সংবাদ শিরোনাম
Home / লিড নিউজ / ৯৯৯ তে ফোনে বর আটক, যৌতুক ফেরত!

৯৯৯ তে ফোনে বর আটক, যৌতুক ফেরত!

ক্রাইম প্রতিদিন, ডেস্ক : রাজশাহীর তানোরে তিনটি বিয়ে করার কথা গোপন রেখে চারটি বিয়ে করে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বর আবদুল মান্নান (২৯)। মেয়েপক্ষ সরকারের টোল ফ্রি ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি জানায়। পরে তানোর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

সেই সঙ্গে বর যৌতুকের ৪০ হাজার টাকা মেয়েপক্ষকে ফেরত দিয়ে রাতভর থানায় দেনদরবার শেষে আপস মীমাংসায় রক্ষা পায়। পুলিশ জানায়, পবা উপজেলার বড়গাছি গ্রামের মৃত জসিম উদ্দীন মিস্ত্রির ছেলে আবদুল মান্নান এর আগে তিনটি বিয়ে করেন এবং তিনটি বউকেই তালাক দেন। এর মধ্যে এক বউয়ের একটি মেয়েসন্তান রয়েছে। এসব কথা গোপন রেখে চতুর্থবারের মতো তার নিজ এলাকার ঘটকের মাধ্যমে বিয়ে করেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার বানিয়াল গ্রামের মৃত লখিম উদ্দীনের মেয়ে সম্পা খাতুনকে (১৮)।

এই বিয়েতে বর আবদুল মান্নান ৭৫ হাজার টাকা বাঁকিতে দেনমোহর বেঁধে মেয়েপক্ষের কাছ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা যৌতুক নেয়। মেয়েপক্ষ বরকে ৪০ হাজার টাকাসহ মেয়েকে চার আনা স্বর্ণ দেয়।

গত বুধবার বিকালে বিয়ে হয়। সেই দিনই আবদুল মান্নান তার নতুন বউ সম্পাকে নিয়ে নিজ বাড়ি বড়গাছিতে চলে যায়। বিয়ের একদিন পর গত বৃহস্পতিবার মেয়েপক্ষের লোকজন মেয়েকে আনতে যান। সেখানে গিয়ে বর আবদুল মান্নানের পূর্বের তিনটি বিয়ে ও সন্তানের রয়েছে এসব কথা জেনে যায়।

বিষয়টি মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে কিছু বুঝতে না দিয়ে কৌশলে তারা মেয়ে ও মেয়ের জামাই মান্নানকে নিয়ে তানোর বানিয়াল গ্রামের চলে আসেন। পরে মেয়েপক্ষের লোকজন শনিবার বিষয়টি ‘৯৯৯’ এ ফোন করে এ ঘটনাটি জানায়।

তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে তানোর থানার ওসিকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এরপর তানোর থানার এএসআই কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ওইদিন বিকালে বানিয়াল গ্রাম থেকে নতুন বর আবদুল মান্নানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে বিয়ের ঘটক শাহীন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

অনেক নাটকের পর রাতে ছেলেপক্ষের লোকজন থানায় এসে যৌতুকের ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে উভয়পক্ষের সম্মতিক্রমে তালাক হয়। এ রকম কাজ আর করব না মর্মে থানায় মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পায় বর।

তানোর থানার এএসআই কামরুজ্জামান বলেন, মেয়ের বাবা নেই। মেয়েপক্ষ আসলে গরিব। ঘটক শাহীন মেয়ের মাসহ অন্য সদস্যদের ভুলভাল বুঝিয়ে বিয়েতে রাজি করিয়েছে। ঘটকের কথা বিশ্বাস করে মেয়ে সম্পাকে বিয়ে দেয়। ধারদেনা করে যৌতুকের ৪০ হাজার টাকা দিয়েছিল। বর প্রতারক বুঝতে পেরে ‘৯৯৯’ নম্বরে কল করে। ছেলে ও মেয়ের অভিভাবকরা রাতে বসে বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলে।

তানোর থানার ওসি রেজাউল ইসলাম বলেন, উভয়পক্ষ বসে বিষয়টি সমাধান করেছে। থানায় কোনো মামলা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পুলিশি সেবা পেতে জাতীয় হেল্প ডেস্ক হিসেবে জরুরি সেবায় ৯৯৯ নম্বর চালু করা হয়। টোল ফ্রি হিসেবে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে নাগরিকরা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স-সেবা নিতে পারবেন। এ জন্য গ্রাহকের কোনো রকম খরচ লাগবে না।

আরও পড়ুন.......

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
  • 8
    Shares