দালালই নষ্ট করছে সরকারের ভাবমূর্তি

ক্রাইম প্রতিদিন, ফরহাদ হোসেন, লক্ষ্মীপুর : সরকারিভাবে বিনামুল্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কথা থাকলেও লক্ষ্মীপুরে এখন টাকা ছাড়া মিলছেনা বিদ্যুৎ সংযোগ। ফলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী দালাল চক্রের সদস্যরা।
অভিযোগ উঠেছে অফিস সংশ্লিষ্ট অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করেই এসব টাকা আদায় করা হচ্ছে। এজন্য নষ্ট হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তি, প্রতারণার শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। এমনটি মনে করছেন জেলার সচেতন মহল। তবে পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জি এম) বলছেন নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। গ্রাহক হয়রানি যেন না হয় সে ব্যাপারে কর্মকর্তারা সজাগ রয়েছেন বলে দাবী তার।
জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ১৫ হাজারটি বিদ্যুতের মিটার স্থাপন করা হয়েছে। বিনামূল্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর সরকারি ঘোষনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই নতুন আরো ৪৫ হাজার মিটার স্থাপনের কাজ চলছে এখন। জেলার ৫টি উপজেলায় নতুন বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করতেও গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা হারে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গ্রামে গ্রামে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের সদস্যরা সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে এসব টাকা আদায় করছেন। টাকা দিলে বিদ্যুত মিলবে না দিলে মিলবেনা বলে এসব টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান। জেলা সদরের টুমচর, শাকচর, চাঁদখালি গ্রাম ও রায়পুরের কেরোয়া, চরবংশী এলাকাসহ অন্যান্য উপজেলার প্রতিটি এলাকায় নতুন সংযোগের অপেক্ষাকৃত গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন দালালরা। তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও উল্লেখ যোগ্য কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা তাদের বিরুদ্ধে। বিদ্যুতের খাম্বা ফেলতেই ৬ থেকে ১০ হাজার, মিটার ও ঘর ওয়ারিং করতে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করছেন এসব দালালরা।
তবে দালালদের কেউ কেউ বলছেন দ্রুত বিদ্যুত পেতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া হচ্ছে এসব অবৈধ টাকা।
সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের কয়েকজন গ্রাহক জানান, আবেদনের সময় ১০ হাজার টাকা এবং সংযোগ পাওয়ার পর দিতে হবে আরো ১০ হাজার টাকা। আর এ টাকা সংগ্রহ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী (দালাল) আব্দুল হালিম। তারা আরো বলেন, শুধু হালিমই নয় জেলাজুড়ে এমন অনেকেই নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের নামে ৫-২০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এ যেন দেখার কেউ নেই। বিনামূল্যের বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য কেন টাকা দিচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, না হয় মিটারতো দুরের কথা, ঘরের পাশ দিয়ে বৈদ্যুতিক তার ও নিবে না।
বিদ্যুৎ সংযোগের নামে টাকা আদায়ের কথাটি অস্বীকার করে আব্দুল হালিম বলেন, যা সরকার বিনামূল্যে দিচ্ছে, তাতে কেন টাকা নিবো। তবে তিনি সরকারের ঘরে ঘরে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ উদ্দ্যোগটিকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এর ফলে গরিব অসহায়দের ঘরে কুপি বাতি নয় জ্বলবে বৈদ্যুতিক বাতি।
সমাজসেবক আক্তার আলম বলেন, বিনামূল্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরকারের একটি মহৎ উদ্দ্যোগ। কিন্তু স্থানীয় কিছু দালাল চক্রের কবলে পড়ে সরকারের এ প্রকল্পটি ভেস্তে যাচ্ছে। যার ফলে নষ্ট হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তি, হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। তাই তিনি মনে করেন গ্রাহকদের হয়রানি মুক্তকরতে ও সরকারি ভাবমূর্তি রক্ষায় এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
এ ব্যপারে লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. শাহজাহান কবির বলছেন, কোথাও কোন অনিয়ম হলে সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রাহকদের হয়রানি মুক্ত রাখতে কর্মকর্তারা সজাগ রয়েছেন জানিয়ে আগামী ২৯ জুনের মধ্যেই পুরো জেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের মধ্যে থাকবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 20
    Shares