Home / আন্তর্জাতিক / হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই রক্ত দিয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে!

হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই রক্ত দিয়ে প্রেমিকাকে বিয়ে!

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : কেউ প্রেম করে, কেউ প্রেমে পড়ে। বর্তমান যুগে এখন অধিকাংশ ছেলে-মেয়ে থেকে শুরু করে বয়স্ক সবাই প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে থাকেন। যা এখন সমাজে অহরহ দেখা যায়।

সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে একটি প্রেমের ঘটনা ঘটেছে যেটি কিনা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানায়। উত্তর চব্বিশ পরগণার বনগাঁ এলাকায় সোমবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে ওই ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি হলো-

প্রেমিকার পরিবারের লোকজনের হাতে প্রচণ্ড মার খেয়েছেন প্রেমিক। ফলে তাকে যেতে হয়েছে হাসপাতালে। আর এই খবর শুনা মাত্রই প্রেমিকা ছুটে গেলেন হাসপাতালে। এ সময় আহত প্রেমিক যেন প্রেমিকাকে কাছে পেয়ে প্রাণ ফিরে পেলেন। তারপরই ঘটে সিনেমার গল্পকেও হার মানানো সেই কাহিনী, প্রেমিকার এক প্রকার পণ করলেন তিনি তার প্রেমিক ছেড়ে কোথাও যাবেন না।

আহত প্রেমিক হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই ব্লেড দিয়ে আঙুল কেটে রক্ত বের করেন। এরপর প্রেমিকার সিঁথি রাঙিয়ে দেন! ব্যস হয়ে গেল। এটা সিনেমার কোনো কাহিনী নয়। বাস্তব ঘটনা।

জানা গেছে, প্রেমিকের নাম বলরাম নাগ (২১) ও প্রেমিকার নাম শিউলি বিশ্বাস (২০)। উভয়ই বনগাঁর শক্তিগড় এলাকার বাসিন্দা এবং বনগাঁ দীনবন্ধু মহাবিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বনগাঁ হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আহত বলরাম তার প্রেমিকা শিউলির সিঁথিতে নিজের রক্ত দিয়ে রাঙিয়ে দেন। প্রেমের এ দৃশ্য উপভোগ করেন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও রোগীরা সবাই।

এ ঘটনার পরে অবশ্য ওই প্রেমিক যুগলের বিয়ে হয়। নববধূ শিউলিকে ঘরেও তুলে নিয়েছে বলরামের পরিবার। অন্যদিকে, থানায় অভিযোগ করা হয়েছে, শিউলির পরিবারের বিরুদ্ধে।

বেশ কয়েক বছর ধরেই বলরাম ও শিউলির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। কিন্ত, এই ভালোবাসায় প্রথম থেকেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় শিউলির পরিবার। শিউলির পরিবার কখনোই বলরামের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি। ফলে বলরাম ও শিউলির এই দুই পরিবারের মধ্যে অশান্তিও সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায় তাতে করে স্থানীয় বাসিন্দাদের চেষ্টায় দুই পরিবারের মধ্যে একটা মধ্যস্থতা করার চেষ্টাও করা হয়। তবে কোনো কিছুতেই কোনো ফল মেলেনি।

জানা যায়, শিউলির বাবা প্রদীপ বিশ্বাস পেশায় একজন শিক্ষক। সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বলরামকে বাড়িতে ডেকে নেন প্রদীপ। এরপর তিনি বলরামকে সরাসরি সোজাসাপ্টা ভাষায় জানিয়ে দেন, আর শিউলির আশেপাশে না দেখেন এবং তিনি যেন শিউলির জীবন থেকে দূরে সরে যান।

কিন্তু, ঘটনা ঘটলো উল্টো শিউলির বাবার ওই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বলরাম সাফ জানিয়ে দেন, তিনি এটা কিছুতেই এমনকি কখনোই করতে পারবে না। কারণ তিনি শিউলিকে নিজের থেকেও অনেক বেশি ভালোবাসেন। এই কথা বলার পরপরই শিউলির বাবা সহ তার পরিবারের লোকজন বলরামকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। মারধরের এক পর্যায়ে বলরাম মাথায় গুরুতর আঘাত পায়।

বলরামের মারধরের খবর পেয়েই তার পরিবার সেখান থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় বলরামকে উদ্ধার করে সোজা বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই ভর্তি করা হয় বলরামকে। পাশাপাশি শিউলির বাবা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে বনগাঁ থানাতেও অভিযোগ দায়ের করে বলরামের পরিবার।

বলরামকে যখন মারধর করার সে সময় বাড়িতে ছিলেন না প্রেমিকা শিউলি। পরে বাড়িতে এসে ঘটনা জানতে পেরেই সোজা চলে যান বনগাঁ হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে নিজের বাবা ও তার পরিবারের কৃতকর্মের জন্য প্রেমিকের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। শিউলি আহত বলরামকে জানিয়ে দেন এখনই তিনি বলরামকে বিয়ে করতে চান। সঙ্গে সঙ্গে আহত বলরাম হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই শিউলিকে বুকে টেনে নেয়। পরে ব্লেড দিয়ে নিজের আঙুল কেটে রক্ত দিয়ে শিউলির সিঁথি রাঙিয়ে দেন।

সোমবার রাতেই হাসপাতালের রোগী, নার্স ও চিকিৎসকদের সাক্ষী রেখে আইনগতভাবে শিউলিকে বিয়েও করে বলরাম। এরপর মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে হাসপাতাল থেকে বন্ডে সই করে নিজের স্ত্রী শিউলিকে নিয়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন বলরাম।

এদিকে এদিনে বলরামের পরিবারের বাড়িতে ছোট পরিসরে বিয়ের একটি অনুষ্ঠানও করে। বলরামের মা মিনতি নাগ বলেন, ‘ছেলে ও ছেলের বউকে ঘরে তুলে নিয়েছি।’

উল্লেখ্য, বাস্তব কিংবা সিনেমা সব জায়গাতেই প্রেমের সম্পর্কে বাধা বা ভিলেন হয়ে দাঁড়ায় প্রেমিক-প্রেমিকার পরিবার।

Print Friendly, PDF & Email