Home / বাংলাদেশ / জাতীয় / অনুসন্ধান প্রতিবেদন / সাংবাদিক সুবর্ণা নদীর হত্যা ও অন্যান্য রহস্য!

সাংবাদিক সুবর্ণা নদীর হত্যা ও অন্যান্য রহস্য!

ক্রাইম প্রতিদিন : বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদী (৩২) তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। ওই মামলার কারণেই সুবর্ণাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বড় বোন চম্পা খাতুন।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বোন চম্পা জানান, আবুল হোসেনের ছেলে রাজীবের সঙ্গে তিন-চার বছর আগে বিয়ে হয়েছিল সুবর্ণার। বছরখানেক আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।

এর পর সুবর্ণা পাবনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে একটি যৌতুক মামলা করেন। এ মামলায় সুবর্ণা তার সাবেক স্বামী রাজীব ও তার বাবা আবুল হোসেনসহ তিনজনকে আসামি করেন।

গতকাল এ মামলার সাক্ষ্য দেয়ার দিন ছিল। এতে সুবর্ণা তার পক্ষে আদালতে সাক্ষ্যও উপস্থাপন করেন। চম্পার দাবি, মামলায় ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কায় আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সুবর্ণাকে হত্যা করেছে।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় নিজ বাসার সামনে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আনন্দ টিভি’র পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা নদীকে কুপিয়ে হত্যার করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ নিহতের সাবেক শ্বশুর আবুল হোসেনকে আটক করেছে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, পাবনা পৌর সদরের রাঁধানগর মহল্লায় আদর্শ গার্লস হাইস্কুলের সামনে ভাড়া বাসায় ফেরার পথে বাসার সামনেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে না পারলেও কয়েকটি ইস্যু নিয়ে পুলিশ মাঠে নেমেছে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পুলিশ পাবনার ইদ্রাল ইউনানি কোম্পানি ও শিমলা ডায়াগনস্টিকের মালিক আবুল হোসেনকে আটক করেছে। পুলিশের দাবি, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আবুল হোসেন সুবর্ণার সাবেক শ্বশুর।

সুবর্ণা নদী আনন্দ টিভির পাশাপাশি অনলাইন পোর্টাল দৈনিক জাগ্রতবাংলার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। রাজীবের সঙ্গে বিয়ের আগেও তার আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরে তার ৫-৬ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

সুবর্ণা নদী জেলার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর মেয়ে। এদিকে নিহতের লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।

ভিন্ন তথ্য, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করায় নারী সাংবাদিককে হত্যা?: চার দলীয় জোট সরকারের আমলে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করেন। আর এ বিদ্যুৎ প্রকল্পে পাবনাবাসীর ভোগান্তিতে বিএনপি নেতা তারেক রহমান জড়িত থাকার বিষয়ে এক নারী সাংবাদিকের রিপোর্ট সারাদেশে আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। এর সূত্র ধরেই পাবনায় সুবর্ণা আক্তার নদী (৩২) নামের সেই নারী সাংবাদিককে এবার বাড়ির সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে তারেক রহমানের অনুসারীরা।

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে জেলার রাধানগরে তার বাসার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবাউদুল হক।

প্রত্যক্ষ সূত্র বলছে, চার দলীয় জোট সরকার থাকাকালীন তারেক রহমান বিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে পাবনাবাসীকে কীভাবে প্রতারিত করেছেন তার প্রমাণসহ সুবর্ণা আক্তার নদী (৩২) নামের সেই নারী সাংবাদিক একটি রিপোর্ট করেন আনন্দ টিভি এবং স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলা’তে। এ রিপোর্টের মাধ্যমে বিএনপি নেতা তারেক রহমানের আসল চেহারা সাধারণ জনগণের কাছে তুলে ধরেন তিনি। আর এটাই তার কাল হয়। রিপোর্টটি প্রকাশিত হবার পর থেকেই বিএনপির নেতারা একের পর এক হুমকি দিচ্ছিলেন নারী সাংবাদিক সুবর্ণা আক্তারকে।

রিপোর্টটিতে উল্লেখ করা হয়, তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়ার আত্মীয়ের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার ব্যাকবোনসকে কার্যাদেশ দিতে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার অবৈধ তৎপরতা শুরু করেছিল আরইবির একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। খোদ আরইবির কতিপয় অসাধু সদস্য বিএনপি নেতা তারেক রহমানের ভয়ে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছিলেন ভয়ঙ্কর এক অনিয়মে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় নীতিমালাও মানা হয়নি। কার্যাদেশ হাতিয়ে নিতে সিন্ডিকেট এতটাই মরিয়া ছিল প্রথম দফায় পছন্দের কোম্পানি নন রেসপন্সিভ হওয়ায় দরপত্র পর্যন্ত বাতিল করে দেয়া হয়েছিল।

সূত্রমতে, পাওয়ার ব্যাকবোনস লিমিটেড ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে নিবন্ধিত একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। এর উদ্যোক্তা পরিচালক ও চেয়ারম্যান গোলাম সরোয়ার। বোর্ড অব ডাইরেক্টরসের সদস্য চারজন। জানা গেছে, গোলাম সরোয়ার বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়ার ভায়রা। এ কোম্পানিটিকে ভাড়া এবং শতকরা ১৫ ভাগ শেয়ার দেয়ার শর্তে সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানতে পেরেছি মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় বিএনপি নেতা রবিউল হক মাহবুবুর নেতৃত্বে কিছু সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। তারা সুবর্ণার হাতে ও মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 61
    Shares