Home / ক্রাইম প্রতিদিন / সরকারী অফিসারের গাড়ী ধাক্কায় ছাত্রলীগ নেতা নিহত

সরকারী অফিসারের গাড়ী ধাক্কায় ছাত্রলীগ নেতা নিহত

ক্রাইম প্রতিদিন, জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও জেলা এলজিইডি অফিসের পাশে সরকারী অফিসারের গাড়ীর ধাক্কায় রুহুল আমিন হৃদয় (২২) নামে এক মোটর সাইকেল আরোহী ছাত্রলীগ নেতা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সে শহরের হাছননগরস্থ মরাটিলা ময়নারপয়েন্ট আবাসিক এলাকার বিদ্যুৎ কর্মচারী মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোঃ শাহজামাল মিয়ার ছেলে ও সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের বিএ ২য় বর্ষের ছাত্র।

এছাড়াও সরকারী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে বিভিন্ন সভা সমিতিতে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। এ ঘটনাটি নিয়ে নিহতের পরিবার ছাড়াও শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে ছাত্রলীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধার দৌহিত্র রুহুল আমিন হৃদয় কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালিয়ে গাড়ী দ্বারা ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে খুন করার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলার সর্বস্থরের জনতা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,সোমবার সকাল ১১টা ১০মিনিটে একটি যাত্রীবাহি লেগুনা গাড়ী সুনামগঞ্জ থেকে মদনপুর যাওয়ার প্রাক্কালে এবং সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের লাল পাজারো জীপ গাড়ী শহরের দিকে যাওয়ার সময়ে মল্লিকপুরস্থ বিজিবি ক্যাম্পের নিকটে জেলা এলজিইডি অফিসের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটর সাইকেলটিকে ধাক্কা দেয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের লাল পাজারো জীপটি। তাৎক্ষনিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাইকেলটি রাস্তার পাশে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় সাইকেলের আরোহী সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রুহুল আমিন হৃদয় (২৭)। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই সফিউল এর নেতৃত্বে শহরের টহলরত পুলিশদল ঘটনাস্থলে পৌছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। তবে পাজারো জীপ কিংবা লেগুনা চালককে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

আরো জানাযায়,ঘটনাস্থলে থাকা সিসি টিভির ফুটেজ এ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পাজারো জীপ গাড়ীটি দেখতে পাওয়া গেছে। কিন্তু ঘটনার পর ঐ পাজারো জীপ গাড়িটি গ্যারেজে তালাবদ্ধ করে রাখায় এবং গাড়ীর চালক রহস্যজনক ভাবে আড়াল হওয়ায় আমরা আসল রহস্য এখন পর্যন্ত উদঘাটন করতে পারি নি পলিশ। তবে পুলিশ চালককে আটক করার চেষ্টা করছে।

নিহত হৃদয়ের চাচা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ইকবাল হোসেন ও কারিমুল ইসলাম মিন্টু বলেন,আমাদের ভাতিজা হোন্ডা নিয়ে রাস্তার পাশের্^ দাড়িয়েছিল। ঐসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পাজারো জীপ গাড়ি দ্রুতবেগে চালিয়ে চালক শহরের দিকে যাচ্ছিলো। বেপরোয়া গতিতে চালানোর কারণে ঐ চালক তার পাজারো জীপ দ্বারা আমার ভাতিজাকে ধাক্কা মেরে রাস্তার পাশের্^ ফেলে দেয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাড়ীতে থাকায় গাড়ি থেকে নেমে অন্য একটি অটোরিক্সা দ্বারা আমার ভাতিজাকে জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রদীপ সিংহ বলেন,আমার গাড়ী এ দূর্ঘটনা ঘটায়নি। ঘটনার সময় আমি আমার গাড়ীতে শহরের দিকে যাচ্ছিলাম। রাস্তায় হৃদয়কে পড়ে থাকতে দেখে আমি নিজে তাকে নিয়ে তাৎক্ষনিক ভাবে জেলা সদর হাসপাতালে যাই।

সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোঃ শহীদুল্লাহ বলেন,আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ২৮বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে: কর্ণেল নাসির উদ্দিন আহমদ পিএসসি বলেন,এখানে প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটে। দূর্ঘটনা এড়াতে আমি জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে পত্র দিয়ে দূর্ঘটনার স্থানে একটি স্পীডবেকার স্থাপনের জন্য অনুরোধ করেছিলাম। আমার কথা কেউ শুনেন নি।

তারা এখন পর্যন্ত ঐ এলাকায় স্পীডবেকার স্থাপন করেন নি। ফলে দিন দিন দূর্ঘটনা বেড়েই চলছে। তিনি বলেন,ঐ এলাকায় র‌্যাব বিজিবি এলজিইডির অফিস রয়েছে। প্রায়ই বড় বড় যানবাহন চলাফেরা করে এ রাস্তা দিয়ে। বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রে যানজটের সৃষ্টি হয়। এই অবস্থায় সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ হিসেবে এলজিইডির সামনে স্পীডবেকার স্থাপন অত্যন্ত জরুরী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায়,রুহুল আমিন হৃদয় (২২) এর খুনী ঘাতক চালককে আটকের দাবীতে শহরে সুশীল সমাজের ব্যানারে মানববন্ধন হয়েছে। অন্যদিকে বাদ এশা শহরের কেন্দ্রীয় টাউন জামে মসজিদে নামাজে জানাযার পর শহরের আবাসিক এলাকাধীন কেন্দ্রীয় কবরস্থানে রুহুল আমিন হৃদয়ের লাশ দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 30
    Shares