Home / লিড নিউজ / শ্রীপুরে বাবা-মেয়ে ফিরল কফিনবন্দী হয়ে

শ্রীপুরে বাবা-মেয়ে ফিরল কফিনবন্দী হয়ে

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নগরহাওলা গ্রামের এফএইচ ফারুক আহমেদ প্রিয়ক ও তার একমাত্র শিশুকন্যা তামাররা প্রিয়ন্ময়ীর মরদেহ সোমবার রাত আটটার দিকে তাদের বাড়িতে আনা হয়েছে।

এলাকার হাজার হাজার মানুষ একনজর তাদের কফিন দেখতে ভিড় করছে ফারুকের বাড়িতে। প্রিয়ক ও তার শিশু কন্যার মরদেহ রাখা হয় তাদের বাড়ির আঙিনায়।

ফারুকের চাচাতো ভাই মাহফুজ বলেন, ফারুকের মা ফিরোজা বেগম এখন আর কান্নাকাটি করেন না। পরিবারের সকলকে হারিয়ে অধিক শোকে চাচী অনেকটা পাথর হয়ে গেছেন।

ফিরোজা বেগম বলেন, বিমান দুর্ঘটনার পর জেনেছিলাম আমার বাবাকে (ফারুক) তার মেয়েসহ চিকিৎসা করাতে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়েছে। তিনদিন আগে সব কিছু জানতে পারি। এখন কফিন দেখে আর কী হবে?

ফারুকের স্ত্রী অ্যালমুন নাহার অ্যানির চাচা জিল্লুর রহমান বাবু বলেন, স্বামী ও শিশুকন্যার মৃত্যুর খবর তাকে (অ্যানি) সরাসরি জানাতে পারিনি। মরদেহ বাসায় আনার পরও কঠিন এক সত্য খবরটি তাকে জানাতে পারিনি। অবশেষে বাড়ির সামনে মাইকে জানাজার সময় ঘোষণা করার সময় সে আসল ঘটনা জানতে পারে।

জিল্লুর রহমান বলেন, মাইকে মৃত্যুর খবর প্রথম শুনে অ্যানি তীব্র প্রতিবাদ শুরু করে। পরে বেশ কয়েকবার নানাভাবে বুঝিয়ে তাদের মৃত্যুর খবর তাকে জানানো হয়েছে। এরপর থেকে কেবলই মুর্ছা যাচ্ছে অ্যানি।

জ্ঞান ফিরে আসার পর আবার বলছে মৃত্যুর খবর সঠিক নয়। স্বামী ফারুক ও তার শিশুকন্যা ফিরে আসবে। তারা সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সুস্থ্য হলে তারা আর বিমানে চড়বে না। তাদেরকে বিমানে চড়তে দেয়া হবে না।

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় আব্দুল আউয়াল কলেজ মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের লাশ দাফন করা হবে। প্রসঙ্গত, ১২ মার্চ বিকেলে নেপালের ত্রিভূবন বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনায় অন্য যাত্রীদের সঙ্গে ফারুক ও তার শিশুকন্যা নিহত হয়।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 23
    Shares