারতের বিদ্যমান ব্যবস্থার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে টুইট বার্তায় বলেন, ‘আসুন মি. সিস্টেম, অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার মতো জোর যে আপনার আছে, সেটা আমাদের দেখিয়ে দিন। আমি আপনাকে চ্যালেঞ্জ করছি।’

আসিফা ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৪টায় গ্রেপ্তার হন বিজেপির আইন প্রণেতা কুলদীপ সিং। উত্তর প্রদেশে উন্নাও জেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে আসিফা ধর্ষণের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করার কথা জানিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। সর্বোচ্চ আদালতের একদল আইনজীবী প্রধান বিচারপতি ও দুই বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে আবেদন জানালে বেঞ্চ গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেন। আসিফা ধর্ষণের ঘটনায় চার্জশিট দাখিলে কাঠুয়ায় যেসব আইনজীবী বাধা সৃষ্টি করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করা হবে বলে জানান আদালত। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 4
    Shares