Home / বাংলাদেশ / সারাদেশ / সুরেশ্বর দরবার শরীফে নিরামিশ এর প্রচলন

সুরেশ্বর দরবার শরীফে নিরামিশ এর প্রচলন

ক্রাইম প্রতিদিন, দেওয়ান শাহাজালাল : মহান সুরেশ্বর দরবার শরীফ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অন্যতম প্রাচীন দরবার শরীফ। শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানায় পদ্মা নদীর কূ্ল ঘেঁষে এর অবস্থান। এই মহান দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হলেন, হযরত মাওলানা জানশরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী ওরফে সাইয়্যেদ শাহ্ সূফী আহম্মদ আলী (রঃ)। তিনি জাহেরা জগতে অত্যন্ত মেধাবী, সুশিক্ষিত ও জ্ঞানী (আলেম) ছিলেন। তৎকালীন সময়ে তিনি কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসা হতে অত্যন্ত সফলতার সাথে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন এবং সেখানেই দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন। আবার একইসঙ্গে তিনি কলিকাতার প্রখ্যাত অলিয়ে কামেল, রাসুলে নোমা হযরত ফতেহ্ আলি ওয়াইসী ক্বেবলা (রঃ) এর নিকট দীক্ষিত হন এবং ধ্যানসাধনার মাধ্যমে আপন মোর্শেদের আধ্যাত্মিক ফায়েজপ্রাপ্ত হন।

মহান সুরেশ্বর দরবার শরীফে বছরে ছয়টি অনুষ্ঠান হয়ে থাকলেও বাৎসরিক প্রধান উরস শরীফ মাঘ মাসের ১৮, ১৯ ও ২০ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড়শ বছর পূর্বে ২০ মাঘে হযরত জানশরীফ (রঃ) প্রতিষ্ঠিত এই প্রধান উরস শরীফ কালক্রমে দীর্ঘায়িত হয়ে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানে রুপায়িত হয়েছে।
১৬ই মাঘ হতে জনসমাগম শুরু হয়ে ২২ মাঘ পর্যন্ত চলতে থাকে উরস শরীফের নানাবিধ কার্যক্রম। ওয়াক্তিয়া নামাজ থেকে শুরু করে দুরুদ, মিলাদ, জিকির, মুর্শিদী সঙ্গীত, গেলাফ মোবারক নিবেদন, আষা মোবারক দর্শন এবং পরিশেষে শোকরানা মোনাজাত ও তবারুক বিতরণ ।

এইরূপ নানাবিধ কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালিত হয় এই পবিত্র উরস শরীফ। তবে এই উরসের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে এই অনুষ্ঠানে কোনরূপ জীবহত্যা বা জবেহ্ করা হয় না। আগত লক্ষাধিক আশেক-ভক্ত, জিয়ারতকারীদের খাবার এবং সকল প্রকার তবারুক তৈরি করা হয় নিরামিষ দ্বারা। এর একটি অন্তর্নিহিত তাৎপর্যও আছে যা অনেকেরই অজানা। নিম্নে সংক্ষেপে তা আলোকপাত করা হলো। কি ভাবে নিরামিশ এর প্রচলন শুরু হল মহান সুরেশ্বর দরবার শরীফে।

একবার পৌষমাসের শেষের দিকে বাবা জানশরীফ শাহ্ সুরেশ্বরীর আমলে উরস শরীফের পূর্বপ্রস্তুতি চলছিল। তখন এক সকালে আম্মাজান তথা জানুবাবার স্ত্রী একটি মোরগকে জবেহ্ করার জন্য গৃহকর্মীদের ধরতে আদেশ করেন। কিন্তু সেই মোরগটি এমনই ছোটাছুটি করছিল যে সেটিকে ধরা যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে ঐ মোরগটি জানশরীফ শাহ বাবার খাঁটের নিচে গিয়ে আশ্রয় নেয়। জানুবাবা তখন সবাইকে থামিয়ে দিয়ে চলে যেতে বলেন। তিনি সহজেই হাত বাড়িয়ে মোরগটিকে ধরে নেন। অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে সেই মোরগটিকে ছেড়ে দেন এবং ওটিকে ধরতে নিষেধ করেন। কিছুক্ষণ পরে ওই মোরগটিকে আর দেখা যায়নি। পরে সুরেশ্বরী বাবা সবাইকে ডেকে ঘোষনা করেন যে মাঘ মাসের উরস শরীফকে কেন্দ্র করে দরবার এলাকায় নানা জীব বা প্রাণী থাকে যার রহস্য সবাই বুঝবে না। তাই তখন থেকেই প্রতি বছর ৫ই পৌষ থেকে ২২ মাঘ পর্যন্ত সুরেশ্বর দরবার অঞ্চলে কোনরূপ জীবহত্যা বা জবেহ্ করা নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। সেই থেকে আজ অবধি দরবার এলাকায় তো বটেই এমনকি জানুবাবার আওলাদগণ ঐ সময়ে (৫ই পৌষ–২২মাঘ) যে যেখানেই থাকুন না কেন এই নিষেধাজ্ঞা যথাসম্ভব পালন করেন।যে কোন ধরনের ভিআইপি বা গণ্যমান্য মেহমানদের আপ্যায়ন করতে হলেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটেনি আজও।

তথ্যসুত্র : দিদার নুরী আল সুরেশ্বরী , বড় শাহ্জাদা ও প্রতিষ্ঠাতা খেদমতে সুরেশ্বরীয়া

এই মুহূর্তে অন্যরা যা পড়ছে

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.