হবিগঞ্জে যৌনকর্মী ও খদ্দরসহ আটক ১৪

ক্রাইম প্রতিদিন, মোঃ সুমন আলী খান, হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ শহরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে যৌনকর্মী ও খদ্দরসহ ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।

গতকাল দুপুরে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার (ওসি) ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্বে একদল পুলিশ শহরের নিউ মুসলিম কোয়ার্টার, মাষ্টার কোয়ার্টার ও গোসাইপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফ্যাট বাসা থেকে তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে শতাধিক কনডম ও ৫০ পিস পোডেক্স ক্যাপসুল উদ্ধার করা হয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে শহরের বিভিন্ন স্থানে দেহ ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ বেলায়েত হোসেনের আদালতে হাজির করা হলে আদালত ১২ জনকে ৩ মাস করে কারাদন্ড ও ২ জনকে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। আটকরা হল, বাহুবল উপজেলার মুরারগাও গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র খদ্দর সৌরভ মিয়া (২০), সদর উপজেলার রামপুর গ্রামের নানু মিয়ার পুত্র সজিব মিয়া (২২), একই গ্রামের আব্দুর রউফ মিয়ার পুত্র আব্দুল মিয়া (১৯), শহরের যশের আব্দা এলাকার হারুন মিয়ার স্ত্রী জোৎস্না আক্তার ওরফে কানী জোসনা (৪২), শহরতলীর সুলতান মাহমুদপুর গ্রামের মনির হোসেনের স্ত্রী মানিয়া বেগম (২৫), ভাঙ্গারপুল এলাকার খোকন মিয়ার স্ত্রী রেশমা আক্তার (২৫), চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশী গ্রামের মোশারফ মিয়ার স্ত্রী রুনা আক্তার (৩০), সদর উপজেলার আউড়া গ্রামের লোকমান মিয়ার কন্যা সাহানা বেগম (১৯), বানিয়াচং উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের আরজু মিয়ার কন্যা লিজা আক্তার (২৫), আলমপুর গ্রামের আদম আলীর স্ত্রী রাশিদা খাতুন (৩৫), সিলেটের গোপালগঞ্জ এলাকার হারুনুর রশীদের কন্যা মাহিয়া মাহি (২২), বি-বাড়িয়া জেলার বিজয়নগর গ্রামের মন্তাজ মিয়ার কন্যা শিরিন আক্তার (২৩), চুনারুঘাট উপজেলার আমকান্দি গ্রামের মোঃ হান্নান মিয়ার স্ত্রী ইশান জাহান (২৭) ও হবিগঞ্জ শহরের নিউ মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার মৃত এমএ মোসাদ্দেকের স্ত্রী বাসার মালিক সৈয়দা নুরুন্নাহার (৫০)। পরে ভ্রাম্যমান আদালত নুরুন্নাহার ও মানিয়া আক্তারকে জরিমানা রেখে ছেড়ে দেন এবং অপর ১২ জনকে কারাগারে প্রেরণ করেন।

সদর থানার ওসি ইয়াছিনুল হক জানান, এ অভিযান নিয়মিত চলবে। যাতে করে শহরের উঠতি বয়সের যুবক যুবতীরা ধ্বংসের দিকে না যায় সে লক্ষে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো জানান, পুলিশের কাছে খবর আছে বিভিন্ন ফ্যাট বাসায় এক শ্রেণীর যুবক-যুবতীরা স্বামী-স্ত্রী ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে এসব অসামাজিক কাজ চালাচ্ছে। বাসার মালিকদের সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে।